📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 পরিচয়

📄 পরিচয়


উসমান বিন আফফান বিন আবুল আস বিন উমাইয়া বিন আবদে শামস আবু আবদুল্লাহ আল-কুরাশি আল-উমাবি。
• তিনি প্রথমসারির ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন। তিনি সৌভাগ্যবান সেই ১০ জনের একজন যাদের ব্যাপারে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে।
• তিনি দুইবার হিজরত করেছেন। নিজের পরিবার-পরিজন নিয়ে হিজরত করার সৌভাগ্য তিনিই সবার আগে লাভ করেছেন।
• তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুই মেয়ের স্বামী। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কাছে মেয়ে রুকাইয়াকে বিয়ে দিয়েছিলেন। যিনি বদরযুদ্ধের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই কারণে তার সেবা-শুশ্রূষার জন্য তিনি বদরযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তবুও তিনি বদরযুদ্ধের গনিমতের একটি অংশ পেয়েছিলেন এবং এই যুদ্ধে অংশগ্রহণের সাওয়াব লাভ করেছেন। রুকাইয়ার মৃত্যুর পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথে উম্মে কুলসুমকে বিয়ে দেন। এই কারণে তাকে যুন-নুরাইন উপাধি দেওয়া হয়।
• তাবুকযুদ্ধে মুসলমানদের প্রস্তুতির জন্য বড় ধরনের সহযোগিতা করেন।
• মদিনার 'বিরে রুমা' ক্রয় করে মুসলমানদের জন্য তা ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নববি সম্প্রসারণের প্রতি উৎসাহ দিলে তিনি মসজিদের পাশের একটি জমি কিনে তা মসজিদের সাথে যুক্ত করে দেন।

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 তাকওয়া

📄 তাকওয়া


হজরত উসমান রা. এক খুতবায় বলেন, লোকসকল, আপনারা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করুন। কারণ আল্লাহর ভয় হলো মহাসাফল্যের মাধ্যম। যে নিজের হিসাব গ্রহণ করে, মৃত্যুপরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে, কবরের অন্ধকার জগতের জন্য আল্লাহর নুর গ্রহণ করে, সে-ই সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। মানুষ যেন এ ব্যাপারে ভয় করে যে, দুনিয়ায় চক্ষুষ্মান হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা হাশরের ময়দানে তাকে অন্ধ করে ওঠাতে পারেন। জেনে রাখুন, আল্লাহ তাআলা যার বন্ধু হয়ে যান তার কোনোকিছুর ভয় নেই। আর আল্লাহ হন যার শত্রু, সে আর কার ওপর ভরসা রাখতে পারে?

টিকাঃ
[২২৬] আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৭/২৩

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 মৃত্যুপরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি

📄 মৃত্যুপরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি


হজরত মুজাহিদ বলেন, উসমান রা. একদিন খুতবায় বলেন, হে বনি আদম! জেনে রাখুন, মৃত্যুর ফেরেশতাকে আপনার ওপর নিয়োজিত করে দেওয়া হয়েছে। আপনি যতদিন দুনিয়াতে আছেন ততদিন সে আপনার পেছনে লেগেই থাকবে। আপনাকে ছেড়ে সে অন্য কারও কাছে যাবে না। সবসময় সে আপনাকে চোখে চোখে রাখছে। সুতরাং সতর্ক থাকুন এবং প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। কখনো উদাসীন হবেন না, কারণ নিয়োজিত ফেরেশতা আপনার ব্যাপারে কখনো উদাসীন হয় না।
হে বনি আদম, জেনে রাখুন, যদি আপনি নিজের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েন এবং মৃত্যুর প্রস্তুতি গ্রহণ না করেন, তাহলে অন্য কেউ আপনার প্রস্তুতি নিয়ে দেবে না। অবশ্যই আপনাকে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে। সুতরাং নিজেই নিজের প্রস্তুতি নিন। নিজের প্রস্তুতি অন্যের ওপর ছেড়ে দেবেন না।

টিকাঃ
[২২৭] আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৭/২৩৪

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 একজন মুসলমান দুনিয়াকে কীভাবে দেখবে

📄 একজন মুসলমান দুনিয়াকে কীভাবে দেখবে


উসমান রা. এক খুতবায় বলেন, আল্লাহ তাআলা এই দুনিয়াতে আপনাদেরকে পাঠিয়েছেন যেন এর মাধ্যমে আপনারা পরকাল তালাশ করতে পারেন। এজন্য দুনিয়া দেননি যে, তা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে থাকবেন। জেনে রাখুন, একদিন এই দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে কিন্তু পরকাল বাকি থাকবে। সুতরাং ধ্বংসশীল দুনিয়া যেন আপনাদেরকে ধোঁকায় না ফেলে দেয়, চিরস্থায়ী পরকাল থেকে বিমুখ করে না রাখে। ধ্বংসশীল বিষয়ের ওপর চিরস্থায়ী বিষয়কে প্রাধান্য দিন। কারণ এই দুনিয়া একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, আমাদের সকলকে আল্লাহর নিকট ফিরে যেতে হবে।
আল্লাহ তাআলাকে ভয় করুন, কারণ আল্লাহর ভয় আজাব থেকে রক্ষা করবে। আল্লাহ তাআলা যেকোনো সময় যুগের অবস্থা পরিবর্তন করে দিতে পারেন, সুতরাং সতর্ক থাকুন। সবসময় একতাবদ্ধ থাকবেন, দলাদলি করে বিভক্ত হবেন না। এরপর তিনি তেলাওয়াত করেন,
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاء فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوْبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَانًا وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ( وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُوْلَبِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধরো, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যা আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন। তোমরা ছিলে পরস্পরের শত্রু। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে এখন তোমরা তার অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা তো অগ্নিকুণ্ডের প্রান্তে ছিলে, তিনি তোমাদেরকে তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তার নিজের নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা হেদায়েতপ্রাপ্ত হতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত, যারা আহ্বান জানাবে কল্যাণের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভালো কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে। আর তারাই হলো সফলকাম। (সুরা আলে ইমরান, ১০৩-১০৪)

টিকাঃ
[২২৮] আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৭/২৩৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00