📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 দুনিয়ার সৌন্দর্যে আনন্দ

📄 দুনিয়ার সৌন্দর্যে আনন্দ


উমর রা. বলেন, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য যা সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে দিয়েছেন, আমরা তা পেয়ে আনন্দিত না হয়ে পারি না। হে আল্লাহ! আপনার কাছে প্রার্থনা এটাই যে, আমি যেন সেই আকর্ষণীয় জিনিসের সদব্যবহার করতে পারি।

টিকাঃ
[২১০] ইমাম বুখারি ৬৪৪১ নম্বর বর্ণনার পূর্বে তালিকাসূত্রে এটা উল্লেখ করেছেন।

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 সেনাপতির প্রতি নসিহত

📄 সেনাপতির প্রতি নসিহত


উমর রা. হজরত উতবা বিন গাজওয়ান রা.-এর প্রতি এক চিঠিতে বলেন, আপনাকে যে বিষয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সে ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। সাবধান, অহংকার যেন আপনাকে এমন অবস্থার দিকে টেনে নিয়ে না যায় যা দ্বীনি ভাইদের সাথে আপনার সম্পর্ককে নষ্ট করে দেবে। আপনি তো আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য লাভ করে লাঞ্ছনার অবস্থা থেকে সম্মানিত অবস্থায় উঠে এসেছেন। দুর্বলতার পর শক্তিশালী হয়েছেন। এমনকি আপনি প্রতাপশালী আমির হয়ে গেছেন। এমন ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন লোকেরা যার আনুগত্য করে। আপনি বলেন আর লোকেরা তা শ্রবণ করে। আপনি নির্দেশ দেন আর তা পালন করা হয়।
এই নেয়ামত পেয়ে যদি আপনি আপনার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম না করেন এবং আপনার অনুগতদের ওপর জুলুমের খড়গ না চালান তাহলে এই নেয়ামত কতই-না মূল্যবান। পাপাচার থেকে যেমন সতর্ক থাকেন, একইভাবে নেয়ামতের ব্যাপারেও সতর্ক থাকবেন। গুনাহের চেয়ে নেয়ামতের ব্যাপারেই অধিক আশঙ্কা হয়, কারণ তা আপনাকে ধোঁকা দিয়ে এমন অবস্থায় ফেলে দিতে পারে, যার ফলে আপনার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। তেমন অবস্থায় নিপতিত হওয়া থেকে আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। তিনি যেন আমাদের উভয়কে তা থেকে রক্ষা করেন।
বহু মানুষ এমন রয়েছে, যারা প্রথমে আল্লাহর প্রতি অগ্রসর ছিল কিন্তু যখন তাদের সামনে দুনিয়া পেশ করা হয়েছে তখন তারা দুনিয়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে গেছে। তাই আমার নিবেদন হচ্ছে, আপনি আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট হোন। দুনিয়া যেন আপনার উদ্দেশ্য না হয়। জালেমদের পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

টিকাঃ
[২১১] তাবারি সূত্রে মাহমুদ শাকের কৃত আল-ফারুক ওয়া উসরাতুহু, ৫৮৭

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের শর্ত

📄 রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের শর্ত


উমর রা. যখন কাউকে গভর্নর নিযুক্ত করতেন তখন তাকে একটি অঙ্গীকারনামা লিখে দিতেন এবং সে ব্যাপারে মুহাজিরদের একাংশকে সাক্ষী হিসাবে রাখতেন। নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নরের জন্য হজরত উমরের শর্তগুলো ছিল-
* গভর্নর তুর্কি ঘোড়ায় চড়তে পারবেন না।
* উন্নতমানের খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না।
* মিহি-মসৃণ পোশাক পরতে পারবেন না।
* প্রয়োজনগ্রস্তদের জন্য সবসময় গভর্নরের দরজা খোলা থাকবে।
* নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নর কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে শাস্তির উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন。

টিকাঃ
[২১২] আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ৭/১৪৮

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 পরবর্তী খলিফার প্রতি উমরের অসিয়ত

📄 পরবর্তী খলিফার প্রতি উমরের অসিয়ত


উমর রা. বলেন, আমি আমার পরবর্তী খলিফাকে অসিয়ত করছি, আপনি আল্লাহ তাআলাকে ভয় করুন। প্রথম সারির মুহাজিরদের হক ও মর্যাদার প্রতি লক্ষ রাখবেন। আপনার প্রতি অসিয়ত, শহরের বাসিন্দাদের সাথে উত্তম আচরণ করবেন। কারণ তারা ইসলামের সাহায্যকারী এবং শত্রুদের ক্রোধ উদ্রেককারী। আমরা তাদের থেকেই রাষ্ট্রীয় কর গ্রহণ করে থাকি। সাবধান, যেন তাদের সন্তুষ্টির ভিত্তিতেই কেবল তাদের সম্পদের উদ্ধৃতাংশ গ্রহণ করা হয়।
খলিফার প্রতি আমার অসিয়ত, তিনি যেন আনসারদের প্রতি খেয়াল রাখেন, যাদের নিবাস মদিনায় এবং তারা মুমিন। তাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল খলিফা যেন তাদের অবদানগুলো মূল্যায়ন করেন এবং কেউ মন্দ কাজ করলে তা এড়িয়ে যান।
বেদুইনদের সাথে উত্তম আচরণ করুন। কারণ তারাই হলো আরবের আসল সম্প্রদায় এবং ইসলামের মূল। তাদের ধনীদের থেকে অতিরিক্ত সম্পদ গ্রহণ করে তাদের দরিদ্র শ্রেণির ওপরই তা ব্যয় করুন। আমি অসিয়ত করছি, জিম্মিদের প্রতিও খেয়াল রাখুন, যারা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জিম্মায় রয়েছে। তাদেরকে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো পূরণ করুন। লক্ষ রাখবেন, সাধ্যের বাইরে যেন তাদের ওপর কিছু চাপিয়ে না দেওয়া হয়। তাদের স্বার্থের জন্য যেন লড়াই করা হয়。

টিকাঃ
[২১৩] তাবাকাতে ইবনে সাদ, ৩/১৮১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00