📄 ইবাদতকারী
শিফা বিনতে আবদুল্লাহ কিছু যুবককে দেখতে পান যে, তারা ধীরে ধীরে হাঁটছে আর আস্তে আস্তে কথা বলছে। তখন তিনি তাদের বলেন, তোমরা কেন এমন করছ? তারা বলে, আমরা হলাম ইবাদতকারী। তিনি তখন বলেন, তোমরা নিজেদের ইবাদতকারী বলছ অথচ প্রকৃত ইবাদতকারী তো হলেন হজরত উমর। তার অবস্থাটা দেখো, আল্লাহর কসম, তিনি যখন কথা বলতেন তখন দ্রুত বলতেন। যখন হাঁটতেন তখন দ্রুত হাঁটতেন। আর যখন কাউকে আঘাত করতেন তখন তাকে ব্যথিত করে ফেলতেন।
টিকাঃ
[১৬৬] তাবাকাতে ইবনে সাদ, ৩/১৫৪
📄 মনের রোগ-ব্যাধির চিকিৎসা
উমর রা. লোকজনকে জড়ো করে মিম্বারে আরোহণ করেন। আল্লাহ তাআলার প্রশংসা এবং তার গুণকীর্তন করে বলেন, লোকসকল! এমনও দিন গেছে যখন খাওয়ার মতো কিছুই জোটেনি। বনু মাখযুমে আমার মামারা ছিলেন, আমি তাদের জন্য মিঠা পানি নিয়ে আসতাম, এর বিনিময়ে তারা আমাকে এক মুঠো কিশমিশ দিতেন। এতটুকু বলেই তিনি মিম্বার থেকে নেমে যান। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আমিরুল মুমিনিন, এ কথা বলে আপনি কী বোঝাতে চাচ্ছিলেন? হজরত উমর রা. তখন বলেন, কথাটা বলার পর আমার মধ্যে কিছুটা অহংবোধ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি সামনে কথা না বাড়িয়ে মিম্বার থেকে নেমে সে অহংবোধ দূর করতে চেয়েছি।
টিকাঃ
[১৬৭] তাবাকাতে ইবনে সাদ, ৩/১৫৬
📄 দোষত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া
উমর রা. বলেন, যে আমার দোষত্রুটি ধরিয়ে দেয় সেই আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি।
টিকাঃ
[১৬৮] তাবাকাতে ইবনে সাদ, ৩/১৫৬
📄 বংশ এবং আমল
উমর রা. বলেন, আল্লাহর শপথ, আমরা দুনিয়াতে যে মর্যাদা লাভ করেছি এবং পরকালে যে সাওয়াবের আশা রাখি তা কেবল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমেই রাখি। তিনি ছিলেন আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। তার সম্প্রদায় আরবের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্প্রদায়। এরপর পর্যায়ক্রমে মর্যাদার স্তর অনুযায়ী অন্যান্য সম্প্রদায়ের অবস্থান নির্ণীত হবে। গোটা আরবই আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমেই মর্যাদা লাভ করেছে।
আল্লাহর কসম, অনারব লোকেরা পরকালে যদি নিজেদের আমল নিয়ে আসে আর আমরা আমল ছাড়াই গিয়ে হাজির হই, তাহলে কেয়ামতের দিন আমাদের পরিবর্তে তারাই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধিক নিকটবর্তী হবে। আখেরাতে আসলে ব্যক্তির আত্মীয়তার প্রতি লক্ষ করা হবে না; বরং তার আমলের প্রতি লক্ষ করা হবে। যার আমল তাকে পিছিয়ে দেবে, বংশ তাকে অগ্রগামী করতে পারবে না।
টিকাঃ
[১৬৯] তাবাকাতে ইবনে সাদ, ৩/১৫৬