📄 জাহেলি যুগের দুআ
কিছু সাহাবি হজরত উমর রা.-কে বলেন, এখনকার মানুষের অবস্থা কীরকম হয়ে গেল? জাহেলি যুগেও তো মজলুমের দুআ কবুল হতো কিন্তু এখন মজলুমরা দুআ করলে তা কবুল করা হয় না!
হজরত উমর রা. তখন বলেন, তখনকার সময় মানুষকে জুলুম থেকে বিরত রাখার পদ্ধতি ছিল একটা, মজলুমের দুআ কবুলের মাধ্যমেই জুলুম প্রতিহত করা হতো, মজলুম যে দুআ করে আল্লাহ তাআলা তা কবুল করে নিতেন। ফলে এই ভয়ে মানুষ জুলুম থেকে বিরত থাকত। কিন্তু এখন মানুষকে জুলুম থেকে বিরত রাখার পদ্ধতি হয়ে গেছে অনেকগুলো। জুলুম প্রতিহত করার জন্য কুরআনে জালেমের প্রতি বিভিন্ন হুমকি-ধমকি, দণ্ডবিধি ও কিসাসের বিধান চলে আসায় এসবের ওপরই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
টিকাঃ
[১৬১] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/২৭৯
📄 যা মন চাইবে তা-ই কি কিনে ফেলবে?
হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. একবার কিছু গোশত নিয়ে হজরত উমর রা.-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হজরত উমর রা. তখন জিজ্ঞেস করেন, হে জাবের, এগুলো কী? হজরত জাবের রা. বলেন, এই তো, সামান্যকিছু গোশত। গোশত খেতে মন চাচ্ছিল তাই কিনে নিয়ে এলাম। হজরত উমর রা. তখন বলেন, আশ্চর্য, মন চাইলেই কিনে নিয়ে আসবে? তোমার কি ভয় হয় না যে, তুমি সে আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে যাতে বলা হয়েছে,
أَذْهَبْتُمْ طَيِّبَاتِكُمْ فِي حَيَاتِكُمُ الدُّنْيَا
তোমরা তোমাদের সুখ পার্থিব জীবনেই নিঃশেষ করে ফেলেছ। (সুরা আহকাফ, ২০)
টিকাঃ
[১৬২] ইমাম আহমাদ কৃত আয-যুহদ, পৃ. ১৫৩
📄 পৃথিবীর শাসকদের জন্য ভর্ৎসনা
কেয়ামতের দিন আরশের অধিপতির পক্ষ থেকে পৃথিবীর শাসকদের প্রতি ভর্ৎসনা করা হবে, তবে কেবল তারাই রক্ষা পাবে যারা ইনসাফের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপরিচালনা করেছে। সত্য ফয়সালা করেছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃত্তির অনুসরণ করেনি। স্বজনপ্রীতি করেনি। কোনোকিছুর আশা বা ভয়ের মাধ্যমে সে তাড়িত হয়নি। আল্লাহর কিতাবকে যে নিজের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বানিয়েছিল।
টিকাঃ
[১৬৩] ইমাম আহমাদ কৃত আয-যুহদ, পৃ. ১৫৫
📄 ফারায়েজ শিক্ষা করো
উমর রা. বলেন, তোমরা যেভাবে কুরআন শিখে থাকো সেভাবে ফারায়েজ তথা উত্তরাধিকার সম্পত্তির বণ্টন নীতিমালা এবং সুন্নাহসমূহ শিখে নাও।
টিকাঃ
[১৬৪] জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি ২/৪২