📄 উম্মাহর ইসলাহ
উমর রা. বলেন, নিশ্চয়ই নম্রতা বা কঠোরতা, উভয়টির মাধ্যমেই উম্মাহকে সংশোধন করতে হবে। তবে এই নম্রতা হতে হবে যথাযথ, যা দুর্বলতা নয় এবং এই কঠোরতা হতে হবে ইনসাফপূর্ণ, যাতে কারও ওপর জুলুম করা হবে না।
টিকাঃ
[১৫৯] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/২৭৮
📄 পরিচিত দুআ
হজরত উমর রা. এক ব্যক্তিকে বলতে শোনেন, সে দুআ করছে,
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الْأَقَدِّيْنِ
হে আল্লাহ, আপনি আমাকে ওই সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা হবে স্বল্পসংখ্যক।
হজরত উমর রা. তাকে জিজ্ঞেস করেন, এটা আবার কেমন দুআ? লোকটি উত্তরে বলে, আমি তো কুরআনের এই আয়াত শুনেছি,
وَقَلِيلٌ مَّا هُمْ
এমন লোকদের সংখ্যা খুবই কম। (সুরা সদ, ২৪)
অপর এক আয়াতে বলা হয়েছে,
وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ
আমার বান্দাদের অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ। (সুরা সাবা, ১৩)
হজরত উমর রা. তখন বলেন, তোমার জন্য ওই সকল দুআ করা উচিত, যেগুলো সকলের পরিচিত।
টিকাঃ
[১৬০] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/২৭৮
📄 জাহেলি যুগের দুআ
কিছু সাহাবি হজরত উমর রা.-কে বলেন, এখনকার মানুষের অবস্থা কীরকম হয়ে গেল? জাহেলি যুগেও তো মজলুমের দুআ কবুল হতো কিন্তু এখন মজলুমরা দুআ করলে তা কবুল করা হয় না!
হজরত উমর রা. তখন বলেন, তখনকার সময় মানুষকে জুলুম থেকে বিরত রাখার পদ্ধতি ছিল একটা, মজলুমের দুআ কবুলের মাধ্যমেই জুলুম প্রতিহত করা হতো, মজলুম যে দুআ করে আল্লাহ তাআলা তা কবুল করে নিতেন। ফলে এই ভয়ে মানুষ জুলুম থেকে বিরত থাকত। কিন্তু এখন মানুষকে জুলুম থেকে বিরত রাখার পদ্ধতি হয়ে গেছে অনেকগুলো। জুলুম প্রতিহত করার জন্য কুরআনে জালেমের প্রতি বিভিন্ন হুমকি-ধমকি, দণ্ডবিধি ও কিসাসের বিধান চলে আসায় এসবের ওপরই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
টিকাঃ
[১৬১] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/২৭৯
📄 যা মন চাইবে তা-ই কি কিনে ফেলবে?
হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. একবার কিছু গোশত নিয়ে হজরত উমর রা.-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হজরত উমর রা. তখন জিজ্ঞেস করেন, হে জাবের, এগুলো কী? হজরত জাবের রা. বলেন, এই তো, সামান্যকিছু গোশত। গোশত খেতে মন চাচ্ছিল তাই কিনে নিয়ে এলাম। হজরত উমর রা. তখন বলেন, আশ্চর্য, মন চাইলেই কিনে নিয়ে আসবে? তোমার কি ভয় হয় না যে, তুমি সে আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে যাতে বলা হয়েছে,
أَذْهَبْتُمْ طَيِّبَاتِكُمْ فِي حَيَاتِكُمُ الدُّنْيَا
তোমরা তোমাদের সুখ পার্থিব জীবনেই নিঃশেষ করে ফেলেছ। (সুরা আহকাফ, ২০)
টিকাঃ
[১৬২] ইমাম আহমাদ কৃত আয-যুহদ, পৃ. ১৫৩