📄 দুই ধরনের অন্বেষণকারী
উমর রা. বলেন, মানুষের মধ্যে দুই শ্রেণির অন্বেষণকারী রয়েছে। এক শ্রেণির মানুষ কেবল দুনিয়া চায়। সাবধান, তাদের সাথে ওঠাবসা করবে না। কারণ যদি তারা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত দুনিয়া পেয়ে যায় তাহলে তা নিয়েই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আর যদি না পায় তাহলে না পাওয়ার আক্ষেপ ও হতাশায় ধ্বংস হয়ে যাবে। আরেক শ্রেণির মানুষ রয়েছে, যারা আখেরাত অন্বেষণ করে থাকে। তাদের সাক্ষাৎ পেলে তাদের সাথে আমলের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়বে।
টিকাঃ
[১৫৭] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/১৩৮
📄 নিজের ব্যাপারে উদাসীন হবে না
উমর রা. বলেন, মানুষ যেন তোমাকে নিজের ব্যাপারে উদাসীন না করে দেয়। কারণ তোমার পরিণাম তোমাকেই ভোগ করতে হবে, তারা ভোগ করবে না। গুরুত্বহীনভাবে অবহেলায় দিন কাটাবে না। কারণ তুমি তাতে যা করছ তার সবকিছুই সংরক্ষিত হয়ে যাচ্ছে।
কখনো মন্দ কাজ করে ফেললে তার পরপরই কোনো ভালো কাজ করে নেবে, ভালো কাজ মন্দ কাজকে মুছে দেয়। মন্দ কাজের পর যে ভালো কাজ করা হয়, তা যেভাবে মন্দকে মিটিয়ে দেয়, অন্য কোনোকিছু সেভাবে কোনোকিছুকে মিটিয়ে দেয় না।
টিকাঃ
[১৫৮] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/১৪৩
📄 উম্মাহর ইসলাহ
উমর রা. বলেন, নিশ্চয়ই নম্রতা বা কঠোরতা, উভয়টির মাধ্যমেই উম্মাহকে সংশোধন করতে হবে। তবে এই নম্রতা হতে হবে যথাযথ, যা দুর্বলতা নয় এবং এই কঠোরতা হতে হবে ইনসাফপূর্ণ, যাতে কারও ওপর জুলুম করা হবে না।
টিকাঃ
[১৫৯] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/২৭৮
📄 পরিচিত দুআ
হজরত উমর রা. এক ব্যক্তিকে বলতে শোনেন, সে দুআ করছে,
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ الْأَقَدِّيْنِ
হে আল্লাহ, আপনি আমাকে ওই সকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা হবে স্বল্পসংখ্যক।
হজরত উমর রা. তাকে জিজ্ঞেস করেন, এটা আবার কেমন দুআ? লোকটি উত্তরে বলে, আমি তো কুরআনের এই আয়াত শুনেছি,
وَقَلِيلٌ مَّا هُمْ
এমন লোকদের সংখ্যা খুবই কম। (সুরা সদ, ২৪)
অপর এক আয়াতে বলা হয়েছে,
وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ
আমার বান্দাদের অল্পসংখ্যকই কৃতজ্ঞ। (সুরা সাবা, ১৩)
হজরত উমর রা. তখন বলেন, তোমার জন্য ওই সকল দুআ করা উচিত, যেগুলো সকলের পরিচিত।
টিকাঃ
[১৬০] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/২৭৮