📄 বন্ধু-শত্রুর পরিচয় জানা
উমর রা. বলেন, কখনো অনর্থক কথা বলবে না। শত্রুদের চিনে রাখবে, এমনকি বন্ধুদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকবে, তবে যারা বিশ্বস্ত বন্ধু তাদের বিষয়টি ভিন্ন। জেনে রাখো, বিশ্বস্ত তো কেবল ঐ ব্যক্তি, যে প্রকৃতপক্ষেই নিজের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার ভয় লালন করে। পাপাচারীদের সাথে চলাফেরা করবে না, তারা তোমাকে নিজের মধ্যে থাকা পাপাচার শেখাতে থাকবে। সাবধান, তাকে কখনো তোমার গোপন বিষয় জানাবে না।
যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে তুমি কেবল তাদের সঙ্গেই তোমার বিষয়াবলি নিয়ে পরামর্শ করবে।
📄 দুই ধরনের অন্বেষণকারী
উমর রা. বলেন, মানুষের মধ্যে দুই শ্রেণির অন্বেষণকারী রয়েছে। এক শ্রেণির মানুষ কেবল দুনিয়া চায়। সাবধান, তাদের সাথে ওঠাবসা করবে না। কারণ যদি তারা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত দুনিয়া পেয়ে যায় তাহলে তা নিয়েই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আর যদি না পায় তাহলে না পাওয়ার আক্ষেপ ও হতাশায় ধ্বংস হয়ে যাবে। আরেক শ্রেণির মানুষ রয়েছে, যারা আখেরাত অন্বেষণ করে থাকে। তাদের সাক্ষাৎ পেলে তাদের সাথে আমলের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়বে।
টিকাঃ
[১৫৭] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/১৩৮
📄 নিজের ব্যাপারে উদাসীন হবে না
উমর রা. বলেন, মানুষ যেন তোমাকে নিজের ব্যাপারে উদাসীন না করে দেয়। কারণ তোমার পরিণাম তোমাকেই ভোগ করতে হবে, তারা ভোগ করবে না। গুরুত্বহীনভাবে অবহেলায় দিন কাটাবে না। কারণ তুমি তাতে যা করছ তার সবকিছুই সংরক্ষিত হয়ে যাচ্ছে।
কখনো মন্দ কাজ করে ফেললে তার পরপরই কোনো ভালো কাজ করে নেবে, ভালো কাজ মন্দ কাজকে মুছে দেয়। মন্দ কাজের পর যে ভালো কাজ করা হয়, তা যেভাবে মন্দকে মিটিয়ে দেয়, অন্য কোনোকিছু সেভাবে কোনোকিছুকে মিটিয়ে দেয় না।
টিকাঃ
[১৫৮] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/১৪৩
📄 উম্মাহর ইসলাহ
উমর রা. বলেন, নিশ্চয়ই নম্রতা বা কঠোরতা, উভয়টির মাধ্যমেই উম্মাহকে সংশোধন করতে হবে। তবে এই নম্রতা হতে হবে যথাযথ, যা দুর্বলতা নয় এবং এই কঠোরতা হতে হবে ইনসাফপূর্ণ, যাতে কারও ওপর জুলুম করা হবে না।
টিকাঃ
[১৫৯] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/২৭৮