📄 নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা থেকে বিরত থাকবে
উমর রা. একদিন খুতবায় বলেন, সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি আমাদেরকে ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং ঈমানের মাধ্যমে মর্যাদাবান করেছেন, তাঁর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠিয়ে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তার মাধ্যমে আমাদেরকে গোমরাহি থেকে হেদায়েত দান করেছেন। বিভক্তি থেকে আমাদের রক্ষা করে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। আমাদের মাঝে তিনি ভালোবাসা ও সম্প্রীতি তৈরি করে দিয়েছেন। শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয় দান করেছেন। দেশে দেশে আমাদের ক্ষমতাকে মজবুত করেছেন। ইসলামের মাধ্যমে আমাদের পরস্পরকে ভাই ভাই বানিয়েছেন।
এই সকল নেয়ামতের কারণে আপনারা আল্লাহর প্রশংসা করুন। তাঁর নিকট অধিক নেয়ামত প্রার্থনা করুন এবং এগুলোর কৃতজ্ঞতা আদায় করুন। কেননা বিরোধীদের ওপর বিজয় দান করে আল্লাহ তাআলা আপনাদের সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন। সুতরাং সকল ধরনের পাপাচার এবং নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা থেকে আপনারা বিরত থাকুন। যেসব সম্প্রদায় আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত পেয়েও অকৃতজ্ঞ হয়েছে, এরপর তাওবাও করেনি, এই অকৃতজ্ঞ সম্প্রদায়গুলোর বেশিরভাগই আল্লাহর ক্ষোভের শিকার হয়েছে, তাদের মানসম্মান ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং শত্রুদেরকে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
টিকাঃ
[১১৭] আল-ইকদুল ফারিদ, ৪/৫৯
📄 পাপাচার পরিত্যাগ করাই কল্যাণকর
উমর রা. বলেন, তোমরা নফসকে তার চাহিদা ও প্রবৃত্তি পূরণ করা থেকে বিরত রাখবে। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবে, কেননা নফস বেশিরভাগ সময় প্রবৃত্তির দিকে ধাবিত হয়ে থাকে। যদি তোমরা নফসকে তার চাহিদা থেকে বিরত না রাখো তাহলে সে তোমাদেরকে চূড়ান্ত অনিষ্টের দিকে নিয়ে যাবে।
নিশ্চয় হক এনে থাকে প্রশংসনীয় পরিণাম আর বাতিলের পরিণাম হয় অত্যন্ত মন্দ। বারবার অপরাধ করে তার পরপরই তাওবা করার তুলনায় গুনাহ না করা উত্তম। এমন বহু দৃষ্টিপাত রয়েছে, যা মানুষের অন্তরে নফসের চাহিদা উসকে দেয় আর ক্ষণিকের সেই চাহিদাই ব্যক্তির জন্য দীর্ঘ অনুশোচনার কারণ বনে যেতে পারে।
টিকাঃ
[১১৮] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/১৩৮
📄 বিষয় তিন ধরনের
উমর রা. বলেন, বিষয় মোট তিন ধরনের। এক ধরনের বিষয় হলো, যার সঠিক হওয়ার দিকটা সুস্পষ্ট। তুমি সেগুলোর অনুসরণ করে যাবে। আরেক ধরনের বিষয় রয়েছে এমন, যার ক্ষতির দিকটা সুস্পষ্ট। তুমি তা থেকে বিরত থাকবে। তৃতীয় এক ধরনের বিষয় রয়েছে, যা ভালো নাকি মন্দ তা অস্পষ্ট, তুমি সেটা আল্লাহর ওপর সোপর্দ করে দেবে।
টিকাঃ
[১১৯] আল-ইকদুল ফারিদ, ৪/৪০৫
📄 ইখলাস বা আমলের উদ্দেশ্য
উমর রা. এক খুতবায় বলেন, লোকসকল! একটা সময় আমি ধারণা করতাম, যারা কুরআন কারিম তেলাওয়াত করে তাদের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে কেবল আল্লাহ তাআলা এবং তার নিকট থাকা প্রতিদান। কিন্তু এখন আমার মনে হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নয় বরং মানুষের থেকে কোনো স্বার্থ হাসিলের জন্য একদল লোক কুরআন তেলাওয়াত করে থাকে। সাবধান!
আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্যই তেলাওয়াত করবে, কেবল তাঁর জন্যই আমল করবে।
কুরআনের ব্যাপারে আমরা তোমাদের চেয়ে ভালো জানি। যখন ওহি অবতীর্ণ হতো তখন আমরা বিদ্যমান ছিলাম। আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝেই ছিলেন। কিন্তু এখন তো ওহি আসার দরজা বন্ধ হয়ে গেছে আর নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বিদায় নিয়েছেন। জেনে রাখো, আমি যা জানি তোমাদেরকে কেবল সেটাই বলি। যে ব্যক্তি আমাদের সামনে ভালো ভালো কাজ করে আমরা তার ব্যাপারে ভালো ধারণা পোষণ করি এবং তার প্রশংসা করি। আর যে ব্যক্তি আমাদের সামনে মন্দ কাজ করে আমরা তার প্রতি খারাপ ধারণা করি এবং তার প্রতি বিদ্বেষী হয়ে যাই।
টিকাঃ
[১২০] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ৩/১৩৮