📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 পরিচয়

📄 পরিচয়


নাম : উমর ইবনুল খাত্তাব ইবনে নুফাইল ইবনে আবদুল উজ্জা ইবনে রইয়াহ ইবনে কুরায ইবনে রযাহ ইবনে আদি ইবনে কাব ইবনে লুআই। হজরত উমর ছিলেন কুরাইশ বংশীয়।
জন্ম : হস্তীবাহিনীর ঘটনার ১৩ বছর পর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
হামযা রা.-এর ইসলাম গ্রহণের কয়েক দিন পরই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইসলাম গ্রহণের পর থেকেই তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সান্নিধ্যে অবস্থান করা শুরু করেন। ইসলামের প্রতিটি যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উপাধি প্রদান করেছিলেন 'আল-ফারুক'। তিনি সেই ১০ জন সৌভাগ্যবানের একজন যাদের ব্যাপারে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে।
আবু বকর রা. তাকে মুসলিম উম্মাহর পরবর্তী খলিফা হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করেন। অত্যন্ত দক্ষতা ও কৃতিত্বের সাথে তিনি মুসলিম উম্মাহর শাসনভার পরিচালনা করেন। তাকে আমিরুল মুমিনিন বলে ডাকা হতো।
তার শাসনামলে মুসলমানগণ বিরাট বিরাট অঞ্চল জয় করেন। সামরিক বিবেচনা যা ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি দুআ করতেন,
اللهم إني أسألك شهادة في سبيلك وموتا في بلد رسولك.
হে আল্লাহ! আমি আপনার রাস্তার শাহাদাত কামনা করি এবং আপনার রাসুলের শহরে মৃত্যু চাই।
আল্লাহ তাআলা তার দুআ কবুল করেছিলেন।

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি সতর্ক থাকুন

📄 আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি সতর্ক থাকুন


হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বসরায় নিযুক্ত গভর্নর উতবা বিন গাজওয়ানকে প্রেরিত পত্রে লেখেন-
পরসমাচার, আপনি এখন গভর্নর পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। আপনি কিছু বললে জনসাধারণ তা মান্য করবে। আদেশ করলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। এটা কতই-না উত্তম নেয়ামত, যদি তা আপনাকে আপনার ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের ওপর অহংকারের দিকে ঠেলে না দেয় এবং আপনার অধস্তনদের ওপর আপনাকে জুলুমের প্রতি বাধ্য না করে। তাই বিপদ-আপদের ব্যাপারে আপনি যতটা সতর্ক থাকেন তার চেয়ে অধিক সতর্ক থাকবেন এই নেয়ামতের ব্যাপারে। আপনি কখনো এমন ভুল করবেন না, যা ক্ষমা করা হবে না এবং এমন হোঁচট খাবেন না, যা থেকে উঠে দাঁড়াতে পারবেন না। ওয়াস-সালাম।

টিকাঃ
[৯৩] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/১১১

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 ছেলের প্রতি অসিয়ত

📄 ছেলের প্রতি অসিয়ত


হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. তার ছেলে আবদুল্লাহ রা.-এর প্রতি এক চিঠিতে বলেন, পরসমাচার, জেনে রাখো, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে আল্লাহ তাআলাই তাকে রক্ষা করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। যে ব্যক্তি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে আল্লাহ তার নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার রাস্তায় দান করে আল্লাহ তাকে উত্তম বিনিময় দান করেন।
সুতরাং তুমি তাকওয়ার মাধ্যমে নিজের অন্তরকে আবাদ করো। একে তোমার চোখের আলোকবর্তিকা বানাও। কারণ যে ব্যক্তির কোনো নিয়ত নেই তার আমলের কোনো মূল্য নেই। যে ব্যক্তির মধ্যে আল্লাহর কোনো ভয়ভীতি নেই তার কোনো কল্যাণ নেই। যে ব্যক্তি পুরাতন হওয়ার কোনো পরোয়া করে না তার নিকট নতুন বলতে কিছু নেই।

টিকাঃ
[৯৪] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/১১৪

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 দুআ

📄 দুআ


উমর রা. সাধারণত খুতবায় সব শেষে এই দুআ করতেন,
اللَّهُمَّ لَا تَدَعْنِي فِي غَمْرَةٍ وَلَا تَأْخُذْنِي فِي غِرَّةٍ وَلَا تَجْعَلْنِي مَعَ الغَافِلِين.
হে আল্লাহ! আমাকে বিপদ-আপদে ফেলবেন না, আকস্মিক মৃত্যু দেবেন না এবং আমাকে উদাসীনদের দলভুক্ত করবেন না।

টিকাঃ
[৯৫] আল-ইকদুল ফারিদ, ৩/১৮৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00