📄 দুনিয়া থেকে সতর্ক থাকা
আবদুর রহমান ইবনে আওফ রা. বলেন, আবু বকর রা. যখন মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন তখন আমি তাঁর কাছে গিয়ে সালাম দিই। তিনি আমাকে তখন বলেন, আমি দেখতে পাচ্ছি, ধীরে ধীরে এমন সময় আসবে যখন দুনিয়া লোকদের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে। সে সময় তোমরা রেশমের পর্দা ব্যবহার করতে শুরু করবে, রেশমের তৈরি বালিশে মাথা রেখে ঘুমাবে। আজারবাইজানের পশমি বিছানাগুলো তোমাদের কাছে হয়ে যাবে যন্ত্রণাদায়ক। তোমাদের নিকট তখন মনে হবে, যেন তোমরা কাঁটা-গুল্মবেষ্টিত কোনো জঙ্গলে রয়েছ। আল্লাহর কসম! দুনিয়ার এই ভোগবিলাসে সাঁতার কাটার তুলনায় তোমাদের কেউ বিধিবদ্ধ উপায়ে নিজের গর্দান উড়িয়ে দেওয়াই উত্তম।
টিকাঃ
[৭৬] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৫৮
📄 যাতে কোনো কল্যাণ নেই
আবু বকর রা. বলেন, তোমরা কি জানো না, সকাল-সন্ধ্যা তোমরা এক নির্দিষ্ট মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছ।
সেই কথায় কোনো কল্যাণ নেই, যে কথার উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন নয়।
সেই সম্পদে কোনো কল্যাণ নেই, যা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা হয় না।
ওই ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, যার অজ্ঞতা তার সহনশীলতার ওপর প্রবল হয়ে যায়।
ওই ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই, যে আল্লাহর ব্যাপারে মানুষের তিরস্কারকে ভয় করে।
টিকাঃ
[৭৭] হিলয়াতুল আউলিয়া, ১/৩৬
📄 পরকালের মাধ্যমে উপদেশ প্রদান
আবু বকর রা. এক খুতবায় বলেন, আমি তোমাদেরকে ওসিয়ত করছি, দারিদ্র্য ও সংকটের সময়ও তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে এবং যথাযথভাবে আল্লাহর গুণকীর্তন করবে। তাঁর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করবে, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। জেনে রাখো, তোমরা যদি আল্লাহ তাআলার জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করো, তাহলে তো নিজেদের প্রতিপালকেরই ইবাদত করলে এবং নিজেদের অধিকার সংরক্ষণ করলে। সক্ষমতার সময় তোমরা নিজেদের ওপর অর্পিত ট্যাক্স প্রদান করে দেবে। অগ্রিম ট্যাক্সগুলোও জমা করে রাখো, তাহলে কখনো অভাব-অনটন দেখা দিলে এগুলো তোমাদের কাজে আসবে।
হে আল্লাহর বান্দারা! একটু চিন্তা করো, তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা কী অবস্থায় ছিল আর এখন কোথায় চলে গেছে? সেসব রাজাবাদশা কোথায় যারা পৃথিবীকে আবাদ করেছে? মানুষ তো তাদের ভুলে গেছে। তাদের আলোচনা এখন বিস্মৃত হয়ে গেছে। আজ এখন যেন তাদের কোনোকিছুই বাকি নেই। তারপর তিনি তেলাওয়াত করেন,
فَتِلْكَ بُيُوتُهُمْ خَاوِيَةٌ بِمَا ظَلَمُوا
এই তো তাদের বাড়িঘর, তাদের জুলুমের কারণে আজ যা বিরান অবস্থায় পড়ে আছে। (সুরা নামল, ৫২)
তারা তো এখন রয়েছে কবরের অন্ধকার জগতে। তিনি এ প্রসঙ্গে তেলাওয়াত করেন,
(আরবি)
আপনি কি তাদের কারও সাড়া পান, অথবা তাদের ক্ষীণতম আওয়াজও শুনতে পান? (সূরা মারয়াম, ৯৮)
তোমাদের সেসব ভাই-বন্ধু কোথায় যাদের সাথে তোমাদের পরিচয়-সম্পর্ক ছিল? তারা তো এখন নিজেদের কৃত আমল অনুযায়ী ফলাফল পেয়েছে। হয়তো তারা সে আমলের কারণে হতভাগা হয়ে গেছে কিংবা সৌভাগ্যবান হয়েছে। দেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাথে সৃষ্টিজীবের কারও কোনো ধরনের বংশীয় সম্পর্ক নেই যে, সে সুবাদে তিনি তার প্রতি অতিরিক্ত অনুগ্রহ করবেন কিংবা তার থেকে কোনো বিপদ দূর করে দেবেন। কেবল তার আনুগত্য এবং তাঁর নির্দেশনাবলির অনুসরণের মাধ্যমেই তিনি কারও কল্যাণ করেন এবং কারও থেকে অকল্যাণ দূর করে দেন। যে কল্যাণের পরে রয়েছে জাহান্নাম, সেটা তো মোটেই কল্যাণ হতে পারে না। আর যে অনিষ্টের পরই রয়েছে জান্নাত সেটা মোটেও অনিষ্ট কিছু নয়।
এটাই হচ্ছে আমার আবেদন। আমি তোমাদের জন্য এবং আমার নিজের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করি।
টিকাঃ
[৭৮] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৫৮
📄 কাউকে তুচ্ছ মনে না করা
আবু বকর রা. বলেন, কেউ যেন কোনো মুসলমানকে তুচ্ছ মনে না করে। কেননা অতি সাধারণ মুসলমানও আল্লাহর নিকট অনেক বড়।
টিকাঃ
[৭৯] ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, ৪/১৩৭