📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 নামাজ

📄 নামাজ


আবু বকর রা. বলেন, সুসংবাদ ওই ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি 'নানাতে' মৃত্যুবরণ করে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, নানাত কী জিনিস? তিনি উত্তরে বলেন, ইসলাম গ্রহণের প্রাথমিক অবস্থা। অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চাচ্ছিলেন, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর নিজের অনুসারী বৃদ্ধি পাওয়ার আগে এবং দিকে দিকে তাদের প্রসার লাভের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে তার জন্য রয়েছে সুসংবাদ।

টিকাঃ
[৬৭] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১০২

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 আল্লাহর ব্যাপারে সংকোচ

📄 আল্লাহর ব্যাপারে সংকোচ


আবু বকর রা. বলেন, হে মুসলমানগণ! তোমরা আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে সংকোচ রাখো। যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তার শপথ! আমি যখন কোনো খোলা ময়দানে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারার জন্য যাই তখন আমার রবের লজ্জায় নিজেকে কাপড় দিয়ে এমনভাবে জড়িয়ে নিই যে, কাপড়ের (শরীর থেকে কাপড়ের বর্ধিতাংশের) ছায়া পর্যন্ত জমিনে পড়তে থাকে।

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 রাজ্যশাসকরা যখন সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়

📄 রাজ্যশাসকরা যখন সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়


আবু বকর রা. এক খুতবায় রাজাবাদশাদের ভ্রান্তি ও পথবিচ্যুত হওয়ার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন, খুতবায় আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ ও সালাম শেষে বলেন, দুনিয়া ও আখেরাতের সবচেয়ে হতভাগা হলো রাজাবাদশারা। এই কথা শুনে লোকেরা উৎকর্ণ হয়ে ওঠে। তাদের এ অবস্থা দেখে তিনি বলেন, কী হলো তোমাদের?
মনে হচ্ছে এ কথায় তোমাদের আপত্তি আছে? শোনো, কিছু রাজাবাদশা এমন রয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনের পর আল্লাহ তাআলা তাদের স্বভাবচরিত্র এমন করে দেন যে, তারা ব্যক্তিগত অর্থসম্পদের ব্যাপারে অনাগ্রহী হয়ে পড়ে, কিন্তু অন্যের সম্পদের প্রতি তাদের লোভ-লালসা বেড়ে যায়, আল্লাহ তাদের বয়স অর্ধেক কমিয়ে দেন, মনের ভেতর ভয়ভীতি তৈরি করে দেন। ফলে দেখা যায়, অন্যের সামান্য সম্পদের জন্য তারা হিংসা-বিদ্বেষ করতে থাকে কিন্তু নিজের অঢেল সম্পদ থেকে বিমুখ হয়ে থাকে। সুখস্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি তাদের মধ্যে বিরক্তি চলে আসে। বৈবাহিক সম্পর্কের সুখ সে হারিয়ে ফেলে।
এই শ্রেণির রাজাবাদশারা অতীত থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে না। কোনোকিছুর প্রতিই তাদের মধ্যে সুদৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হয় না। মূলত তারা অচল মুদ্রা বা প্রবঞ্চনাকারী মরীচিকার মতো। বাহ্যত তাদেরকে অনেক সুখী ও হাসিখুশি মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তারা হয়ে থাকে বিষাদগ্রস্ত ও বিষণ্ণ। যখন মৃত্যু ঘনিয়ে আসে, তারা শেষ বয়সে উপনীত হয়ে পড়ে এবং জীবনপ্রদীপ নিভে যায় তখন আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত কঠোরভাবে তাদের হিসাব গ্রহণ করেন। তাদের খুব কম লোককেই তিনি ক্ষমা করেন। তবে সে ব্যক্তিই কেবল আল্লাহর শাস্তি থেকে রেহাই পায়, যে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে। তার কিতাব ও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করেছে।
শোনো, নিশ্চয় দরিদ্র-অসহায়রাই হলো প্রকৃত দয়া ও করুণার পাত্র। জেনে রাখো, তোমরা রয়েছ নবুয়ত-নির্দেশিত খেলাফতব্যবস্থার অধীনে এবং এমন পথের ওপর, যা সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করে দিয়ে থাকে। আমার পর তোমরা অত্যাচারী জালেম রাজাবাদশাদের দেখতে পাবে এবং এমন জাতির দেখা পাবে, যারা হবে বহুধাবিভক্ত এবং যাদের রক্ত ঝরবে অনবরত।
যদি কখনো বাতিলের আস্ফালন দেখা যায় আর হকের অনুসারীদের বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়, তাহলে জেনে রাখো, শীঘ্রই উত্তম পদচিহ্নগুলো মুছে যাবে। ভালো ভালো মানুষগুলো বিদায় নেবে। নতুন নতুন ফিতনা-ফাসাদ তৈরি হবে। উত্তম রীতিনীতিসমূহ মিটে যাবে। তখন তোমাদের কর্তব্য হবে, মসজিদ আঁকড়ে থাকা। তোমরা পরামর্শ গ্রহণ করবে কুরআন কারিম থেকে। আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে নিজেদেরকে নিরাপত্তাবেষ্টিত করে নেবে। কখনো مسلمانوں জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না।
আমার অনুরোধ থাকবে, তোমরা কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পরস্পর পরামর্শ করে স্থির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। কারও সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনা করে নেবে। আচ্ছা, বলো তো তোমাদের খারশানা শহর কোনটি? জেনে রাখো, রোমের নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোর মতো তার দূরবর্তী অঞ্চলগুলোও একদিন তোমাদের অধীনে চলে আসবে।

টিকাঃ
[৬৮] আল-বায়ান ওয়াত-তাবয়িন, ২/৪৩; আল-ইকদুল ফারিদ, ৪/৫৬

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 আপনাকে জীবন দান করবে

📄 আপনাকে জীবন দান করবে


হজরত আবু বকর সিদ্দিক রা. একদিন হজরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রা.-কে বলেন, আপনি গৌরব ও খ্যাতি-সম্মানের পেছনে ছুটবেন না, তাহলে গৌরব ও সম্মান নিজে নিজেই আপনার পেছনে আসবে। মৃত্যুর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠুন, এই আগ্রহ আপনাকে নতুন জীবন প্রদান করবে।

টিকাঃ
[৬৯] আল-ইকদুল ফারিদ, ১/৩৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00