📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 অনুপম বিনয়

📄 অনুপম বিনয়


আবু বকর রা. খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর এক খুতবা প্রদান করেন, প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করে বলেন-
পরসমাচার, লোকসকল! আমি তোমাদের দায়িত্বশীল হিসাবে নিযুক্ত হয়েছি, যদিও আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি নই। [৫৭] তবে নাজিলকৃত পবিত্র কুরআন ও রাসুলের প্রণীত সুন্নাহসমূহ আমাদের সামনে রয়েছে, যেগুলো নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে শিখিয়েছেন, ফলে আমরা সেগুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছি।
শোনো, সবচেয়ে বড় বিচক্ষণতা হলো তাকওয়া তথা খোদাভীতি। আর সবচেয়ে বড় নির্বুদ্ধিতা হলো পাপাচার। তোমাদের চোখে যে শক্তিশালী সে আমার কাছে ততক্ষণ পর্যন্ত দুর্বল যতক্ষণ আমি তার থেকে অন্যের অধিকার ছিনিয়ে না আনি। আর তোমাদের সবচেয়ে দুর্বল লোকও আমার নিকট শক্তিশালী যতক্ষণ না আমি তার অধিকার নিশ্চিত করি।
লোকসকল! আমি তো কেবল অনুসরণকারী, কোনো বিষয় উদ্ভাবনকারী নই। আমি ভালো কাজ করলে তোমরা আমাকে সহযোগিতা করবে। যদি আমি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ি তাহলে আমাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেবে।

টিকাঃ
[৫৭] হাসান বসরি রহ. আবু বকর রা.-এর এই উক্তির ব্যাপারে মন্তব্য করেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি হলেন এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। কিন্তু মুমিন তো সবসময় নিজেকে ছোট মনে করেই থাকে। (কানযুল উম্মাল, ১৪০৫০)
[৫৮] ইবনে সাদ কৃত আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৩/৯৭

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 তোমরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো

📄 তোমরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো


আবু বকর রা. এক ভাষণে বলেন, তোমাদের হিসাব গ্রহণের পূর্বেই তোমরা নিজেরাই নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো। যে সম্প্রদায় আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা ছেড়ে দেয় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর দারিদ্র্য চাপিয়ে দেন। আর যে সম্প্রদায়ে অশ্লীলতার বিস্তার ঘটে, আল্লাহ তাআলা ভয়াবহ শাস্তি দিয়ে তাদেরকে পাকড়াও করেন।

টিকাঃ
[৫৯] কানযুল উম্মাল, ১৪১১৪

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 সতর্কীকরণ

📄 সতর্কীকরণ


আবু বকর রা. এক ভাষণে বলেন, জেনে রাখো, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি নই। আমি সম্পূর্ণ নিজের অনিচ্ছায় এই স্থানে দাঁড়িয়েছি। আহ! যদি এমন কেউ থাকত যে আমার এই দায়িত্বটা পালন করে দেবে। তোমরা কি ধারণা করছ যে, আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব? মোটেই তা নয়, কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ত্রুটিবিচ্যুতি থেকে রক্ষা করা হতো ওহির মাধ্যমে। তদুপরি তার সঙ্গে ছিল সহযোগী ফেরেশতাগণ। পক্ষান্তরে আমার সাথে রয়েছে এমন শয়তান, যে অনবরত আমার ওপর আক্রমণ করে থাকে। তাই যদি আমি রাগান্বিত হয়ে যাই তাহলে তোমরা সতর্ক থাকবে। যেন তোমাদের জীবনের গতি-ছন্দ এবং হাসিখুশিতে আমি নেতিবাচক প্রভাব তৈরির কারণ না হয়ে দাঁড়াই। অতএব, তোমরা আমার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে...।

টিকাঃ
[৬০] হাসান বসরি রহ. এ খুতবার ব্যাপারে মন্তব্য করেন, আল্লাহর কসম, আবু বকর রা.-এর পর এ যাবৎকালের মধ্যে কেউ এমন খুতবা প্রদান করেনি।

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 কিছু কায়দা ও মূলনীতি

📄 কিছু কায়দা ও মূলনীতি


খলিফা আবু বকর রা. মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হয়ে গেলে উমর রা.-কে ডেকে বলেন, হে উমর! আপনি আল্লাহকে ভয় করুন। জেনে রাখুন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা দিবসের জন্য এমন কিছু আমল নির্ধারণ করে রেখেছেন, যা তিনি রাতে কবুল করেন না। আর রাতের জন্য তিনি এমন কিছু আমল নির্ধারণ করে রেখেছেন যা তিনি দিবসে কবুল করেন না। ফরজ আমলসমূহ পালন না করা হলে তিনি নফল আমল কবুল করেন না। দুনিয়ার জীবনে সত্য অনুসরণের ফলে এবং সত্য পালনে ত্যাগ ও শ্রমের বিনিময়ে কেয়ামতের দিন যার আমলনামার পাল্লা ভারী হবে সে-ই প্রকৃতপক্ষে ভারী পাল্লার অধিকারী সফলতম ব্যক্তি। যে পাল্লায় কাল কেয়ামতের দিন হক স্থাপন করা হবে সেটা নিশ্চয়ই ভারী হবে।
প্রকৃতপক্ষে ওই ব্যক্তির আমলনামার পাল্লাই তো হালকা, দুনিয়ায় বাতিলের অনুসরণের কারণে কেয়ামতের দিন যার আমলনামার পাল্লা হালকা হয়ে যায়। কাল কেয়ামতের দিন যে পাল্লায় বাতিল আমল ওঠানো হবে তা হালকা হয়ে যাওয়াই তো উচিত।
আল্লাহ তাআলা যখন জান্নাতবাসীদের কথা আলোচনা করেছেন তখন তাদের উত্তম আমলসমূহের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তাদের গুনাহের প্রসঙ্গ তিনি উপেক্ষা করে গেছেন। ফলে জান্নাতবাসীদের কথা স্মরণ হলে আমি নিজের অজান্তেই বলে থাকি, আশঙ্কা হয় তাদের সাথে যুক্ত হতে পারে কি না। পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা যখন জাহান্নামিদের কথা আলোচনা করেছেন তখন তাদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং মন্দ কাজগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তাদের উত্তম কাজের প্রতি তিনি কোনোরূপ ভ্রুক্ষেপই করেননি। এজন্য জাহান্নামিদের কথা মনে পড়লে আল্লাহর নিকট কামনা করি তিনি যেন আমাকে তাদের সাথে না রাখেন। অর্থাৎ বান্দা হিসাবে আমাদেরকে এভাবে আল্লাহর প্রতি আগ্রহী থাকতে হবে আবার তার ব্যাপারে নিজের মধ্যে ভয়ভীতিও রাখতে হবে। তার ব্যাপারে সম্পূর্ণ আশাবাদী হওয়া যাবে না আবার তার রহমত থেকে একেবারে নিরাশও হওয়া চলবে না।
যদি আপনি আমার এই অসিয়ত স্মরণ রাখেন তাহলে মৃত্যুই আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হয়ে উঠবে। আর মৃত্যু তো অত্যাসন্ন ও অনিবার্য। কিন্তু যদি আপনি আমার এই অসিয়তকে গুরুত্ব না দেন তাহলে মৃত্যুই আপনার কাছে সর্বাধিক ঘৃণার পাত্র হবে। অথচ মৃত্যু এমন এক বিষয়, চাইলেও আপনি মৃত্যুকে এড়িয়ে যেতে পারবেন না।

টিকাঃ
[৬১] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/৬০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00