📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 পরিচয়

📄 পরিচয়


→ তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আমের ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তাইম। এ বংশধারা কুরাইশের শাখা বনু তাইমের সাথে মিলিত হয়েছে।
→ তিনি জন্মগ্রহণ করেন হস্তীবাহিনীর ঘটনার দুই বছর ছয় মাস পর। ফলে বয়সের দিক থেকে তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে দুই বছর কয়েক মাস ছোট।
→ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়ত লাভ করার পর থেকেই তিনি ছিলেন তার সঙ্গী। পুরুষদের মধ্যে তিনিই প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন।
→ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যতদিন মক্কায় অবস্থান করেছেন তার পুরোটা সময় তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলেন। যখন হিজরতের উদ্দেশ্যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে পাড়ি জমিয়েছেন তখনও তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। সাওর পর্বতে তিনিই তার সঙ্গে ছিলেন। এমনকি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যু পর্যন্ত সংঘটিত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় তিনি রাসুলের পাশে থেকেছেন। তিনি সেই ১০ জন সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের একজন, যাদের ব্যাপারে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে।
→ নবিজির পর তিনি খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেছেন। মুসলমানগণ তাকে উপাধি প্রদান করেছেন, 'খলিফাতু রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম'।

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 অনুপম বিনয়

📄 অনুপম বিনয়


আবু বকর রা. খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পর এক খুতবা প্রদান করেন, প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করে বলেন-
পরসমাচার, লোকসকল! আমি তোমাদের দায়িত্বশীল হিসাবে নিযুক্ত হয়েছি, যদিও আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি নই। [৫৭] তবে নাজিলকৃত পবিত্র কুরআন ও রাসুলের প্রণীত সুন্নাহসমূহ আমাদের সামনে রয়েছে, যেগুলো নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে শিখিয়েছেন, ফলে আমরা সেগুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছি।
শোনো, সবচেয়ে বড় বিচক্ষণতা হলো তাকওয়া তথা খোদাভীতি। আর সবচেয়ে বড় নির্বুদ্ধিতা হলো পাপাচার। তোমাদের চোখে যে শক্তিশালী সে আমার কাছে ততক্ষণ পর্যন্ত দুর্বল যতক্ষণ আমি তার থেকে অন্যের অধিকার ছিনিয়ে না আনি। আর তোমাদের সবচেয়ে দুর্বল লোকও আমার নিকট শক্তিশালী যতক্ষণ না আমি তার অধিকার নিশ্চিত করি।
লোকসকল! আমি তো কেবল অনুসরণকারী, কোনো বিষয় উদ্ভাবনকারী নই। আমি ভালো কাজ করলে তোমরা আমাকে সহযোগিতা করবে। যদি আমি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ি তাহলে আমাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেবে।

টিকাঃ
[৫৭] হাসান বসরি রহ. আবু বকর রা.-এর এই উক্তির ব্যাপারে মন্তব্য করেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি হলেন এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। কিন্তু মুমিন তো সবসময় নিজেকে ছোট মনে করেই থাকে। (কানযুল উম্মাল, ১৪০৫০)
[৫৮] ইবনে সাদ কৃত আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৩/৯৭

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 তোমরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো

📄 তোমরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো


আবু বকর রা. এক ভাষণে বলেন, তোমাদের হিসাব গ্রহণের পূর্বেই তোমরা নিজেরাই নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো। যে সম্প্রদায় আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা ছেড়ে দেয় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর দারিদ্র্য চাপিয়ে দেন। আর যে সম্প্রদায়ে অশ্লীলতার বিস্তার ঘটে, আল্লাহ তাআলা ভয়াবহ শাস্তি দিয়ে তাদেরকে পাকড়াও করেন।

টিকাঃ
[৫৯] কানযুল উম্মাল, ১৪১১৪

📘 মাওয়ায়েজে সাহাবা (সাহাবিদের অনুপম কথামালা) > 📄 সতর্কীকরণ

📄 সতর্কীকরণ


আবু বকর রা. এক ভাষণে বলেন, জেনে রাখো, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি নই। আমি সম্পূর্ণ নিজের অনিচ্ছায় এই স্থানে দাঁড়িয়েছি। আহ! যদি এমন কেউ থাকত যে আমার এই দায়িত্বটা পালন করে দেবে। তোমরা কি ধারণা করছ যে, আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব? মোটেই তা নয়, কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ত্রুটিবিচ্যুতি থেকে রক্ষা করা হতো ওহির মাধ্যমে। তদুপরি তার সঙ্গে ছিল সহযোগী ফেরেশতাগণ। পক্ষান্তরে আমার সাথে রয়েছে এমন শয়তান, যে অনবরত আমার ওপর আক্রমণ করে থাকে। তাই যদি আমি রাগান্বিত হয়ে যাই তাহলে তোমরা সতর্ক থাকবে। যেন তোমাদের জীবনের গতি-ছন্দ এবং হাসিখুশিতে আমি নেতিবাচক প্রভাব তৈরির কারণ না হয়ে দাঁড়াই। অতএব, তোমরা আমার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে...।

টিকাঃ
[৬০] হাসান বসরি রহ. এ খুতবার ব্যাপারে মন্তব্য করেন, আল্লাহর কসম, আবু বকর রা.-এর পর এ যাবৎকালের মধ্যে কেউ এমন খুতবা প্রদান করেনি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00