📄 এই মুহূর্তের মতো
উম্মে দারদা রা. বলেন, আবু দারদা যখন মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত ছিলেন তখন তিনি বলতে থাকেন, এমন কে আছে, আমি আজ এ মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হয়ে যেমন আমল করব সে তেমন আমল করবে? আমি এই মুহূর্তে যেভাবে একাগ্রতার সাথে আল্লাহর ইবাদত করব সে ওইভাবে ইবাদত করবে? আজ আমি এ অবস্থায় উপনীত হয়ে যেভাবে আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট থাকব, সে ওইভাবে নিবিষ্টতার সাথে ইবাদত করবে? এরপর তিনি তেলাওয়াত করেন,
وَنُقَلِبُ أَفْئِدَتَهُمْ وَأَبْصَارَهُمْ كَمَا لَمْ يُؤْمِنُوا بِهِ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَنَذَرُهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ
আমি ঘুরিয়ে দেবো তাদের অন্তর ও দৃষ্টিকে। যেমন তারা এর প্রতি প্রথমবার বিশ্বাস স্থাপন করেনি এবং আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদ্ভ্রান্ত ছেড়ে দেবো। (সুরা আনআম, ১১০)
📄 বিচক্ষণতার প্রমাণ
আবু দারদা রা. বলেন, জীবনজীবিকার ক্ষেত্রে অনাড়ম্বরতা অবলম্বন করাটা ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ বহন করে।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তির ওঠাবসা ও চলাফেরা আলেমদের সঙ্গে হওয়াটা তার বিচক্ষণতার প্রমাণ বহন করে।
টিকাঃ
[৭২৮] তাহযিবু হিলয়াতিল আউলিয়া, ১/১৬৮
📄 নির্বোধ লোকদের রোজা
আবু দারদা রা. বলেন, হায়রে, যে-সকল বুদ্ধিমান লোকেরা ঘুমিয়ে আর খেয়েদেয়ে দিন কাটায় তারা কীভাবে তাদের দৃষ্টিতে আহাম্মক লোকদের নির্ঘুম রাত্রিযাপন এবং রোজা রেখে অনাহারে দিন কাটিয়ে দেওয়াকে নীচু দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, অথচ অণু পরিমাণ খোদাভীরুতা এবং ইয়াকিনও আল্লাহ তাআলার নিকট অহংকারী লোকদের পাহাড় পরিমাণ ইবাদত-বন্দেগির চেয়েও মর্যাদাবান ও শ্রেষ্ঠ।
টিকাঃ
[৭২৯] হিলয়াতুল আউলিয়া, ১/২১১
📄 যদি তিনটি বিষয় না হতো
আব্বাস ইবনে খুলাইদ বলেন, হজরত আবু দারদা রা. বলেছেন, যদি তিনটি বিষয় না থাকত তাহলে আমি দুনিয়াতে বেঁচে থাকতে চাইতাম না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সে বিষয়গুলো কী? তিনি বলেন, দিবস ও রজনীর পালাবদলে আমার সৃষ্টিকর্তার দরবারে সেজদায় লুটিয়ে পড়া, দ্বিপ্রহরের কঠিন সময়ে তৃষ্ণা নিবারণ করা এবং সে সকল লোকদের মজলিসে বসা যারা ফল বাছাই করার মতোই উত্তম উত্তম কথামালা বাছাই করে বলে থাকেন।
পূর্ণাঙ্গ তাকওয়া হলো, বান্দা সর্ববিষয়ে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করবে, এমনকি অণু পরিমাণ বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাকে ভয় করবে। তাই হারাম হওয়ার আশঙ্কায় হালাল বিষয় পরিত্যাগ করবে। এভাবে সতর্কভাবে চলাটাই তাকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।
জেনে রাখো, আল্লাহ তাআলা মানুষের পরিণাম বলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّايَرَهُ
অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে। (সুরা যিলযাল, ৭-৮) তাই তুচ্ছ মনে করে কোনো অসৎকাজও জড়ানো যাবে না আর তুচ্ছ মনে করে কোনো কল্যাণকাজও বাদ দেওয়া যাবে না।
টিকাঃ
[৭৩০] আয-যুহদুল কাবির, ক্রমিক নম্বর, ৮৭০