📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ

📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ হলো, পাত্র অথবা পাত্রী নির্বাচনের সময় সর্বপ্রথম আপনাকে দীন ও আখলাকের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিতে হবে। দীন ও আখলাকের সাথে অন্য চার বস্তুর মধ্যে কোনোটি যদি পেয়ে যান তাহলে আপনাকে আল্লাহর শোকর আদায় করতে হবে। এরপর আর আপনি বিয়েতে অহেতুক বিলম্ব করবেন না। হ্যাঁ, সে আত্মীয়তা অথবা সম্পর্ক আপনার জন্য গ্রহণযোহ্য হতে পারে না, যে সম্পর্কে সকল গুণই রয়েছে কিন্তু দীন ও আখলাক নেই। মুসলমান মাতা-পিতার প্রথম দেখার বস্তু হলো দীন ও আখলাক। যার মধ্যে তা নেই অন্যান্য বিষয়ে উদাহরণতুল্য হলেও আপনার কলিজার টুকরার জীবন সাথী হতে পারে না। তাঁকে আপনি ঘরের বধু অথবা জামাই বানানোর চিন্তা করতে পারেন না। অন্যান্য জিনিসের ক্ষতিপূরণ তো দীন এবং আখলাক দিয়ে হতে পারে অথবা এভাবে বলা যায় যে, দীন ও আখলাকের কারণে অন্যান্য দুর্বলতাতো সহ্য করা যায় কিন্তু কোনো বড়ো বড়ো গুণের খাতিরেও দীন ও আখলাকের বঞ্চনা সহ্য করা যায় না। দীন ও আখলাকের ক্ষতি অন্য কোনো গুণ দিয়ে পূরণ করা যায় না। আল্লাহর রাসূলের নির্দেশ:
"বিয়ের জন্য সাধারণত মেয়েদের ব্যাপারে চারটি বিষয় দেখা হয়। সে চারটি বিষয় হলো: ধন-সম্পদ, বংশীয় আভিজাত্য, রূপ ও যৌবন এবং দীন ও আখলাক। তোমরা দীনদার মহিলাকে বিয়ে করো। এতেই তোমাদের কল্যাণ নিহিত।"
এ হাদীস এ নির্দেশই করে যে, আপনি আপনার পুত্রের জন্য এমন বধু আনুন যে দীনদার এবং ইসলামী চরিত্রে সুসজ্জিত। এমন বধুর মাধ্যমেই আপনার গৃহ ইসলামের দুর্গ হতে পারে। আর এমন বধুর থেকেই এ আশা করা যেতে পারে যে, তার কোলেই এ ধরনের সন্তান আসবে, যে দীন ও ঈমানের ক্ষেত্রে হবে মজবুত এবং ইসলামের জন্যে হবে নিবেদিত প্রাণ।
এভাবে জামাই এবং বধু নির্বাচনেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ রয়েছে। সে নির্দেশেও দীন এবং আখলাককেই মৌলিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "যখন তোমাদের নিকট এমন কোনো ব্যক্তি বিয়ের পয়গাম প্রেরণ করে যার দীন ও আখলাকের ব্যাপারে তোমরা সন্তুষ্ট এবং খুশী, তাহলে তার সাথে নিজের কলিজার টুকরাকে বিয়ে দিয়ে দাও। যদি তোমরা তা না করো, তাহলে জমিনে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।
এ হাদীস আপনাকে সিদ্ধান্তমূলকভাবে নির্দেশ দেয় যে, যখন আপনার নিকট কোনো এমন পাত্রের পয়গাম আসে, যার দীন ও আখলাকের ব্যাপারে আপনি সন্তুষ্ট। আপনার নিকট আস্থামূলক তথ্য আছে যে, পাত্রটি আল্লাহ ভীরু, দীনদার, নামায-রোযার পাবন্দ এবং ইসলামী নৈতিকতায় সুসজ্জিত। তাহলে অহেতুক বিলম্ব করা কোনোমতেই ঠিক নয়। আল্লাহর উপর ভরসা করে তার সাথেই বিয়ে দিয়ে দিন এবং কল্যাণের আশা করুন। কেননা মুসলমানের বিয়ের সম্পর্কের জন্য প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হলো দীন ও ঈমান। যে সমাজে দীন ও ঈমানকে উপেক্ষা করে অন্য জিনিসকে গুরুত্ব দেয়া হয় অথবা ধন-সম্পদ ও রূপ-যৌবনকে দীন ও আখলাকের উপর অগ্রাধিকার দেয়া হয়। তাহলে এমন সমাজে ফেতনা ও ফাসাদের তুফান সৃষ্টি হয় এবং দুনিয়ার কোনো শক্তিই এমন সমাজকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00