📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 জীবন সঙ্গী নির্বাচনের মাপকাঠি

📄 জীবন সঙ্গী নির্বাচনের মাপকাঠি


জীবন সাথী নির্বাচনে সাধারণত পাঁচটি জিনিস সামনে রাখা হয়ে থাকে।
এক: ধন-সম্পদ দুই: বংশ আভিজাত্য তিন: সুশ্রী ও সৌন্দর্য চার: দীন ও আখলাক এবং পাঁচ: শিক্ষা।
এটা নিসন্দেহে বলা যায় যে, এ পাঁচটি বস্তু স্ব স্ব স্থানে গুরুত্বপূর্ণ। এ যুগে ধন-সম্পদের গুরুত্ব কে অস্বীকার করতে পারে। বংশ আভিজাত্যও অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষা করার বিষয় নয়।
জীবন সঙ্গীনি নির্বাচনে সৌন্দর্য ও সুশ্রী হওয়াটাও মৌলিক গুরুত্বের দাবীদার। তা পাত্রী নির্বাচনে বিশেষ করে এ বিষয়টি সিদ্ধান্তমূলক হয়ে থাকে। এ ব্যাপারটিও তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আল্লাহই মানুষকে রুচি এবং সৌন্দর্য প্রদান করেছেন এবং রূপতো পসন্দ করারই বিষয়।
শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজন স্বীকৃত সত্য। বর্তমান যুগে সম্বন্ধ স্থাপনে, শিক্ষার এবং ডিগ্রীকে তো বিশেষভাবে খেয়ালে রাখা হয়। এটাও ঠিক যে উচ্চ শিক্ষার উৎসাহ উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে এবং সভ্যতায় সুসজ্জিত করে। উচ্চ শিক্ষা মান-ইজ্জত বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। সচ্ছল জীবন এবং সমাজে মান-সম্মানের কারণ হয়।
রইলো দীন ও আখলাকের কথা। এটাতো স্পষ্ট ব্যাপার যে, মুসলমানের নিকট তার গুরুত্ব ও মূল্য থাকবেই। প্রস্তাবিত ব্যক্তির মধ্যে মুসলমান মাতা-পিতা সবকিছু দেখবেন অথচ দীন ও আখলাকের ব্যাপারটি উপেক্ষা করবেন অথবা কোনো গুরুত্বই দেবেন না, তা হতে পারে না।
আপনার আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং চেষ্টা যদি এ হয় যে, আপনার কন্যা অথবা পুত্রকে এমন জীবন সাথী এনে দেবেন যে, এ পাঁচ গুণে গুণান্বিত। আপনার এ আকাঙ্ক্ষা শুভ। আপনার আশাও ঠিক এবং আপনার প্রচেষ্টাও সঠিক। কোন্ পিতা-মাতা চায় না যে, তার কলিজার টুকরা এসব গুণে গুণান্বিত জীবন সাথী লাভ করুক?
ইসলাম আপনার এ আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং চেতনার কখনো অবমূল্যায়ন করে না। ইসলাম আপনার এ আবেগের মর্যাদা দেয়।
সকল গুণে বিভূষিত দম্পতি যদি পান তাহলে তা হবে আল্লাহর বিশেষ অবদান। সাধারণত প্রত্যেক সম্পর্ক স্থাপনে সকল গুণ এক সাথে পাওয়া খুবই দুষ্কর ব্যাপার। কারোর মধ্যে কিছু গুণ পাওয়া গেলে আবার কিছু মন্দও পাওয়া যায়। প্রকৃতপক্ষে এ ব্যাপারে আপনার পরীক্ষা হলো, নির্বাচনে আপনাকে ইসলামী দৃষ্টিকোণকে সামনে রাখতে হবে এবং ইসলাম এ গুণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে তাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ

📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ হলো, পাত্র অথবা পাত্রী নির্বাচনের সময় সর্বপ্রথম আপনাকে দীন ও আখলাকের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিতে হবে। দীন ও আখলাকের সাথে অন্য চার বস্তুর মধ্যে কোনোটি যদি পেয়ে যান তাহলে আপনাকে আল্লাহর শোকর আদায় করতে হবে। এরপর আর আপনি বিয়েতে অহেতুক বিলম্ব করবেন না। হ্যাঁ, সে আত্মীয়তা অথবা সম্পর্ক আপনার জন্য গ্রহণযোহ্য হতে পারে না, যে সম্পর্কে সকল গুণই রয়েছে কিন্তু দীন ও আখলাক নেই। মুসলমান মাতা-পিতার প্রথম দেখার বস্তু হলো দীন ও আখলাক। যার মধ্যে তা নেই অন্যান্য বিষয়ে উদাহরণতুল্য হলেও আপনার কলিজার টুকরার জীবন সাথী হতে পারে না। তাঁকে আপনি ঘরের বধু অথবা জামাই বানানোর চিন্তা করতে পারেন না। অন্যান্য জিনিসের ক্ষতিপূরণ তো দীন এবং আখলাক দিয়ে হতে পারে অথবা এভাবে বলা যায় যে, দীন ও আখলাকের কারণে অন্যান্য দুর্বলতাতো সহ্য করা যায় কিন্তু কোনো বড়ো বড়ো গুণের খাতিরেও দীন ও আখলাকের বঞ্চনা সহ্য করা যায় না। দীন ও আখলাকের ক্ষতি অন্য কোনো গুণ দিয়ে পূরণ করা যায় না। আল্লাহর রাসূলের নির্দেশ:
"বিয়ের জন্য সাধারণত মেয়েদের ব্যাপারে চারটি বিষয় দেখা হয়। সে চারটি বিষয় হলো: ধন-সম্পদ, বংশীয় আভিজাত্য, রূপ ও যৌবন এবং দীন ও আখলাক। তোমরা দীনদার মহিলাকে বিয়ে করো। এতেই তোমাদের কল্যাণ নিহিত।"
এ হাদীস এ নির্দেশই করে যে, আপনি আপনার পুত্রের জন্য এমন বধু আনুন যে দীনদার এবং ইসলামী চরিত্রে সুসজ্জিত। এমন বধুর মাধ্যমেই আপনার গৃহ ইসলামের দুর্গ হতে পারে। আর এমন বধুর থেকেই এ আশা করা যেতে পারে যে, তার কোলেই এ ধরনের সন্তান আসবে, যে দীন ও ঈমানের ক্ষেত্রে হবে মজবুত এবং ইসলামের জন্যে হবে নিবেদিত প্রাণ।
এভাবে জামাই এবং বধু নির্বাচনেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ রয়েছে। সে নির্দেশেও দীন এবং আখলাককেই মৌলিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "যখন তোমাদের নিকট এমন কোনো ব্যক্তি বিয়ের পয়গাম প্রেরণ করে যার দীন ও আখলাকের ব্যাপারে তোমরা সন্তুষ্ট এবং খুশী, তাহলে তার সাথে নিজের কলিজার টুকরাকে বিয়ে দিয়ে দাও। যদি তোমরা তা না করো, তাহলে জমিনে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।
এ হাদীস আপনাকে সিদ্ধান্তমূলকভাবে নির্দেশ দেয় যে, যখন আপনার নিকট কোনো এমন পাত্রের পয়গাম আসে, যার দীন ও আখলাকের ব্যাপারে আপনি সন্তুষ্ট। আপনার নিকট আস্থামূলক তথ্য আছে যে, পাত্রটি আল্লাহ ভীরু, দীনদার, নামায-রোযার পাবন্দ এবং ইসলামী নৈতিকতায় সুসজ্জিত। তাহলে অহেতুক বিলম্ব করা কোনোমতেই ঠিক নয়। আল্লাহর উপর ভরসা করে তার সাথেই বিয়ে দিয়ে দিন এবং কল্যাণের আশা করুন। কেননা মুসলমানের বিয়ের সম্পর্কের জন্য প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হলো দীন ও ঈমান। যে সমাজে দীন ও ঈমানকে উপেক্ষা করে অন্য জিনিসকে গুরুত্ব দেয়া হয় অথবা ধন-সম্পদ ও রূপ-যৌবনকে দীন ও আখলাকের উপর অগ্রাধিকার দেয়া হয়। তাহলে এমন সমাজে ফেতনা ও ফাসাদের তুফান সৃষ্টি হয় এবং দুনিয়ার কোনো শক্তিই এমন সমাজকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00