📄 ইসলামের হেদায়াত
ইসলাম একটি প্রাকৃতিক ধর্ম। এ ধর্ম প্রকৃতির দান পূরণ করে। সন্তান জওয়ান হতেই যথাযথ সম্পর্ক পাওয়া গেলেই আপনি তার বিয়ে দিতে চান। ইসলাম আপনার এ আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দিয়ে থাকে। ইসলামেরও নির্দেশ হলো সন্তান জওয়ান হবার সাথে সাথে তার বিয়ে দেয়ায় বিলম্ব না করা। সঠিক সম্পর্ক পেতে অবশ্যই সময়ের প্রয়োজন। তবে ইসলামের নির্দেশের আলোকে সঠিক সম্পর্ক পাবার পরও অহেতুক বিলম্ব ও টালবাহানা করা কোনোক্রমেই ঠিক নয়। অনেক সময় এ অহেতুক বিলম্ব ও টালবাহানা খারাপ ফল হয়। মোটকথা, এ খারাপ ফলের দায়-দায়িত্ব মাতা-পিতা এড়াতে পারেন না।
📄 বিলম্বে বিয়ের খারাপ পরিণাম
পুত্র হোক অথবা কন্যা যখনই সে জওয়ান হয়, তখনই তার যথাযথ সম্পর্ক স্থাপনের চিন্তা করা মাতা-পিতার অন্যতম গুরত্বপূর্ণ কর্তব্য। আর যখনই এ ধরনের সম্পর্ক পাওয়া যাবে তৎক্ষণাৎ তাকে বিয়ের বাকডোরে বেঁধে দেয়া উচিত। বিয়ের ব্যাপারেত অহেতুক বিলম্ব করা অনেক সময় খুব লজ্জাকর পরিণাম ডেকে আনে। সমাজে মানুষ মুখ দেখানোর যোগ্য থাকে না। এ লজ্জা মাতা-পিতার জীবনে গ্লানিকর হয়ে উঠে। কিন্তু এর দায়-দায়িত্ব মাতা-পিতার উপরও বর্তায়। কেননা তারা সন্তানের বিয়ে দেয়ার ব্যাপারে অলসতা দেখিয়ে থাকে অথবা কোনো শরয়ী ও যুক্তিপূর্ণ কারণ ছাড়া বিলম্ব করে। যৌবনের আবেগ বা উত্তেজনা প্রশমনের সঠিক স্থান না পেলে যুবকদের বিপথে পরিচালিত হবার সমূহ আশংকা থাকে। আর এ জন্যে আপনি খারাপ পরিবেশের দোহাই দিয়ে নিজেকে নিষ্পাপ প্রমাণ করবেন অথবা যুবকদের গালমন্দ দিয়ে নিজেদের অপরাধ হালকা করার নিষ্ফল চেষ্টা চালাবেন তা হতে পারে না। এ রোগের সঠিক চিকিৎসা হলো, আপনি আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য অনুভব করুন এবং এ পর্যায়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে হেদায়াত দিয়েছেন তা অত্যন্ত গুরুত্ব ও মনোযোগের সাথে পালন করুন। বিলম্বে বিয়ের পরিণাম শুধু উদ্ভূত খারাপ পরিস্থিতিই নয়, বরং ইসলামের পরিণাম দৃষ্টিতে আপনি গুনাহগার হিসেবে বিবেচিত হবেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
مَنْ وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ فَلْيُحْسِنُ اسْمُهُ وَادَبَّهُ فَإِذَا بَلَغَ فَلْيُزَوِّجُهُ وَإِنْ بَلَغَ وَلَمْ يُزَوِّجُهُ فَأَصَابَ إِثْمًا فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى أَبِيهِ - بيهقى
"আল্লাহ যাকে সন্তান দান করেছেন তার কাজ হলো, তার ভালো নাম রাখা, তাকে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া এবং যখন সে বালেগ হবে তখন তার বিয়ে দিয়ে দেয়া। বালেগ হবার পর সে সন্তানের বিয়ে না দেয় এবং কোনো গুনাহতে লিপ্ত হয় তাহলে তার শাস্তি পিতার উপর আরোপিত হবে।"-বায়হাকী
অন্য এক স্থানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তাওরাতে লিপিবদ্ধ আছে, "যে ব্যক্তির কন্যার বয়স ১২ বছর হলো এবং সে তার বিয়ে দিলো না এবং সে কোনো খারাপ কাজ করে বসলো তাহলে তার সে খারাপ কাজের শাস্তি পিতার উপর আরোপিত হবে।"
📄 যোগ্য সম্পর্কের সন্ধান
যোগ্য পাত্র বা পাত্রী না পাবার কারণেই সাধারণত বিয়েতে বিলম্ব ঘটে পুত্র অথবা কন্যার জন্য যোগ্য পাত্রী বা পাত্রের আকাঙ্ক্ষা এবং প্রচেষ্টা চালানো খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। বরং এ চিন্তা ও চেষ্টা আপনার জন্য ফরয। ইসলামী শিক্ষার দাবীও হলো যে, আপনি যথাযথ সম্পর্কের জন্য পুরোপুরি চেষ্টা করবেন।
ইসলাম আপনার নিকট এ দাবী কখনো করে না যে, যত খারাপ পাত্র-পাত্রীই আপনি পান তা চোখ বুজে গ্রহণ করবেন। এ প্রশ্নে আপনি কোনো চেষ্টা অথবা অনুসন্ধান চালাবেন না। বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সারা জীবনের ব্যাপার। দুনিয়ার ভাঙ্গা-গড়া পর্যন্তই তার প্রভাব সীমাবদ্ধ থাকে না বরং পরকালীন জীবনের উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। অত্যন্ত গুরু-গম্ভীর বিষয়। জীবন সাথী নির্বাচনে চিন্তা-ভাবনা করা অত্যাবশ্যক।
এটা শুধু চিন্তার বিষয় যে, আপনার চেষ্টা-চরিত্র এ চিন্তা ইসলামের আলোকে হচ্ছে কি-না। জীবন সাথী নির্বাচনের যে মাপকাঠি ইসলাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাই আপনাকে অবলম্বন করতে হবে। নিজের সন্তানের জীবন সাথী নির্বাচনে এসব মৌলক বিষয় সামনে রাখুন। চিন্তা-ভাবনা করে দেখুন যে, দীনে যেসব বিষয়ে কোনো গুরুত্ব নেই সেসব বিষয়ে প্রাধান্য দিয়ে পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে বিলম্ব ঘটাচ্ছেন।
📄 জীবন সঙ্গী নির্বাচনের মাপকাঠি
জীবন সাথী নির্বাচনে সাধারণত পাঁচটি জিনিস সামনে রাখা হয়ে থাকে।
এক: ধন-সম্পদ দুই: বংশ আভিজাত্য তিন: সুশ্রী ও সৌন্দর্য চার: দীন ও আখলাক এবং পাঁচ: শিক্ষা।
এটা নিসন্দেহে বলা যায় যে, এ পাঁচটি বস্তু স্ব স্ব স্থানে গুরুত্বপূর্ণ। এ যুগে ধন-সম্পদের গুরুত্ব কে অস্বীকার করতে পারে। বংশ আভিজাত্যও অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষা করার বিষয় নয়।
জীবন সঙ্গীনি নির্বাচনে সৌন্দর্য ও সুশ্রী হওয়াটাও মৌলিক গুরুত্বের দাবীদার। তা পাত্রী নির্বাচনে বিশেষ করে এ বিষয়টি সিদ্ধান্তমূলক হয়ে থাকে। এ ব্যাপারটিও তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আল্লাহই মানুষকে রুচি এবং সৌন্দর্য প্রদান করেছেন এবং রূপতো পসন্দ করারই বিষয়।
শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজন স্বীকৃত সত্য। বর্তমান যুগে সম্বন্ধ স্থাপনে, শিক্ষার এবং ডিগ্রীকে তো বিশেষভাবে খেয়ালে রাখা হয়। এটাও ঠিক যে উচ্চ শিক্ষার উৎসাহ উদ্দীপনা বৃদ্ধি করে এবং সভ্যতায় সুসজ্জিত করে। উচ্চ শিক্ষা মান-ইজ্জত বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। সচ্ছল জীবন এবং সমাজে মান-সম্মানের কারণ হয়।
রইলো দীন ও আখলাকের কথা। এটাতো স্পষ্ট ব্যাপার যে, মুসলমানের নিকট তার গুরুত্ব ও মূল্য থাকবেই। প্রস্তাবিত ব্যক্তির মধ্যে মুসলমান মাতা-পিতা সবকিছু দেখবেন অথচ দীন ও আখলাকের ব্যাপারটি উপেক্ষা করবেন অথবা কোনো গুরুত্বই দেবেন না, তা হতে পারে না।
আপনার আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং চেষ্টা যদি এ হয় যে, আপনার কন্যা অথবা পুত্রকে এমন জীবন সাথী এনে দেবেন যে, এ পাঁচ গুণে গুণান্বিত। আপনার এ আকাঙ্ক্ষা শুভ। আপনার আশাও ঠিক এবং আপনার প্রচেষ্টাও সঠিক। কোন্ পিতা-মাতা চায় না যে, তার কলিজার টুকরা এসব গুণে গুণান্বিত জীবন সাথী লাভ করুক?
ইসলাম আপনার এ আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং চেতনার কখনো অবমূল্যায়ন করে না। ইসলাম আপনার এ আবেগের মর্যাদা দেয়।
সকল গুণে বিভূষিত দম্পতি যদি পান তাহলে তা হবে আল্লাহর বিশেষ অবদান। সাধারণত প্রত্যেক সম্পর্ক স্থাপনে সকল গুণ এক সাথে পাওয়া খুবই দুষ্কর ব্যাপার। কারোর মধ্যে কিছু গুণ পাওয়া গেলে আবার কিছু মন্দও পাওয়া যায়। প্রকৃতপক্ষে এ ব্যাপারে আপনার পরীক্ষা হলো, নির্বাচনে আপনাকে ইসলামী দৃষ্টিকোণকে সামনে রাখতে হবে এবং ইসলাম এ গুণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে তাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।