📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মায়ের মমতা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিদ্ধান্ত

📄 মায়ের মমতা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিদ্ধান্ত


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে এক ব্যক্তি স্ত্রীকে তালাক দিলো এবং শিশু সন্তান নিজের নিকট রাখতে চাইল। মায়ের অবস্থা ছিল অকল্পনীয়। একদিকে স্বামী থেকে বিচ্ছিন্নতার দুঃখ, অপরদিকে শিশু সন্তান ছিনিয়ে নেয়ার কষ্ট। এ করুণ অবস্থায় মহিলাটি রহমতে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে ফরিয়াদ নিয়ে উপস্থিত হলো এবং নিজের ঘটনা অত্যন্ত দরদপূর্ণ ভাষায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পেশ করলো:
“হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্বামী আমাকে তালাক দিয়ে তার নিকট থেকে পৃথক করে দিয়েছে এবং এখন সে আমার নিকট থেকে এ আদরের পুত্তলিকে ছিনিয়ে নিতে চায়। হে আল্লাহর রাসূল! সে আমার কলিজার টুকরা। আমার পেট তার আরামস্থল। আমার বুকের ছাতি তার মশক সদৃশ এবং আমার কোল তার ঘরের মতো। হে আল্লাহর রাসূল! আমি এ দুঃখ কি করে বরদাশত করবো।”
মহিলাটির এ ফরিয়াদ শুনে রহমতে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি দ্বিতীয় বিয়ে না করবে, ততক্ষণ তোমার নিকট থেকে তোমার সন্তানকে কেউই ছিনিয়ে নিতে পারবে না।”-আবু দাউদ: কিতাবুত তালাক

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের আকাঙ্ক্ষা

📄 হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের আকাঙ্ক্ষা


হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একবার হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ঘটনা শোনালেন। তিনি বললেন, একবার জনৈক ব্যক্তি হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলেন, হযরত! আপনার দৃষ্টিশক্তি কি কারণে ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং আপনার কোমর কেন বেঁকে যাচ্ছে? হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম জবাবে বললেন, দৃষ্টিশক্তি তো ইউসুফ আলাইহিস সালামের চিন্তায় চিন্তায় ক্ষীণ হয়ে আসছে। আর কোমর তার ভাই বিন ইয়ামিনের চিন্তায় বেঁকে গেছে। ঠিক তক্ষুণি হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের নিকট এলেন এবং বললেন, “আপনি আল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন?” হযরত ইয়াকুব আলাইহিস • সালাম বললেন, “না, বরং আল্লাহর দরবারে নিজের দুঃখ কষ্টের ফরিয়াদ পেশ করছি।” হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বললেন, “আপনি আপনার যে দুঃখ বর্ণনা করলেন, তা আল্লাহ খুব ভালোভাবেই জানেন।” অতপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম চলে গেলেন। হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম নিজের কামরায় প্রবেশ করলেন এবং বলতে লাগলেন, হে আমার পরওয়ারদিগার! তোমার কি এক বৃদ্ধ ব্যক্তির উপর রহম হয় না? তুমি আমার চক্ষুও ছিনিয়ে নিয়েছ এবং আমার কোমরও বাঁকিয়ে দিয়েছ। পরওয়ারদিগার! আমার দুটি ফুলকে আমার নিকট ফিরিয়ে দাও। যাতে করে আমি উভয়কে শুধু শুঁকতে পারি। অতপর তুমি যা ইচ্ছে তাই আমার সাথে করো। হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম পুনরায় তাশরিফ আনলেন এবং বললেন, হে ইয়াকুব! আল্লাহ তাআলা তোমাকে সালাম বলেছেন এবং বলেছেন, ইয়াকুব খুশী হয়ে যাও। যদি তোমার দু পুত্র মরে যেত তাহলেও তোমার খাতিরে আমি তাদেরকে জীবিত উঠিয়ে দিতাম। যাতে তুমি উভয়কে দেখে নিজের চক্ষু শীতল করতে পার। -তারগিব ও তারহিব: তৃতীয় খণ্ড

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 রাসূলের দরবারে এক মা’র ফরিয়াদ

📄 রাসূলের দরবারে এক মা’র ফরিয়াদ


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে একজন মহিলা এসে ফরিয়াদ করতে লাগলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি পুত্র আছে। অনেক কাজেই সে আমাকে সাহায্য করে। মহিলা হবার কারণে আমি বাইরে কাজ করতে পারি না। সে কূপ থেকে আমার জন্য পানি এনে দেয় এবং বাইরের অন্যান্য কাজও করে দেয়। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার থেকে বিচ্ছিন্ন আমার স্বামী এ শিশুকেও আমার নিকট থেকে ছিনিয়ে নিতে চায়।"
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাটির ফরিয়াদ শুনে সিদ্ধান্ত দিলেন, "ঠিক আছে, লটারী করো। লটারীতে যার নাম আসবে সে শিশু পুত্রকে সাথে নিয়ে যাবে। পুত্রের পিতা বললো, “হে আল্লাহর রাসূল! সে আমার পুত্র। অন্য কেউ তাকে সাথে নিয়ে যাবার দাবী কি করে করতে পারে? আর আমি থাকতে অন্য কেউ তাকে কি করে নিয়ে যেতে পারে?"
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাতা-পিতা উভয়ের কথা শুনে পুত্রের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, "বেটা! ইনি তোমার পিতা এবং ইনি তোমার মাতা। যাকে চাও তার হাত ধরে চলে যাও। এ স্বাধীনতা তোমার রয়েছে। পুত্র নিজের স্থান থেকে উঠে দাঁড়ালো। অতপর নিজের মা'র কাছে গেল এবং তার হাত ধরলো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00