📄 মুসলমান মা’র ভালোবাসার পার্থক্য
সন্তানের প্রতি ভালোবাসা একটি সহজাত আবেগ। এজন্য ধর্ম ও আদর্শ নির্বিশেষে প্রত্যেক মাতা-পিতা নিজের সন্তানকে স্নেহ করে থাকে। কোনো মাতা-পিতা যদি ধর্ম এবং স্রস্টায় বিশ্বাসী নাও হয়, তবুও সে সন্তানকে ভালোবাসে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মুসলমান মাতা-পিতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর এ বৈশিষ্ট্য ইসলাম বঞ্চিত মাতা-পিতা কখনই লাভ করতে পারে না। সন্তানকে ভালোবেসে একজন অমুসলিম মা-ও নিজের সহজাত আবেগ পূরণ করে। আবার একজন মুসলমান মা-ও এ আবেগই পূরণ করে থাকে। কিন্তু মুসলমান মা'র পৃথক বৈশিষ্ট্য হলো যে, সন্তানকে সে এ অনুভূতিতে ভালোবাসে যে, এটা সন্তানের অধিকার, দীনের দাবী এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কিরামদের সুন্নাত। সন্তানের প্রতি স্নেহ প্রদর্শন শুধুমাত্র প্রকৃতিগত আবেগ পূরণেই নয় বরং আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তুষ্টিকরণ, আখেরাতে প্রতিদান পাওয়া এবং পরকালীন মুক্তির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা। এ সুতীব্র অনুভূতির কারণে মুসলমান মায়ের অন্তরে বিরাট আবেগ ও অসাধারণ শক্তির সঞ্চালন হয় এ অনুভূতি সম্পন্ন ভালোবাসা শুধুমাত্র প্রকৃতিগত ভালোবাসার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। দীনি অনুভূতিতে আবেগাপ্লুত ভালোবাসা পোষণকারী মা'র ভালোবাসা অন্ধ ভালোবাসা হতে পারে না। সে দীনের হেদায়াত অনুযায়ী সন্তানকে ভালোবেসে থাকে এবং কখনো আবেগবশত সে এমন পদ্ধতি অবলম্বন করে বসে না যা তার এবং সন্তানের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
📄 সন্তান পরীক্ষার মাধ্যম
সন্তানের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন সন্তানের অধিকার আবার এটা মাতা-পিতার পরীক্ষার মাধ্যমও। আল্লাহ সন্তানের প্রতি ভালোবাসার সহজাত আবেগ প্রদান করে সে আবেগের পৃষ্টপোষকতাও করেছেন এবং সাথে সাথে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেও বলা হয়েছে যে, সন্তানের ব্যাপারে হুশিয়ার থেকো। কেননা কোনো কোনো সময় এ সন্তানই মানুষের শত্রু হয়ে যায়। তাদের প্রতি অহেতুক ভালোবাসার জালে আবদ্ধ হয়ে মানুষ ভারসাম্য খুইয়ে বসে এবং দীন থেকে অনেক দূরে ছিটকে পড়ে। তাদের জন্য সে অন্যের হক বা অধিকার কেড়ে নেয়। হালাল-হারামের পার্থক্য খুইয়ে বসে। আল্লাহর ইবাদাত ও আনুগত্য থেকে গাফেল হয়ে পড়ে। ঈমান ও ইসলামের দাবীসমূহ ভুলে যায়। বড়ো বড়ো নেক কাজ থেকে পিছিয়ে যায় এবং ভুল পথে পড়ে নিজের পরকাল ধ্বংস করে বসে। এজন্য আল্লাহ পাক বলেছেন, সন্তান সম্পর্কে হুশিয়ার থেকো। কিছু কিছু সন্তান এ দিক থেকে মানুষের শত্রুতে পরিণত হয়।
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ عَدُوًّا لَّكُمْ فَاحْذَرُوهُمْ “হে মুমিনগণ, তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের কেউ কেউ তোমাদের শত্রু। এজন্যে তাদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো।”-সূরা আত তাগাবুন : ১৪
সন্তান সম্পর্কে সাবধানতা অবলম্বনের অর্থ হলো, মানুষ তাদের ভালোবাসায় এমনভাবে যেন আবদ্ধ হয়ে না পড়ে যাতে সে দীন ও ঈমানের দাবীসমূহ থেকে গাফেল হয়ে পড়ে। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা যদি দীনের রাস্তায় অগ্রসর হওয়া এবং দীনের খাতিরে কুরবানী প্রদানে বাধা প্রদান করে তাহলে তা হবে শত্রুতা, এজন্য মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো সময়ই যেন তাদের প্রতি ভালোবাসা দীনের প্রতি ভালোবাসার উপর বিজয়ী হতে না পারে। এবং তাদের কারণে মানুষ দীনি ক্ষেত্র থেকে পিছিয়ে না পড়ে। হিজরাতের পূর্বে কিছু মানুষ মক্কায় ঈমান এনেছিলো। কিন্তু ইসলাম গ্রহণ সত্ত্বেও হিজরাতকারী مسلمانوں সাথে মদীনায় হিজরাত করতে পারেননি। মু'মিন হওয়া সত্ত্বেও হিজরাতের সৌভাগ্য থেকে শুধুমাত্র এজন্য বঞ্চিত ছিলেন যে, তারা স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি অহেতুক ভালোবাসায় ফেঁসে গিয়েছিলেন এবং তাদেরকে মদীনা গমন থেকে বিরত রেখেছিল। এ সকল মুসলমান 'হিজরাতের' মতো সৌভাগ্য থেকে এজন্য বঞ্চিত ছিলেন যে, তারা সন্তানদের প্রতি ভালোবাসার প্রশ্নে সতর্ক ছিলেন না এবং সন্তানের ভালোবাসায় এমন মশগুল হয়ে পড়েছিলেন যে, দীনের ডাকে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। পবিত্র কুরআন এ অর্থে সন্তানকে ফিতনা ও পরীক্ষা বলেও অভিহিত করেছে। একদিকে তাদের প্রতি প্রকৃতিগত ভালোবাসার আবেগ অন্যদিকে দীন ও ঈমানের দাবী। তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন এবং তাদের অধিকার আদায়ের প্রতিও তাকিদ দেয়া হয়েছে। আবার সাথে সাথে এ সতর্কবাণীও উচ্চারিত হয়েছে যে, সন্তান পরীক্ষার মাধ্যম। এজন্যে তাদের ভালোবাসায় এমনভাবে মগ্ন হয়ে পড়ো না যাতে দীন ও ঈমানের দাবীসমূহ ভুলে বসতে পারো :
إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ فِنْتَةٌ ، ( التغابن : ١٥
"ঘটনা এই যে, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সন্তান তোমাদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ।"-সূরা আত তাগাবুন : ১৫
অন্য স্থানে ইরশাদ হয়েছে:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادِكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ ، وَمَنْ يَفْعَلُ ذَالِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخُسِرُونَ المنافقون : ٩
“হে ঈমানদাররা! তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সন্তান যেন তোমাদেরকে আল্লাহর যিকর থেকে গাফেল না করে দেয় এবং যে এটা করবে সে বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"-সূরা মুনাফিকুন : ৯
এ আয়াতের তাৎপর্য হলো, মুনাফিকরা সম্পদ ও সন্তানের ভালোবাসায় ফেঁসে গিয়েছিল। বস্তুগত আকাঙ্ক্ষায় তারা বিভোর ছিল এবং দুনিয়ার বিনিময়ে আখেরাতকে ভুলে বসেছিল। আর এটাই সবচেয়ে বড়ো ক্ষতি যে, মানুষ নশ্বর জগতের জন্য চিরকালীন জীবনের সীমাহীন নেয়ামতসমূহ থেকে মাহরুম হয়ে যাবে। এজন্য মুসলমানদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।
একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নববীতে খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় হযরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু লাল রংয়ের জামা পরে মসজিদে এসে উপস্থিত। তারা খুবই ছোট ছিলেন। কোনো মতে পায়ের উপর ল্যাচৎ খেতে খেতে তারা আসছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা সহ্য করতে পারলেন না। মিম্বর থেকে নেমে পড়লেন। নাতিদ্বয়কে কোলে উঠিয়ে নিজের নিকটে এনে বসালেন। অতপর বললেন, আল্লাহ সত্যি বলেছেন:
إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادِكُمْ فِتْنَةٌ - التغابن : ١٥ "বাস্তব কথা হলো তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সন্তান তোমাদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ।"-সূরা আত তাগাবুন: ১৫
হযরত খাওলা বিনতে হাকিম রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন বড়ো নেক্কার মহিলা ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেছেন, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইরে তাশরীফ নিলেন। তিনি নিজের কোনো নাতিকে কোলে নিয়েছিলেন এবং তাকে বলছিলেন, "তোমরাই মানুষকে বখিল বানিয়ে দাও, তোমরাই মানুষকে বুযদিল বানিয়ে দাও এবং তোমরাই মানুষকে অজ্ঞতা ও মূর্খতার মধ্যে নিক্ষেপ করো।"-জামে তিরযিমী
সত্য কথা হলো, সন্তান-সন্ততির কারণে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের দুর্বলতা সৃষ্টি হয়, তাদের কারণেই তার বীরত্ব নিঃশেষ হয়ে যায় এবং সে ভীরুতে পরিণত হয়। অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রযাত্রা থেকে সে হতচকিয়ে যায়। আল্লাহ না করুন পরিণাম যদি খারাপ হয় তাহলে সন্তানদের কি হবে। তাদের প্রয়োজনকে খেয়াল রেখে খুব সতর্কতার সাথে খরচ করে এবং তাদের কারণেই আবেগের ফেরে পড়ে কোনো কোনো সময় মূর্খ ও নাদানের মতো কাজ করে বসে।
ইসলাম সন্তানের প্রতি ভালোবাসার আবেগকে খাটো করেও দেখে না এবং তাতে বাধাও প্রদান করে না বরং তাকে প্রিয় এবং উদ্দেশ্যপূর্ণ আখ্যায়িত করে তাতে উদ্বুদ্ধ করে। অবশ্যই ইসলাম এ ব্যাপারে আবশ্যিকভাবে তাকিদ দেয় যে, মুসলমান নিজের সন্তানকে দীনের আলোকে ভালোবাসবে। এ ব্যাপারে দীনের হেদায়াতসমূহকে আবশ্যিকভাবে সামনে রাখবে এবং এমন কোনো ভূমিকা অবশ্যই গ্রহণ করবে না যা আল্লাহ অপসন্দ করেন।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ دَخَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَبِي سَيْفِ الْقَيْنِ وَكَانَ ظِيْرًا لِإِبْرَاهِيمَ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَبَّلَهُ وَشَمَّهُ ثُمَّ دَخَلْنَا عَلَيْهِ بَعْدَ ذَالِكَ وَإِبْرَاهِيمُ يَجُودُ بِنَفْسِهِ فَجَعَلْتُ عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَزْرَفَانِ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ يَا ابْنَ عَوْفٍ إِنَّهَا رَحْمَةً ثُمَّ اتَّبَعَهَا بَأُخْرَى فَقَالَ إِنَّ الْعَيْنَ تَدْمَعُ وَالْقَلْبُ يَحْزُنُ وَلَا نَقُولُ إِلَّا مَا يَرْضَى رَبُّنَا وَإِنَّا بِفِرَاقِكَ يَا إِبْرَاهِيمُ لَمَحْزُونُونَ - بخاری، مسلم
"হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আবু সাইফ কামারের বাড়ী গেলাম। আবু সাইফ নবী পুত্র হযরত ইবরাহীমের দুধ মাতার স্বামী ছিলেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের পুত্রকে কোলে নিলেন। তাকে আদর করলেন এবং তাকে শুঁকলেন এবং (অর্থাৎ তার মুখের উপর নিজের নাক এবং মুখকে এমনভাবে রাখলেন এবং যেন শুঁকলেন)। অতপর যখন আমরা সেখানে গেলাম তখন হযরত ইবরাহীমের শ্বাস বেরিয়ে গেছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুটি চক্ষু দিয়ে অশ্রু টপ টপ করে পড়ছে। এ দৃশ্য দেখে আবদুর রহমান বিন আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও কাঁদছেন? তিনি বললেন, ইবনে আওফ! এ অশ্রু রহমাতের নিদর্শন এবং তার অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। তিনি বললেন, চোখ অশ্রু ঝরায় এবং অন্তরে লাগে দুঃখ। আমরা যবান দিয়ে শুধু তাই বলি, যা আমাদের পরওয়ারদিগার পসন্দ করেন। হে ইবরাহীম! আমরা তোমার বিচ্ছিন্নতায় শোকাভিভূত।”
📄 সন্তানের সাথে রুক্ষ ব্যবহার
কিছু কিছু লোক সন্তানের সাথে হাসা ও খেলা করা, তাদের নিয়ে মশগুল থাকা, তাদেরকে কোলে নিয়ে খাওয়ানো, চুমু দেয়া এবং আদর করাকে দীনদারির খেলাফ মনে করে থাকে। তাদের নিকট দীনদারি এবং গাম্ভির্যের দাবী হলো, সন্তানের সাথে হাসি-খুশীর সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। সন্তান থেকে পৃথক ও বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। তাদের সাথে মেলামেশা করার পরিবর্তে সম্পর্কহীনতা দেখাতে হবে এবং ভালোবাসা প্রকাশের চেয়ে কঠোরতা ও রুক্ষতা প্রদর্শন করতে হবে। ইসলাম এ ধরনের ধ্যান-ধারণার কখনই পৃষ্ঠপোষকতা করে না। এটা দীনি ধ্যান-ধারণা এবং দীন সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাবের পরিণতি। এর বিপরীত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হেদায়াত এবং তাঁর আমল থেকে পরিষ্কার জানা যায় যে, সন্তানের প্রতি স্নেহ ও ভালোবাসা প্রদর্শন একটি পসন্দনীয় কাজ। সে ব্যক্তির অন্তর দয়া ও মায়া থেকে অবশ্যই শূন্য, যে নিজের সন্তানকে ভালোবাসে না। সন্তান চক্ষু শীতলকারী। তাদের প্রতি স্নেহ এবং ভালোবাসা প্রদর্শন পরকালীন সাফল্যের মাধ্যম হবে। আর এ থেকে বঞ্চনার অর্থ হলো আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চনা।
📄 সন্তানকে চুম্বন দান আল্লাহর রহমাতের কারণ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَبَّلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَسَنَ بْنَ عَلِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَعِنْدَهُ الأَقْرَعُ بْنُ حَابِسِ التَّمِيمِي جَالِسٌ فَقَالَ الْأَقْرَعُ إِنَّ لِي عَشَرَةً مِّنَ الْوَلَدِ مَا قَبَّلْتُ مِنْهُمْ أَحَدًا فَنَظَرَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ مَنْ لا يَرْحَمْ لَا يُرْحَمْ -
"হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাতি হযরত হাসান ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে চুম্বন দিলেন এবং আদর করলেন। সে সময় আকরা বিন হাবিসও সেখানে বসেছিলেন। বলতে লাগলেন, আমার তো ১০টা বাচ্চা। কিন্তু আমি তো কখনো কোনো একটি বাচ্চাকেও আদর করিনি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিকে তাকালেন এবং বললেন, “যে রহম করে না, আল্লাহও তার প্রতি রহম করেন না।”
অর্থাৎ নিজের সন্তানকে চুমু দেয়া এবং আদর করা রহম ও মেহেরবানীর নিদর্শন। তারাই নিজের সন্তানকে চুমু ও আদর করে যাদের অন্তরে আল্লাহ দয়া দিয়েছেন এবং আল্লাহ তাদের উপরই রহম করেন যারা অন্যের উপর রহম করে থাকেন। যারা অন্যের উপর রহম করে না তারা নিজেও রহম থেকে বঞ্চিত হয়।
عَنْ أَسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ أَرْسَلَتِ ابْنَةُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِ إِنَّ ابْنَا لِي قُبِضَ فَأْتِنَا فَارْسَلَ يُقْرِئُ السَّلَامَ وَيَقُولُ إِنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أعطى وَكُلُّ عِنْدَهُ بَاَجَلٍ مُّسَمًّى فَلْتَصْبِرُ وَلتَحْتَسِبُ فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ تُقْسِمُ عَلَيْهِ لَيَأْتِيَنَّهَا فَقَامَ وَمَعَهُ سَعْدُ بْنُ عِبَادَةَ وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ وَأَبَى بَنْ كَعَبٍ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ وَرِجَالٌ فَرُفِعَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّبِيُّ وَنَفْسُهُ تتَقَقَعُ فَضَاضَتْ عَيْنَاهُ فَقَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هُذَا ؟ فَقَالَ هُذِهِ رَحْمَةٌ جَعَلَهَا اللهُ فِي قُلُوبِ عِبَادِهِ فَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللَّهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاء - بخاری، مسلم
"হযরত উসামা বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা যয়নব রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁকে ডেকে আনার জন্য সংবাদ বাহক পাঠালেন এবং বলে পাঠালেন যে, "আমার বাচ্চার শেষ সময় সমুপস্থিত, আপনি একটু দীর্ঘক্ষণ থাকার জন্য তাশরীফ আনুন।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ বাহককে বলে পাঠালেন, "গিয়ে আমার সালাম বলবে এবং বলবে তিনি বলেছেন, যা তিনি নিয়ে নিয়েছেন তা আল্লাহর এবং যা দিয়েছেন তাও আল্লাহরই এবং প্রত্যেক জিনিসকেই এখানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকতে হবে। অতএব, তুমি ধৈর্য ধর এবং তার নিকট প্রতিদান ও সওয়াবের আশা রাখো।"-বুখারী ও মুসলিম
হযরত যয়নব রাদিয়াল্লাহু আনহা পুনরায় ডাকালেন এবং কসম দিলেন, "আপনি অবশ্যই তাশরীফ আনুন।” সুতরাং তিনি কন্যার নিকট যাওয়ার জন্য উঠলেন। তাঁর সাথে হযরত সায়াদ বিন উবাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু, মায়ায বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু, উবাই বিন কায়াব রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং যায়েদ বিন সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু ছাড়া আরো কিছু লোক ছিলেন। তিনি হযরত যয়নব রাদিয়াল্লাহু আনহার গৃহে পৌঁছলে শিশুটিকে তাঁর কোলে দেয়া হলো। সে সময় শিশুটির রূহ কবজ করা হচ্ছিল। এ দৃশ্য দেখে তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়ে গেল। সায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি? আপনিও কাঁদছেন! তিনি বললেন, এটা রহম। যা আল্লাহ বান্দাদের অন্তরে সৃষ্টি করেছেন যারা পরস্পরের প্রতি রহম করে থাকেন।"