📄 আল্লাহর নিকট সবচেয়ে খারাপ নাম
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْنَى الْأَسْمَاءِ عِنْدَ اللَّهِ رَجُلٌ تُسَمَّى مَلِكُ الْأَمْلاكِ - الادب المفرد
"হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট চূড়ান্ত খারাপ ও ক্রোধ সম্বলিত নাম হলো কোনো ব্যক্তিকে মালিকুল আমলাক নামে ডাকা।"
মালিকুল আমলাক শব্দের অর্থ হলো, বাদশাহদের বাদশাহ। ফারসীতে তার অর্থ হলো শাহানশাহ। অর্থের দিক থেকে এটা অত্যন্ত খারাপ নাম। কেননা এতে শিরকের ইঙ্গিত রয়েছে। ক্ষমতা এবং বাদশাহী এককভাবে আল্লাহর অধিকারভুক্ত। এ অধিকারের অন্য কারো অংশীদার নেই। সহীহ মুসলিমে এ শব্দও রয়েছে। এর অর্থ হলো বাদশাহী এবং ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য।
📄 সম্বোধককে তার পছন্দনীয় নামে ডাকা
কারোর নাম নিয়ে যখন আপনি ডাকেন তখন আপনি তার পসন্দনীয় নামসহও ডাকতে পারেন। এজন্য সবসময় অন্যদেরকে সে নামেই ডাকুন যা তার নিকট পসন্দনীয়। এতে সম্বোধক নিজের ইজ্জত বৃদ্ধি অনুভব করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা অত্যন্ত পসন্দ করতেন যে, যে নাম এবং কুনিয়াত যে ব্যক্তির নিকট সবচেয়ে বেশী পসন্দনীয় তাকে সে নামে এবং কুনিয়াতে ডাকতে হবে।
📄 হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রিয় নাম
রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন জামাতা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর গৃহে গেলেন। হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা গৃহে একাকী ছিলেন। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন না। কন্যাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের চাচার পুত্র কোথায়?” কন্যা জানালেন, "আমার এবং তার মধ্যে রাগারাগি হয়েছে। সে আমার উপর বিগড়ে গেছে এবং ক্রোধান্বিত হয়ে কোথায় যেন চলে গেছে। দুপুরের খাওয়ার পর সে এখানে বিশ্রামও নেয়নি।"
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজনকে বললেন, "একটু দেখে এসোতো আলী কোথায়?" লোকটি বললো, "সে মসজিদের দেয়ালে ঠেস দিয়ে শুয়ে রয়েছে।" নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পেছনে পেছনে গেলেন। তিনি দেখলেন যে, সে চিত হয়ে শুয়ে আছে। চাদরও ঠিক-ঠাক নেই এবং শরীরে মাটি লেগে আছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পিঠ থেকে মাটি ঝেড়ে ফেলছিলেন এবং বলছিলেন, "আবু তুরাব! উঠে বসো।"
📄 আদরের সাথে সংক্ষিপ্ত নাম উচ্চারণ
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো কোনো সময় আদর করে পুরো নাম উচ্চারণের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত নামও নিতেন। যেমন আয়েশার পরিবর্তে আয়েশ এবং ওসমানের পরিবর্তে ওস্ম।
স্নেহ ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য স্বভাবত আপনিও কোনো কোনো সময় এমন করে থাকেন। এতে দোষণীয় কিছু নেই। কেননা এ কাজ নাম বিগড়ানোর জন্য করা হয় না বরং ভালোবাসার আবেগ প্রকাশের জন্য হয়ে থাকে। হযরত আবু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন:
أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عَائِشَ : هَذَا جِبْرِيلُ يُقْرِئُ عَلَيْكَ السَّلَامَ قَالَتْ : وَعَلَيْهِ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ قَالَتْ وَهُوَ يَرَى مَالَا أَرَى -
"হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হে আয়েশা! ইনি জিবরাঈল। তোমাকে সালাম দিচ্ছেন।” এ সময় আয়েশা বললেন, “তাঁর উপরও সালাম এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।” এবং বললেন, “নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সব দেখছিলেন যা আমি দেখছিলাম না।”-আল আদাবুল মাফরুজ
কখনো যদি কারো নাম স্মরণ না থাকে এবং তাকে ডাকার প্রয়োজন হয় তাহলেও তাকে কোনো বিশ্রী অথবা খারাপ নামে সম্বোধন করবেন না। কোনো ভালো শব্দ প্রয়োগ করে নিজের দিকে ডাকুন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো সময় কারোর নাম স্মরণ থাকতো না তখন তিনি হে আবদুল্লাহর পুত্র! বলে সম্বোধন করতেন।