📄 খারাপ নামের খারাপ প্রভাব
মদীনার মশহুর তাবেয়ী মুহাদ্দিস হযরত সাঈদ বিন মুসায়্যিব নিজের দাদা হুরুন-এর ঘটনা বর্ণনা করে বলেছেন, একবার সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাজির হলেন। এ সময় তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কি?” তিনি বললেন, "আমার নাম হায়ন।” তিনি বললেন না, "তোমার নাম হায়ন নয় বরং তোমার নাম হলো সাহালা।” হায়ন বললো, আমি তো নিজের পিতা প্রদত্ত নাম পরিবর্তন করে দ্বিতীয় কোনো নাম রাখবো না।
সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব বলেন, এ কারণেই আমাদের বংশে তারপর থেকে এখন পর্যন্ত অব্যাহতভাবে দুঃখ চলে আসছে।
📄 আল্লাহর নিকট সবচেয়ে খারাপ নাম
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْنَى الْأَسْمَاءِ عِنْدَ اللَّهِ رَجُلٌ تُسَمَّى مَلِكُ الْأَمْلاكِ - الادب المفرد
"হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট চূড়ান্ত খারাপ ও ক্রোধ সম্বলিত নাম হলো কোনো ব্যক্তিকে মালিকুল আমলাক নামে ডাকা।"
মালিকুল আমলাক শব্দের অর্থ হলো, বাদশাহদের বাদশাহ। ফারসীতে তার অর্থ হলো শাহানশাহ। অর্থের দিক থেকে এটা অত্যন্ত খারাপ নাম। কেননা এতে শিরকের ইঙ্গিত রয়েছে। ক্ষমতা এবং বাদশাহী এককভাবে আল্লাহর অধিকারভুক্ত। এ অধিকারের অন্য কারো অংশীদার নেই। সহীহ মুসলিমে এ শব্দও রয়েছে। এর অর্থ হলো বাদশাহী এবং ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য।
📄 সম্বোধককে তার পছন্দনীয় নামে ডাকা
কারোর নাম নিয়ে যখন আপনি ডাকেন তখন আপনি তার পসন্দনীয় নামসহও ডাকতে পারেন। এজন্য সবসময় অন্যদেরকে সে নামেই ডাকুন যা তার নিকট পসন্দনীয়। এতে সম্বোধক নিজের ইজ্জত বৃদ্ধি অনুভব করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা অত্যন্ত পসন্দ করতেন যে, যে নাম এবং কুনিয়াত যে ব্যক্তির নিকট সবচেয়ে বেশী পসন্দনীয় তাকে সে নামে এবং কুনিয়াতে ডাকতে হবে।
📄 হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রিয় নাম
রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন জামাতা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর গৃহে গেলেন। হযরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা গৃহে একাকী ছিলেন। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন না। কন্যাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের চাচার পুত্র কোথায়?” কন্যা জানালেন, "আমার এবং তার মধ্যে রাগারাগি হয়েছে। সে আমার উপর বিগড়ে গেছে এবং ক্রোধান্বিত হয়ে কোথায় যেন চলে গেছে। দুপুরের খাওয়ার পর সে এখানে বিশ্রামও নেয়নি।"
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজনকে বললেন, "একটু দেখে এসোতো আলী কোথায়?" লোকটি বললো, "সে মসজিদের দেয়ালে ঠেস দিয়ে শুয়ে রয়েছে।" নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পেছনে পেছনে গেলেন। তিনি দেখলেন যে, সে চিত হয়ে শুয়ে আছে। চাদরও ঠিক-ঠাক নেই এবং শরীরে মাটি লেগে আছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পিঠ থেকে মাটি ঝেড়ে ফেলছিলেন এবং বলছিলেন, "আবু তুরাব! উঠে বসো।"