📄 ভালো নামের শুভ সূচনা
হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক উটনী দোহানোর জন্য লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন :
مَنْ يَحْلُبُ هَذِهِ ؟ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اسْمُكَ ؟ قَالَ : مُرَّةَ، فَقَالَ لَهُ : اجْلِسُ ثُمَّ قَالَ : مَنْ يَحْلُبُ هَذِهِ ؟ فَقَامَ رَجُلٌ ، فَقَالَ لَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اسْمُكَ ؟ قَالَ حَرْبٌ ، فَقَالَ لَهُ اجْلِسُ ثُمَّ قَالَ مَنْ يَحْلُبُ هَذِهِ ؟ فَقَامَ رَجُلٌ ، فَقَالَ لَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اسْمُكَ ؟ قَالَ : يَعِيشُ فَقَالَ لَهُ احْلُبْ - جمع الفوائد بحواله مؤطا امام مالك رح
"এ উটনীকে কে দোহন করবে ? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো, তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি ? সে বললো, তার নাম হলো মুররাহ। তিনি বললেন, বসো। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন এ উটনীকে কে দোহন করবে ? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি ? সে বললো, তার নাম হারব। তিনি বললেন, বসে যাও। অতপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ উটনীকে কে দোহন করবে ? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি ? সে বললো, তার নাম ইয়ায়িশ। তিনি বললেন, ঠিক আছে তুমি দুধ দোহন কর। -জাময়ুল ফাওয়াদে বাহাওয়ালা মুয়াত্তা ইমাম মালিক
প্রথম দু নামের ভাবার্থ অপসন্দনীয় এবং সর্বশেষ নামের ভাবার্থ পসন্দনীয়। ইয়ায়িশ শব্দ জীবন্ত থাকার অর্থবোধক।
এমনিভাবে ইমাম বুখারীও একটি হাদীস নকল করেছেন।
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের এ উটকে কে হাকিয়ে নিয়ে যাবে ? অথবা তিনি বলেছিলেন, "কে তাকে পৌঁছাবে?" এক ব্যক্তি বললো, আমি। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কি?" সে বললো, আমার নাম হলো এই। তিনি বললেন, "বসে যাও।" অতপর দ্বিতীয় ব্যক্তি এ উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে গেল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কি?" তিনিও বললেন, "আমার নাম এই।"তিনি বললেন, "বসে যাও।" অতপর তৃতীয় ব্যক্তি দাঁড়ালো। তার নিকটও তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কি?" সে বললো, তাঁর নাম নাজিয়াহ।” এ সময় তিনি বললেন, "তুমি এ কাজের উপযুক্ত। হাঁকিয়ে নিয়ে যাও।”
📄 হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি কৌতুক
হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন তোমার নাম কি? সে বললো, "অঙ্গার।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, পিতার নাম কি? সে বললো, "অগ্নি শিখা।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোন্ কবিলার? বললো, 'জ্বলন” কবিলার। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বাড়ী কোথায়? বললো, "আগুনের গরম টিলার উপর।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আগুনের কোন্ টিলার উপর? বললো, প্রজ্জ্বলিত টিলার উপর।" একথা শুনে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, জলদী যাও। ঘরের মানুষদের খবর দাও। তারা সবাই পুড়ে গেছে। ঠিক তাই হয়েছিল যা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন। -জাময়ুল ফাওয়ায়েদ
📄 নামের সম্মান প্রদর্শন
হযরত আবু রাফে' রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِذَا سَمَّيْتُم مُحَمَّدًا فَلَا تَضْرِبُوهُ وَلَا تَحْرِمُوهُ - "যখন তোমরা কারোর নাম মুহাম্মাদ রাখবে তখন তাকে তোমরা মারবে না এবং বঞ্চিত করবে না।"-জাময়ুল ফাওয়ায়েদ
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
تسمونهم مُحَمَّدًا ثُمَّ تَلْعَنُونَهُم - "তোমরা শিশুদের নাম মুহাম্মাদও রাখবে আবার তাকে অভিশাপ ও গালাগালও দেবে।"
অর্থাৎ এ নামের সম্মানে শিশুদের সাথে কোনো খারাপ ব্যবহার করবে না। এমনিতেই শিশুদের সাথে খারাপ আচরণ অপসন্দনীয় কাজ। আর যদি শিশুর নাম মুহাম্মাদ হয় তাহলে আরো বেশী খেয়াল রাখতে হবে। কেননা এ নামের সম্মান প্রদর্শনও আবশ্যক।
📄 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রস্তাবিত কতিপয় নাম
এক: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালামের পুত্র হযরত ইউসুফ বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার নাম ইউসুফ রেখেছেন। আমাকে তাঁর কোলে চড়িয়েছেন এবং আমার মাথায় হাত বুলিয়েছেন।
দুই : হযরত আবু মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমার প্রথম সন্তান জন্ম হলে আমি তাকে নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাজির হলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইবরাহীম। খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দিলেন এবং খায়ের ও বরকতের দোয়া দিয়ে আমার নিকট ফিরিয়ে দিলেন।
তিন : হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুও নিজের তিন পুত্রের নাম রেখেছিলেন হারব। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের নাম পরিবর্তন করে হাসান, হুসাইন এবং মুহসিন রাখেন।