📄 ভালো নাম রাখার হেদায়াত ও হিকমত
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكُمْ تُدْعُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ ، وَأَسْمَاءِ آبَاءِ كُمْ فَاحْسِنُوا أَسْمَائِكُم - ابو داود عن أبي الدردا
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে নিজের এবং পিতার নামে ডাকা হবে। অতএব ভালো নাম রাখো।"
📄 আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় নাম
عَنْ أَبِي وَهَبْ رَض عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : تُسَمُّوا بِأَسْمَاءِ الْأَنْبِيَاءِ وَأَحَبُّ الْأَسْمَاءِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ عَبْدُ اللَّهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ وَاصْدَقُهَا حَارِثُ وَهَمَّامُ وَأَقْبَحْهَا حَرْبُ وَمُرَّة - الادب المفرد وجمع الفوائد ج ۲ ص ٤٠٦ بحو اله ابوا داود ونسائي
“হযরত আবু ওয়াহাব নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, নবীদের নামে নাম রাখো এবং আল্লাহর নিকট পসন্দনীয় নাম হলো আবদুল্লাহ এবং আবদুর রহমান। প্রিয় নাম হলো হারেছ এবং হাম্মام এবং অত্যন্ত অপসন্দনীয় নাম হলো হারব ও মুররাহ।"
'আল্লাহ' শব্দ আল্লাহর জাতি নাম। রহমান ইসলামের আল্লাহর জাতি নাম নয়। অবশ্য ইসলামের পূর্বে কতিপয় জাতির মধ্যে এটা আল্লাহর জাতিনাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এজন্যে তারও অন্যান্য গুণের বা ছিফাতের তুলনায় গুরুত্ব রয়েছে। হাদীসে শুধু এ দু নামের উল্লেখ্যের উদ্দেশ্য এ নয় যে, শুধু এ দু নামই রাখা যাবে এবং শুধু এ আল্লাহর নিকট পসন্দনীয়। বরং এটাকে উদাহরণস্বরূপ বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহর কোনো সিফাতের সাথে আবদ শব্দ লাগিয়ে নাম রাখা হলে তাই আল্লাহর নিকট পসন্দনীয় নাম। সম্ভবত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধুমাত্র এ দু নামের উল্লেখ এজন্যেও করে থাকতে পারেন যে, পবিত্র কুরআনে আবদের সম্বন্ধের সাথে এ দু নামের উল্লেখ করা হয়েছে।
হারিছ সে ব্যক্তিকে বলা হয়, যে কৃষি এবং আয়ের কাজে লেগে থাকে, যদি সে হালাল উপায়ে দুনিয়া কামাই করে তাহলেও উত্তম আর যদি সে পরকাল কামাইয়ে লেগে থাকে তাহলে তার থেকে উত্তম আর কি হতে পারে।
হাম্মাম : সুদৃঢ় ইচ্ছাকারী ব্যক্তিকে বলা হয়, যে এক কাজ শেষে অন্য কাজে লেগে যায়।
হারব : যুদ্ধকে বলা হয়, এটা স্বতসিদ্ধ কথা যে, যুদ্ধ কোনো পসন্দনীয় কাজ নয়।
মুররাহ : তেতো জিনিসকে বলা হয়, আর তেতো বস্তুতো সবার নিশ্চয়ই অপসন্দনীয়।
📄 ভালো নামের শুভ সূচনা
হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক উটনী দোহানোর জন্য লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন :
مَنْ يَحْلُبُ هَذِهِ ؟ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اسْمُكَ ؟ قَالَ : مُرَّةَ، فَقَالَ لَهُ : اجْلِسُ ثُمَّ قَالَ : مَنْ يَحْلُبُ هَذِهِ ؟ فَقَامَ رَجُلٌ ، فَقَالَ لَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اسْمُكَ ؟ قَالَ حَرْبٌ ، فَقَالَ لَهُ اجْلِسُ ثُمَّ قَالَ مَنْ يَحْلُبُ هَذِهِ ؟ فَقَامَ رَجُلٌ ، فَقَالَ لَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اسْمُكَ ؟ قَالَ : يَعِيشُ فَقَالَ لَهُ احْلُبْ - جمع الفوائد بحواله مؤطا امام مالك رح
"এ উটনীকে কে দোহন করবে ? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো, তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি ? সে বললো, তার নাম হলো মুররাহ। তিনি বললেন, বসো। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন এ উটনীকে কে দোহন করবে ? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি ? সে বললো, তার নাম হারব। তিনি বললেন, বসে যাও। অতপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ উটনীকে কে দোহন করবে ? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি ? সে বললো, তার নাম ইয়ায়িশ। তিনি বললেন, ঠিক আছে তুমি দুধ দোহন কর। -জাময়ুল ফাওয়াদে বাহাওয়ালা মুয়াত্তা ইমাম মালিক
প্রথম দু নামের ভাবার্থ অপসন্দনীয় এবং সর্বশেষ নামের ভাবার্থ পসন্দনীয়। ইয়ায়িশ শব্দ জীবন্ত থাকার অর্থবোধক।
এমনিভাবে ইমাম বুখারীও একটি হাদীস নকল করেছেন।
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের এ উটকে কে হাকিয়ে নিয়ে যাবে ? অথবা তিনি বলেছিলেন, "কে তাকে পৌঁছাবে?" এক ব্যক্তি বললো, আমি। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কি?" সে বললো, আমার নাম হলো এই। তিনি বললেন, "বসে যাও।" অতপর দ্বিতীয় ব্যক্তি এ উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে গেল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কি?" তিনিও বললেন, "আমার নাম এই।"তিনি বললেন, "বসে যাও।" অতপর তৃতীয় ব্যক্তি দাঁড়ালো। তার নিকটও তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কি?" সে বললো, তাঁর নাম নাজিয়াহ।” এ সময় তিনি বললেন, "তুমি এ কাজের উপযুক্ত। হাঁকিয়ে নিয়ে যাও।”
📄 হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি কৌতুক
হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন তোমার নাম কি? সে বললো, "অঙ্গার।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, পিতার নাম কি? সে বললো, "অগ্নি শিখা।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোন্ কবিলার? বললো, 'জ্বলন” কবিলার। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বাড়ী কোথায়? বললো, "আগুনের গরম টিলার উপর।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আগুনের কোন্ টিলার উপর? বললো, প্রজ্জ্বলিত টিলার উপর।" একথা শুনে হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, জলদী যাও। ঘরের মানুষদের খবর দাও। তারা সবাই পুড়ে গেছে। ঠিক তাই হয়েছিল যা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন। -জাময়ুল ফাওয়ায়েদ