📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 সন্তানের জন্য পছন্দনীয় নাম

📄 সন্তানের জন্য পছন্দনীয় নাম


আপনার শিশুর জন্য পসন্দনীয় নাম বলতে সেসব নাম বুঝায় যাতে কিছু বিষয়ে নজর দেয়া এবং কিছু বিষয় থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা হয়েছে। এক: আল্লাহর জাত অথবা ছিফাতি নামের সাথে আবদ অথবা আমাতাহু শব্দ মিলিয়ে বানানো হয়েছে। যেমন, আবদুল্লাহ, আবদুর রহমান, আবদুল গাফ্ফার, আমাতুল্লাহু, আমাতাহুর রাহমান প্রভৃতি। অথবা এমন নামে হবে যা দিয়ে আল্লাহর প্রশংসার প্রকাশ ঘটে।
দুই: কোনো পয়গম্বরের নামানুসারে নাম রাখা। যেমন: ইয়াকুব, ইউসুফ, ইদরিস, আহমদ, ইবরাহিম, ইসমাঈল ইত্যাদি।
তিন: কোনো মুজাহিদ, ওলি এবং দীনের খাদেমের নামানুসারে নাম রাখা, যেমন: ওমর ফারুক, খালিদ, আবদুল কাদের, হাজেরা, মরিয়ম, উম্মে সালমাহ, সুমাইয়া ইত্যাদি।
চার: নাম যেন আপনার দীনি আবেগ ও সুন্দর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিবিম্ব হয়। উদাহরণ স্বরূপ মিল্লাতের বর্তমান দূরবস্থা দেখে আপনি আপনার শিশুর নাম ওমর এবং সালাহ উদ্দিন প্রভৃতি রাখতে পারেন এবং আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতে পারেন যে, আপনার শিশু বড়ো হয়ে মিল্লাতের ডুবন্ত তরীকে তীরে ভিড়িয়ে দেবে এবং দীনকে পুনর্জীবিত করবে।
পাঁচ: কোনো দীনি সফলতা সামনে রেখে নাম প্রস্তাব করা। যেমন পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে করতে এ আয়াত সামনে এলো :
يَوْمَ يَأْتِ لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ ، فَمِنْهُمْ شَقِي وَسَعِيدُ -
"যখন সেদিন আসবে, যেদিন তুমি কারোর সাথে কথা বলার শক্তি রাখবে না। হ্যাঁ আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে লোক কথা বলতে পারবে। অতপর সেদিন কিছু মানুষ হতভাগা হবে এবং কিছু মানুষ ভাগ্যবান হবেন।"
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন সমগ্র মানবজাতি দু ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। এক গ্রুপ হবে হতভাগা এবং অপর গ্রুপ হবেন সৌভাগ্যবান।
এ আয়াত পড়ে, অযাচিতভাবে, আপনার অন্তর থেকে দোয়া হলো যে, হে পরওয়ারদিগার আমাকে এবং আমার সন্তানদেরকে সে ভাগ্যবানদের দলের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং অতপর আপনি আপনার সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পর তার নাম রাখলেন সাঈদ।
প্রকৃতপক্ষে আপনি আপনার ইচ্ছা, আবেগ, আশা ও আকাঙ্ক্ষা মুতাবেকই চেতনা অথবা অবচেতনভাবে নাম প্রস্তাব করে থাকেন এবং এসব আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই শিশু বড়ো হতে থাকে এবং প্রকৃতিগতভাবে সাধারণ অবস্থায় যে আপনার স্বপ্নের বাস্তবায়নই করে থাকে।
এসব বিষয় নাম প্রস্তাব করার সময় সামনে রাখার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আবার কিছু বিষয় এমন আছে যা নাম প্রস্তাব করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করার রয়েছে।
এক: এমন চিন্তা ও অনুভূতি যা ইসলামী আকীদা এবং আদর্শের পরিপন্থী। বিশেষ করে যে নামে তাওহীদি ধ্যান-ধারণায় আঘাত লাগে। যেমন নবী বৃখশ, আবদুর রসূল ইত্যাদি।
দুই: কোনো এমন শব্দ যা দিয়ে গর্ব অহংকার অথবা নিজের পবিত্রতা ও বড়াই প্রকাশ পায়।
তিন: এমন নাম যা অনৈসলামিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায় এবং আল্লাহর রহমাত প্রাপ্তির কোনো আশা করা যায় না।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 ভালো নাম রাখার হেদায়াত ও হিকমত

📄 ভালো নাম রাখার হেদায়াত ও হিকমত


قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكُمْ تُدْعُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ ، وَأَسْمَاءِ آبَاءِ كُمْ فَاحْسِنُوا أَسْمَائِكُم - ابو داود عن أبي الدردا
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে নিজের এবং পিতার নামে ডাকা হবে। অতএব ভালো নাম রাখো।"

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় নাম

📄 আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় নাম


عَنْ أَبِي وَهَبْ رَض عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : تُسَمُّوا بِأَسْمَاءِ الْأَنْبِيَاءِ وَأَحَبُّ الْأَسْمَاءِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ عَبْدُ اللَّهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ وَاصْدَقُهَا حَارِثُ وَهَمَّامُ وَأَقْبَحْهَا حَرْبُ وَمُرَّة - الادب المفرد وجمع الفوائد ج ۲ ص ٤٠٦ بحو اله ابوا داود ونسائي
“হযরত আবু ওয়াহাব নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, নবীদের নামে নাম রাখো এবং আল্লাহর নিকট পসন্দনীয় নাম হলো আবদুল্লাহ এবং আবদুর রহমান। প্রিয় নাম হলো হারেছ এবং হাম্মام এবং অত্যন্ত অপসন্দনীয় নাম হলো হারব ও মুররাহ।"
'আল্লাহ' শব্দ আল্লাহর জাতি নাম। রহমান ইসলামের আল্লাহর জাতি নাম নয়। অবশ্য ইসলামের পূর্বে কতিপয় জাতির মধ্যে এটা আল্লাহর জাতিনাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এজন্যে তারও অন্যান্য গুণের বা ছিফাতের তুলনায় গুরুত্ব রয়েছে। হাদীসে শুধু এ দু নামের উল্লেখ্যের উদ্দেশ্য এ নয় যে, শুধু এ দু নামই রাখা যাবে এবং শুধু এ আল্লাহর নিকট পসন্দনীয়। বরং এটাকে উদাহরণস্বরূপ বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহর কোনো সিফাতের সাথে আবদ শব্দ লাগিয়ে নাম রাখা হলে তাই আল্লাহর নিকট পসন্দনীয় নাম। সম্ভবত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধুমাত্র এ দু নামের উল্লেখ এজন্যেও করে থাকতে পারেন যে, পবিত্র কুরআনে আবদের সম্বন্ধের সাথে এ দু নামের উল্লেখ করা হয়েছে।
হারিছ সে ব্যক্তিকে বলা হয়, যে কৃষি এবং আয়ের কাজে লেগে থাকে, যদি সে হালাল উপায়ে দুনিয়া কামাই করে তাহলেও উত্তম আর যদি সে পরকাল কামাইয়ে লেগে থাকে তাহলে তার থেকে উত্তম আর কি হতে পারে।
হাম্মাম : সুদৃঢ় ইচ্ছাকারী ব্যক্তিকে বলা হয়, যে এক কাজ শেষে অন্য কাজে লেগে যায়।
হারব : যুদ্ধকে বলা হয়, এটা স্বতসিদ্ধ কথা যে, যুদ্ধ কোনো পসন্দনীয় কাজ নয়।
মুররাহ : তেতো জিনিসকে বলা হয়, আর তেতো বস্তুতো সবার নিশ্চয়ই অপসন্দনীয়।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 ভালো নামের শুভ সূচনা

📄 ভালো নামের শুভ সূচনা


হযরত ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক উটনী দোহানোর জন্য লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন :
مَنْ يَحْلُبُ هَذِهِ ؟ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اسْمُكَ ؟ قَالَ : مُرَّةَ، فَقَالَ لَهُ : اجْلِسُ ثُمَّ قَالَ : مَنْ يَحْلُبُ هَذِهِ ؟ فَقَامَ رَجُلٌ ، فَقَالَ لَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اسْمُكَ ؟ قَالَ حَرْبٌ ، فَقَالَ لَهُ اجْلِسُ ثُمَّ قَالَ مَنْ يَحْلُبُ هَذِهِ ؟ فَقَامَ رَجُلٌ ، فَقَالَ لَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا اسْمُكَ ؟ قَالَ : يَعِيشُ فَقَالَ لَهُ احْلُبْ - جمع الفوائد بحواله مؤطا امام مالك رح
"এ উটনীকে কে দোহন করবে ? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো, তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি ? সে বললো, তার নাম হলো মুররাহ। তিনি বললেন, বসো। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন এ উটনীকে কে দোহন করবে ? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি ? সে বললো, তার নাম হারব। তিনি বললেন, বসে যাও। অতপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ উটনীকে কে দোহন করবে ? এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কি ? সে বললো, তার নাম ইয়ায়িশ। তিনি বললেন, ঠিক আছে তুমি দুধ দোহন কর। -জাময়ুল ফাওয়াদে বাহাওয়ালা মুয়াত্তা ইমাম মালিক
প্রথম দু নামের ভাবার্থ অপসন্দনীয় এবং সর্বশেষ নামের ভাবার্থ পসন্দনীয়। ইয়ায়িশ শব্দ জীবন্ত থাকার অর্থবোধক।
এমনিভাবে ইমাম বুখারীও একটি হাদীস নকল করেছেন।
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের এ উটকে কে হাকিয়ে নিয়ে যাবে ? অথবা তিনি বলেছিলেন, "কে তাকে পৌঁছাবে?" এক ব্যক্তি বললো, আমি। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কি?" সে বললো, আমার নাম হলো এই। তিনি বললেন, "বসে যাও।" অতপর দ্বিতীয় ব্যক্তি এ উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে গেল। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কি?" তিনিও বললেন, "আমার নাম এই।"তিনি বললেন, "বসে যাও।" অতপর তৃতীয় ব্যক্তি দাঁড়ালো। তার নিকটও তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কি?" সে বললো, তাঁর নাম নাজিয়াহ।” এ সময় তিনি বললেন, "তুমি এ কাজের উপযুক্ত। হাঁকিয়ে নিয়ে যাও।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00