📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 আচরণে সমতা

📄 আচরণে সমতা


عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ أَعْطَانِي أَبِي عَطِيَّةً فَقَالَتْ عُمْرَةٌ بِنْتُ رَوَاحَةَ لا أَرْضَى حَتَّى تُشْهِدَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَى رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنِّي أَعْطَيْتُ ابْنِي مِنْ عُمْرَةَ عَطِيَّةً فَأَمَرْتَنِي أنْ أَشْهِدَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ : قَالَ أَعْطَيْتَ سَائِرَ وَلِدِكَ مِثْلَ هَذَا قَالَ لَا، قَالَ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْدِلُوا بَيْنَ أَوْلَادِكُمْ قَالَ فَرَجَعَ وَرَدَّ عَطِيَّتَهُ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ إِنِّي لَا أَشْهَدُ عَلَى جَوْرٍ - بخاری، مسلم، مشكوة باب العطايا
“নোমান বিন বশির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে একটি তোহফা দিয়েছিলেন। এতে (আমার মা) উমরাহ বিনতে রাওয়াহা বললেন, তুমি যদি এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাক্ষী বানাও তাহলে আমি রাজী হবো। অতপর আমার পিতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এলেন এবং বললেন, উমরাহ বিনতে রাওয়াহার পক্ষ থেকে আমার যে পুত্র রয়েছে তাকে আমি একটি তোহফা বা উপঢৌকন দিয়েছি। এতে উমরাহ আপনাকে সাক্ষী করার দাবী জানিয়েছে। একথা শুনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তুমি কি তোমার সকল সন্তানকেই এ ধরনের তোহফা দিয়েছো?” তিনি বললেন, “না, সবাইকে তো দিইনি।” অতপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "আল্লাহকে ভয় করো এবং নিজের সন্তানদের মধ্যে ইনসাফ করো।" তিনি বললেন, অতপর তিনি ফিরে গেলেন এবং নিজের সে তোহফা ফেরত নিয়ে নিলেন। অন্য এক রাওয়ায়েতে আছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "আমি যুলুমের উপর সাক্ষী হই না।" অন্য এক রাওয়ায়েতে আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বশির রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন:
إِلَيْكَ فِي الْبِرِّ سَوَاءً ؟
"তোমার সকল সন্তান তোমার সাথে একই ধরনের আচরণ করুক এটা কি তুমি পসন্দ করো?" হযরত বশির রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাব দিলেন, কেন নয়।” হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "তাহলে তুমি এ ধরনের করো না।" -বুখারী ও মুসলিম
এটাতো মানুষের শক্তি বহির্ভূত ব্যাপার যে, সে নিজের সকল সন্তানের সাথে একই ধরনের ভালোবাসা প্রদর্শন করবে। স্বভাবজাত কারণেই কখনো কোনো সন্তানের দিকে আকর্ষণ বেশী হয়। ভালোবাসায় সাম্য প্রদর্শন কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। আর এটা কোনো মানুষের নিকট থেকে দাবীও করা হয়নি। হাদীসে যে বিষয়ের তাকিদ দেয়া হয়েছে তাহলো আচরণগত ব্যাপার। আপনার সন্তান হবার কারণে সকল সন্তানই সমান। এবং আপনার উপর সকলেরই সমান অধিকার রয়েছে। সুতরাং আপনি সকলের সাথেই এক ধরনের সদাচরণ করবেন এবং এ ব্যাপারে একজ নকে আরেকজনের উপর অগ্রাধিকার দেবেন না। এক সন্তানকে অপর সন্তানের উপর অগ্রাধিকার দেয়া এজন্যও সঠিক নয় যে, এতে একজনের অধিকার নষ্ট করা হয় এবং অন্য দিকে তাতে সন্তানদের নৈতিকর্তার উপর খারাপ প্রভাব পড়ে। যার সাথে বিশেষ ধরনের আচরণ করা হয় তার মধ্যে বড়াইয়ের ভাব সৃষ্টি হয় এবং অন্যান্য ভাই-বোনকে নিজের থেকে ছোট মনে করতে থাকে। যেসব সন্তানের সাথে খারাপ আচরণ করা হয় তাদের মধ্যে নিম্নমানের অনুভূতি সৃষ্টি হয় এবং মানসিকভাবে সে নিজেকে নীচুমনা ভাবতে শুরু করে। ফলে তার নৈতিক ও দৈহিক প্রবৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। সাথে সাথে ভালোবাসা, স্নেহ, ত্যাগ ও কুরবানীর আবেগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এ সকল গুণ স্বভাবজাতভাবেই প্রত্যেকের মধ্যেই নিজের ভাই-বোনদের জন্য হয়ে থাকে। এভাবে মাতা-পিতার জন্য সন্তানদের মধ্যে যে মান-ইজ্জত বোধ থাকে তা আঘাত প্রাপ্ত হয়।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 পুত্র ও কন্যার মধ্যে ভিন্ন ধরনের আচরণ

📄 পুত্র ও কন্যার মধ্যে ভিন্ন ধরনের আচরণ


কখনো এ রকমও হয় যে, প্রথম স্ত্রী অথবা প্রথম স্বামীর সন্তান এবং বর্তমান স্ত্রীর সন্তানের মধ্যে সমান আচরণ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। যে স্ত্রী অথবা স্বামীর সাথে বিচ্ছিন্নতা হয়ে গেছে তার সন্তানের তুলনায় নতুন স্ত্রী অথবা নতুন স্বামীর সন্তানের কদর বেশী করা হয় এবং প্রথম জীবন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সন্তানদের অধিকারের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয় না। আপনার অন্তর যদি সে সন্তানের জন্য পরিষ্কার না থাকে অথবা তাদের আচার-আচরণ আপনার পসন্দ না হয় এবং আপনার মন যদি তাদের দিকে না ঝুঁকে তাহলে আপনি মজবুর। কিন্তু ইসলাম আবশ্যিকভাবে আপনার নিকট এ দাবী করে যে, সবকিছু সত্ত্বেও আপনি সবার সাথে সমান আচরণ করবেন। আপনি যদি একজনের জন্য আরাম-আয়েশের সকল উপকরণ সংগ্রহ করে এবং অন্যান্যদেরকে মাহরুম করেন তাহলে আপনি শরীয়াতের দৃষ্টিতে অপরাধী।
আপনি আপনার কাজের ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের অন্তরকে ধোঁকা দিতে পারেন। দুনিয়ার চোখে ধূলা নিক্ষেপ করতে পারেন কিন্তু আল্লাহর দৃষ্টি থেকে নিজের অপরাধ ঢাকতে পারেন না। তাকে ধোঁকাও দিতে পারেন না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ধরনের কাজকে যুলুম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং যুলুমের উপর সাক্ষী হওয়াকে তিনি পসন্দ করেননি। অনুগত সাহাবীও তৎক্ষণাৎ নিজের প্রদত্ত তোহফাকে ফিরিয়ে নিয়ে ছিলেন। হযরত বশির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছিল। তিনি উমরাহ বিনতে রাওয়াহার পুত্রকে উপঢৌকন প্রদান করছিলেন, কিন্তু অন্য স্ত্রীর সন্তানদেরকে তা থেকে মাহরুম করছিলেন। অবশ্য যখন তিনি সঠিক ব্যাপার জানতে পেলেন তৎক্ষণাৎ তিনি নিজের কাজ শুধরে নিলেন এবং বিশেষ ধরনের আচরণ পরিত্যাগ করলেন।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضـ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَانَتْ لَهُ أُنثَى فَلَمْ يَئِدُهَا وَلَمْ يُهِنُهَا وَلَمْ يُؤْثِرُ وَلَدَهُ عَلَيْهَا يَعْنِي النُّكُورَ أَدْخَلَهُ اللهُ الْجَنَّةَ - ابو داود
"হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যার ঘরে কন্যা হলো এবং সে তাকে (জাহেলী যুগের মতো) জীবিত দাফন করলো না, তাকে অপাংক্তেয়ও মনে করলো না এবং ছেলেদেরকে তার উপর প্রাধান্য দিলো না, তাহলে এ ধরনের লোককে আল্লাহ পাক জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।"
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে যে কাজের জন্য মাতা-পিতাকে বেহেশতের সুসংবাদ দিয়েছেন তাঁর তিনটি অংশ রয়েছে:
এক: কন্যাকে জীবিত দাফন না করা এবং বাঁচার অধিকার প্রদান করা।
দুই: কন্যাকে বেইজ্জতী ও অপদস্ত না করা।
তিন: ছেলেকে মেয়ের উপর প্রাধান্য না দেয়া।
প্রথম অংশ অর্থাৎ কন্যাকে বাঁচার অধিকার প্রদান প্রশ্নে মুসলমান সমাজ বাধ্য। ইসলামের আলোক প্রাপ্তির পর কোনো মুসলমান চিন্তাই করতে পারে না যে, কন্যাকে জীবিত দাফন অথবা কোনোভাবে তাকে বাঁচার অধিকার থেকে মাহরুম করতে হবে। অবশ্য কন্যাকে নীচু মনে করা এবং পুত্রকে কন্যার উপর প্রাধান্য দেয়ার ব্যাপারে কিছু কিছু মুসলমান পরিবারের চিন্তা ও কাজে কমতি রয়েছে। এ চিন্তা ও কাজের সংশোধন অত্যাবশ্যক এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সতর্কবাণী ও উৎসাহ প্রদান সে লক্ষ্যেই পরিচালিত।
অনেক পরিবারে ঘরে ও বংশে পুত্রের যে মর্যাদা ও গুরুত্ব প্রদান করা হয় তা কন্যাকে দেয়া হয় না। পুত্র, পুত্র বধু এবং তার সন্তানদের সাথে যে ভালো আচরণ করা হয় তা কন্যা, জামাই এবং তার সন্তানদের সাথে করা হয় না। প্রকৃতপক্ষে পুত্র ও কন্যার মধ্যে যে পার্থক্যমূলক আচরণ করা হয় তার মূলে এ ধারণাই ক্রিয়াশীল যে, অন্যের জন্য কন্যা প্রতিপালন করা হয় এবং পুত্র প্রতিপালন করা হয় নিজের জন্য। কন্যার নিকট থেকে কোনো ধরনের কিছু আশা করা যায় না এবং পুত্রের কাছে সকল কিছুই আশা করা যায়। কন্যা অন্যের ঘরের সৌন্দর্য এবং আবাদীর মাধ্যম। পক্ষান্তরে পুত্র নিজের ঘরের সৌন্দর্য এবং আবাদীর মাধ্যম। এ ধরনের চিন্তার আবশ্যিক ফল হলো যে, পুত্র প্রতিপালনে যে আন্তরিকতা ও আবেগ ক্রিয়াশীল থাকে, কন্যারা তা থেকে বঞ্চিত হয়। কন্যা প্রতিপালন এবং তার সাথে আচরণে ফরয আদায়ের অনুভূতি ঠিকই ক্রিয়াশীল থাকে কিন্তু সে আশা-আকাঙ্ক্ষা ও আনন্দ উচ্ছলতা থাকে না। অথচ পুত্র লালন-পালনে এর সকল কিছুই পাওয়া যায়।
নিজের ঘরে কন্যাকে নীচু মনে করা হয় এবং সমাজেও। গৃহে পুত্রকে কন্যার উপর প্রাধান্য দেয়া হয় এবং সমাজেও পুত্রদের মর্যাদা বেশী থাকে। মাতা-পিতাও কন্যাকে সে পোশাক, গহনা এবং তোহফা প্রদান করেন না যা পুত্রবধূকে দিয়ে থাকেন। পুত্রবধূকে যাকিছু দিয়ে থাকেন তা আন্তরিক আবেগেই দেন। কারণ সে তো নিজের ঘরের সৌন্দর্য এবং কন্যাকে যাকিছু দেন তা শুধু ফরয আদায় অথবা সমাজে নিজের সম্মান বৃদ্ধির জন্য দিয়ে থাকেন। পুত্রবধূকে কিছু দিয়ে তা কখনো স্মরণ করেন না। পক্ষান্তরে কন্যাকে কিছু দিয়ে তা স্মরণ করেন এবং সবসময় তার আলোচনা এমনকি খোঁটাও দিয়ে থাকেন। এ ধরনের পরিবারে কন্যা সন্তানরা সে ধরনের অভিভাবকত্ব এবং স্নেহ ভালোবাসা পায় না, যা পুত্রের সন্তানরা পেয়ে থাকে। পুত্রের সন্তানকে ঘরের সন্তান মনে করা হয়ে থাকে এবং কন্যার সন্তানকে অন্যের ঘরের সন্তান মনে করা হয়। বংশ, সমাজ এবং নামকরা ব্যক্তিদের নিকটেও পুত্রের সন্তানদেরকে নিজের ঘরের মানুষ এবং সন্তান হিসেবে সামনে আনা হয়। আর সেভাবেই সমাজে তাদের আচরণ আশা করা হয় কিন্তু কন্যার সন্তানদের সাথে নিজেরাও এ ধরনের আচরণ হয় না এবং সমাজের কাছেও সে মর্যাদার আচরণ আশা করা হয় না। অন্যদিকে সমাজও এ ধরনের মানুষের পুত্রদের সন্তানদের সাথে যেই আচরণ করে থাকে, তাদের কন্যাদের সন্তানদের সাথে সে আচরণ করে না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদীসে মুসলমান মাতা-পিতাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, এ কর্মপদ্ধতি পসন্দনীয় নয়। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাত লাভের পদ্ধতি হলো, মুসলমান মাতা-পিতা, পুত্র এবং কন্যাকে একই ধরনের গুরুত্ব দেবে। উভয়ের সাথে সমান আচরণ করবে। কন্যাকেও ঘরে এবং সমাজে সে মর্যাদা এবং সম্মান দেবে যা পুত্রকে দেয়া হয়। তাছাড়া কোনো ব্যাপারেই পুত্রকে কন্যার উপর প্রাধান্য দেয়া যাবে না এবং সবসময়ই ব্যক্তির রুচি এবং সমাজের রীতি-নীতির চেয়ে দীনের দাবীকেই প্রাধান্য দিতে হবে।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 কন্যা জাহান্নামের আগুনের প্রতিবন্ধক

📄 কন্যা জাহান্নামের আগুনের প্রতিবন্ধক


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : دَخَلَتْ عَلَى امْرَأَةٌ وَمَعَهَا ابْنَتَانِ لَهَا تَسْأَلُ فَلَمْ تَجِدُ عِنْدِى شَيْئًا غَيْرَ تَمْرَةٍ وَاحِدَةٍ فَأَعْطَيْتُهَا إِيَّاهَا فَقَسَمَتُهَا بَيْنَ ابْنَتَيْهَا وَلَمْ تَأْكُلْ مِنْهَا ثُمَّ قَامَتْ فَخَرَجَتْ فَدَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْنَا فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ : مَنِ ابْتُلِى مِنْ هَذِهِ الْبَنَاتِ بِشَيْءٍ فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ كُنَّ لَهُ سِتْراً مِّنَ النَّارِ - متفق عليه، رياض الصالحين ص ١٤٤
"হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমার নিকট এক মহিলা দু কন্যাসহ ভিক্ষার জন্য এলো। সে সময় আমার নিকট কিছুই ছিলো না। শুধুমাত্র একটি খেজুর ছিল। খেজুরটি আমি তার হাতে দিলাম। সে খেজুরটি অর্ধেক অর্ধেক করে নিজের দু কন্যাকে দিয়ে দিল এবং স্বয়ং তা চেখেও দেখলো না। অতপর উঠে দাঁড়ালো এবং চলে গেল। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঘরে এলেন তখন আমি এ ঘটনা শুনালাম। তিনি বললেন, যে ব্যক্তিকেই এ কন্যার মাধ্যমে পরীক্ষায় নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং সে তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করেছে। তাহলে এ কন্যারাই তার জন্য জাহান্নামের আগুনের প্রতিবন্ধক হয়ে যাবে।"-বুখারী ও মুসলিম
দুনিয়ায় কন্যার নিকট থেকে কোনো বস্তুগত লাভের আশা যদিও ঠিকই নেই তবুও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সত্যবাদিতা ও আখেরাতের উপর আস্থা স্থাপনকারী মাতা-পিতার জন্য কন্যার সাথে সদাচরণের এর চেয়ে বড়ো শক্তি আর কি হতে পারে যে, এ দুর্বল কন্যারাই কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নামের প্রজ্জ্বলিত আগুনের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে।
"প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি এলো। কোলে ছিলো তার শিশু। সে শিশুকে স্নেহভরে আদর করতে লাগলো। তিনি এ দৃশ্য দেখে জিজ্ঞেস করলেন, তার উপর কি তোমার দয়া হয়? সে বললো, কেন হবে না। তিনি বললেন, তুমি এ শিশুর উপর যত দয়া করো, আল্লাহ তার চেয়ে বেশী তোমার উপর দয়া করে থাকেন। কেননা তিনি সকল দয়াকারীর চেয়ে বেশী দয়াকারী। -আল আদাবুল মুফরিদ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00