📄 কন্যা মাতা-পিতার জান্নাত
আল্লাহ যদি আপনাকে কন্যার মা অথবা পিতা বানিয়ে থাকেন তাহলে আপনি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। আল্লাহ পাক আপনার জান্নাত আপনার তত্ত্বাবধানে দিয়ে দিয়েছেন। এখন এটা আপনার কাজ যে, আপনি সে জান্নাতকে হিফাজত অথবা ধ্বংস করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্ণ ইয়াকিনের সাথে এ সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আপনি যদি কন্যা প্রতিপালনের হক আদায় করে থাকেন তাহলে আপনার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে।
হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
مَنْ كَانَ لَهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ يُروِيهِنَّ وَيَكْفِيهِنَّ وَيَرْحَمُهُنَّ فَقَدْ وَجَبَ لَهُ الْجَنَّةُ الْبَتَّةَ فَقَالَ رَجُلٌ مِّنْ بَعْضِ الْقَوْمِ وَثِنْتَيْنِ يَا رَسُولَ اللَّهِ ! قَالَ وَثِنْتَيْنِ - الادب المفرد ص ١٥
“যে ব্যক্তির তিনটি মেয়ে। সে তিন মেয়েকেই নিজের অভিবাবকত্বে রেখেছে। তাদের প্রয়োজনাবলী পূরণ করেছে এবং তাদের প্রতি রহম করেছে। তাহলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। কোনো গোত্রের এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি দু কন্যা হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাব দিলেন, যদি দু কন্যা হয় তাহলেও এ সওয়াব পাওয়া যাবে।"-আল আদাবুল মুফরাদ
মিশকাত শরীফে এ মর্মার্থের আরো হাদীস রয়েছে। সে হাদীসের বর্ণনাকারী হলেন আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি বলেছেন, যদি মানুষ এক কন্যার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেন তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একের ব্যাপারেও এ সুসংবাদ দিতেন।
📄 অসহায় কন্যার ব্যয়ভার বহন
إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَلَا اَدلُّكُمْ عَلَى أَفْضَلِ الصَّدَقَةِ ابْنَتُكَ مرْدُودَةً إِلَيْكَ لَيْسَ لَهَا كَاسِبٌ غَيْرُكَ - ابن ماجه، جمع الفوائد باب بر الاولاد
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে উত্তম সাদকার কথা কেন বলে দেব না। তাহলো তোমাদের সে কন্যা যাকে তোমাদের নিকট ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং তোমরা ছাড়া তাকে কামাই করে খাওয়ানেওয়ালা নেই।"
এর অর্থ প্রকৃতপক্ষে সে মেয়ে, বিয়ে হওয়ার পর যাকে পুনরায় তার মাতা-পিতার নিকট পাঠিয়ে দেয়া হয়। এটা তার স্বামীর মৃত্যুর কারণেও হতে পারে। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুর বাড়ীতে তার ব্যয় ভার বহনের কেউ না থাকায় অথবা স্বামী কোনো কারণে তাকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন এবং মাতা-পিতার নিকট চলে এসেছেন। আবার এ হাদীসের অর্থ সে মেয়েও হতে পারে যার বিয়ে হয়নি অথবা বিয়ের যোগ্য নয়।