📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 কন্যা প্রতিপালনের সৌভাগ্য

📄 কন্যা প্রতিপালনের সৌভাগ্য


হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন :
مَن عَالَ جَارِيَتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيمَةِ أَنَا وَهُوَ كَهَاتَينِ وَضَمَّ أَصَابِعِهِ
- رياض الصالحين، صحيح مسلم
“যে ব্যক্তি দু কন্যা প্রতিপালন করলো। এমনকি তারা দুজন উভয়ে বালেগ এবং জওয়ান হয়ে গেল। কিয়ামতের দিন এমনভাবে আসবে যে সে এবং আমি এ দু আঙ্গুলের মতো এক সাথে হবো এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের আঙ্গুলগুলোকে মিলিয়ে দেখালেন।”-রিয়াদুস সালেহীন, সহীহ মুসলিম
একজন মু'মিন মা এবং মু'মিন পিতার জন্য এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কি হতে পারে যে, কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বন্ধু হিসেবে মিলিত হবেন। এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম "তাবলুগা” শব্দটি ব্যবহার করেছেন। শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক। তার অন্যতম অর্থ হলো, ঐ দু' কণ্যা যুবতী হয়ে গেল। আবার এ অর্থও হতে পারে যে, তারা মনযিল অথবা মকসুদে পৌঁছে গেল। যার অর্থ হলো, তারা নিজের গৃহে নিজের স্বামীর অভিভাবকত্বে পৌছে গেল।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 যে মা’র জান্নাত ওয়াজেব

📄 যে মা’র জান্নাত ওয়াজেব


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ جَاءَتْنِي مِسْكِينَةٌ تَحْمِلُ ابْنَتَيْنِ لَهَا فَأَطْعَمْتُهَا ثَلَاثَ تَمَرَاتٍ فَأَعْطَتْ كُلَّ وَاحِدَةٍ مِّنْهُمَا تَمْرَةً وَرَفَعَتْ إِلَى فِيهَا تَمْرَةً لِتَأْكُلَهَا فَاسْتَطْعَمَتهَا ابْنَتَاهَا فَشَقَّتِ التَّمْرَةَ الَّتِي كَانَتْ تُرِيدُ أَنْ تَأْكُلَهَا بَيْنَهُمَا فَأَعْجَبَنِي شَأْنُهَا فَذَكَرْتُ الَّذِي صَنَعَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَوْجَبَ لَهَا بِهَا الْجَنَّةَ أَوْ اعْتَقَهَابِهَا مِنَ النَّارِ - رياض الصالحين، صحيح مسلم
"হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, একজন গরীব মহিলা তার দুটি কন্যাসহ আমার নিকট এলো। আমি তাকে তিনটি খেজুর দিলাম। সে দুটি খেজুর তার দু মেয়েকে দিলো এবং অবশিষ্ট খেজুরটি দু ভাগে ভাগ করে দু কন্যাকে দিয়ে দিলো। এ কাজ আমার খুব ভালো লাগলো। আমি তার এ কাজের কথা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বর্ণনা করলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "আল্লাহ এ দু কন্যা প্রতিপালনের বদৌলতে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিয়েছেন এবং তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত দিয়েছেন।"

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 কন্যা মাতা-পিতার জান্নাত

📄 কন্যা মাতা-পিতার জান্নাত


আল্লাহ যদি আপনাকে কন্যার মা অথবা পিতা বানিয়ে থাকেন তাহলে আপনি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। আল্লাহ পাক আপনার জান্নাত আপনার তত্ত্বাবধানে দিয়ে দিয়েছেন। এখন এটা আপনার কাজ যে, আপনি সে জান্নাতকে হিফাজত অথবা ধ্বংস করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্ণ ইয়াকিনের সাথে এ সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আপনি যদি কন্যা প্রতিপালনের হক আদায় করে থাকেন তাহলে আপনার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে।
হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
مَنْ كَانَ لَهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ يُروِيهِنَّ وَيَكْفِيهِنَّ وَيَرْحَمُهُنَّ فَقَدْ وَجَبَ لَهُ الْجَنَّةُ الْبَتَّةَ فَقَالَ رَجُلٌ مِّنْ بَعْضِ الْقَوْمِ وَثِنْتَيْنِ يَا رَسُولَ اللَّهِ ! قَالَ وَثِنْتَيْنِ - الادب المفرد ص ١٥
“যে ব্যক্তির তিনটি মেয়ে। সে তিন মেয়েকেই নিজের অভিবাবকত্বে রেখেছে। তাদের প্রয়োজনাবলী পূরণ করেছে এবং তাদের প্রতি রহম করেছে। তাহলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। কোনো গোত্রের এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি দু কন্যা হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাব দিলেন, যদি দু কন্যা হয় তাহলেও এ সওয়াব পাওয়া যাবে।"-আল আদাবুল মুফরাদ
মিশকাত শরীফে এ মর্মার্থের আরো হাদীস রয়েছে। সে হাদীসের বর্ণনাকারী হলেন আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি বলেছেন, যদি মানুষ এক কন্যার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেন তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একের ব্যাপারেও এ সুসংবাদ দিতেন।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 অসহায় কন্যার ব্যয়ভার বহন

📄 অসহায় কন্যার ব্যয়ভার বহন


إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَلَا اَدلُّكُمْ عَلَى أَفْضَلِ الصَّدَقَةِ ابْنَتُكَ مرْدُودَةً إِلَيْكَ لَيْسَ لَهَا كَاسِبٌ غَيْرُكَ - ابن ماجه، جمع الفوائد باب بر الاولاد
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে উত্তম সাদকার কথা কেন বলে দেব না। তাহলো তোমাদের সে কন্যা যাকে তোমাদের নিকট ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং তোমরা ছাড়া তাকে কামাই করে খাওয়ানেওয়ালা নেই।"
এর অর্থ প্রকৃতপক্ষে সে মেয়ে, বিয়ে হওয়ার পর যাকে পুনরায় তার মাতা-পিতার নিকট পাঠিয়ে দেয়া হয়। এটা তার স্বামীর মৃত্যুর কারণেও হতে পারে। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুর বাড়ীতে তার ব্যয় ভার বহনের কেউ না থাকায় অথবা স্বামী কোনো কারণে তাকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন এবং মাতা-পিতার নিকট চলে এসেছেন। আবার এ হাদীসের অর্থ সে মেয়েও হতে পারে যার বিয়ে হয়নি অথবা বিয়ের যোগ্য নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00