📄 যে ব্যয়ের সওয়াব সবচেয়ে বেশী
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِينَارٍ أَنْفَقْتُهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدِينَارٍ أَنْفَقْتُهُ فِي رَقَبَةٌ وَدِينَارٍ تَصَدَّقْتَ بِهِ عَلَى مِسْكِينِ وَدِينَارٍ أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ أَعْظَمُهَا أَجْرًا الَّذِي أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ
- صحيح مسلم
“হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: এক আশরাফী যা তুমি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করেছে, এক আশরাফী যা তুমি কোনো গোলামের গোলামী থেকে মুক্তির জন্যে খরচ করেছ, এক আশরাফী যা তুমি কোনো গরীবকে সাদকা হিসেবে দিয়েছ এবং এক আশরাফী যা তুমি নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করেছ এসবের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো সওয়াব সেই আশরাফীর যা তুমি নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করেছ।"
এ রাওয়ায়েতের আরো ব্যাখ্যা হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস থেকে করা যায়। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
"সবচেয়ে উত্তম আশরাফী সেই আশরাফী যা মানুষ নিজের সন্তান-সন্ততির উপর খরচ করে থাকে এবং সেই আশরাফী যা মানুষ আল্লাহর পথের সওয়ারীর জন্য খরচ করে এবং সেই আশরাফী যা মানুষ আল্লাহর পথের সঙ্গীদের জন্য খরচ করে। আবু কালাবা (একজন মধ্যবর্তী বর্ণনাকারী) বলেন, তিনি সন্তান-সন্ততির উপর খরচ করা থেকে কথা শুরু করেন এবং বলেন, সে ব্যক্তি থেকে বেশী সওয়াব ও পুরস্কার কে পেতে পারে যে নিজের ছোট ছোট সন্তানের জন্য খরচ করে। যাতে আল্লাহ তাদেরকে হাত পাতা থেকে বাঁচায় এবং সচ্ছল অবস্থায় বানিয়ে রাখেন।"-জামে তিরমিযী
📄 যে পিতার চেহারা পূর্ণ চন্দ্রের ন্যায় চমকাবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حَلالاً اسْتِعْفَافًا عَنِ الْمَسْئَلَةِ وَسَعْيًا عَلَى أَهْلِهِ وَتَعَطَّفًا عَلَى جَارِهِ لَقِيَ اللَّهُ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيِّمَةِ وَوَجْهُهُ مِثْلُ القَمَرَ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَمَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حلالاً مُكَاثِرًا مُفَاخِرًا مُرَائِيًا لَقِى اللهُ تَعَالَى وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ - بهقى في شعب الايمان
"হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হালাল মাধ্যমে দুনিয়া তলব করলো, যাতে নিজেকে অন্যের নিকট হাত পাতা থেকে বাঁচিয়ে রাখলো এবং নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য রুজির ব্যবস্থা করলো এবং নিজের প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ করলো সে কিয়ামতে আল্লাহর সাথে এ অবস্থায় মিলিত হবে যেন তার চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো ঝলমল করছে এবং যে ব্যক্তি হালালভাবে এজ ন্য দুনিয়ায় অর্জন করেছে যে, অন্যদের চেয়ে ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, অন্যের উপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে তাহলে সে আল্লাহর সাথে এ অবস্থায় মিলিত হবে যে আল্লাহ তার উপর ক্রোধান্বিত হবেন।"
📄 সন্তানের জন্য খরচকারিণী মা’র সওয়াব
ইসলাম পিতাকে সন্তান প্রতিপালনের ব্যয় ভার বহনের একক জিম্মাদার আখ্যায়িত করে মা-কে জীবিকা অর্জনের দৌঁড়-ঝাপ থেকে মুক্ত করে দিয়েছেন। যাতে সে সম্পূর্ণ একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের অংশের দায়িত্ব আনজাম দিতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এ নয় যে, কোনো মা যদি নিজের সন্তানের জন্য ব্যয় করে তাহলে সাওয়াব ও পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হবে। স্বামীর মৃত্যু হয়েছে অথবা স্বামী অক্ষম ও মাজুর হয়ে পড়েছে এবং মাতা নিজের সন্তানের জন্য ব্যয় নির্বাহ করে তাহলে সে তার উত্তম আচরণের পুরস্কার ও সওয়াব অবশ্যই লাভ করবে।
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ هَلْ لِي فِي بَنِي أَبِي سَلَّمَةَ أَجْرٌ أَنْ أَنْفِقَ عَلَيْهِمْ وَلَسْتُ بِتَارِكَتَهُمْ هُكَذَا وَهُكَذَا إِنَّمَا هُمْ بَنِيَّ ؟ فَقَالَ نَعَمْ لَكِ أَجْرُ مَا أَنْفَقْتِ عَلَيْهِمْ - متفق عليه رياض الصالحين ص ١٥٢
"হযরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আবু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহুর পুত্রদের উপর ব্যয় করার জন্য সওয়াব পাবো? আমি তো তাদেরকে এভাবে ছেড়ে দিতে পারি না যে, তারা এভাবে অভাবগ্রস্তের মতো পথে প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে বেড়াবে। তারা তো আমরাও পুত্র। তিনি বললেন, হাঁ, তুমি তাদের উপর যে ব্যয় করবে তার সওয়াব অবশ্যই পাবে।"-বুখারী ও মুসলিম
উম্মুল মু'মিনীন হযরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রথম স্বামী হযরত আবু সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষ থেকে দু পুত্র ও দু কন্যা ছিলো। তাদের ব্যাপারেই তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন। এ হাদীস থেকে দুটি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রথমতঃ মা নিজের সন্তানের জন্য খরচ করতে বাধ্য না হলেও যাকিছু খরচ করবেন তার সওয়াব ও পুরস্কার অবশ্যই পাবেন।
একজন মু'মিন মায়ের চিন্তাধারা কেমন হওয়া প্রয়োজন সে ইঙ্গিতও এ হাদীস থেকে লাভ করা যায়। হযরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সন্তানের প্রতি স্বভাবজাত ভালোবাসা ছিলো। সে জন্য তিনি তাদের অভিভাবকত্ব করার ব্যাপারে বাধ্য ছিলেন। তিনি নিজেই বলেন, "আমি তাদেরকে এমনভাবে ছেড়ে দিতে পারি না যে, তারা অভাবগ্রস্তের মতো এদিক-সেদিক ঘুরে ঘুরে বেড়াবে।"
কিন্তু সাথে সাথে তিনি এ প্রশ্নও চিন্তা করেছেন যে, এ উত্তম কাজের জন্য আখেরাতেও সাওয়াব পাওয়া প্রয়োজন। কেননা মু'মিনের প্রত্যেক কাজের বুনিয়াদই হলো আখেরাত। সে আখেরাতের সাফল্য থেকে বেপরওয়া হয়ে কোনো কিছু করতে পারে না।