📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 প্রাথমিক খরচ সন্তানের জন্যই

📄 প্রাথমিক খরচ সন্তানের জন্যই


আল্লাহ পাক আপনাকে যে সম্পদ দান করেছেন তাতে সর্বপ্রথম অধিকার হলো আপনার সন্তানের। সন্তানের উপর খরচ করা নিছক দুনিয়াদারী বা বস্তুগত ব্যাপার নয় বরং এটা দীনের সরাসরি দাবীও। দীনের নির্দেশ হলো, সর্বপ্রথম সন্তানদের প্রয়োজনাবলী পূরণ করতে হবে। তাদের প্রয়োজন পূরণ দুনিয়াদারী নয় বরং দীনদারী।
তাদের হক মেরে বা অধিকার হরণ করে অথবা তাদেরকে কারোর করুণার উপর ছেড়ে দিয়ে আপনি দান-খয়রাত করবেন, এটা পসন্দনীয় কাজ নয়। মূলত সে দান-খয়রাতই পসন্দনীয় যার পরও সচ্ছলতা থাকে এবং সন্তানরা কোনো ধরনের কষ্টে নিপতিত না হয়। এমন সাদকা বা দান-খয়রাত যা করার পর সন্তানদের প্রয়োজন পূরণের জন্য অন্যের নিকট হাত পাততে হয় তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পসন্দ করতেন না। আর দীনের আলোকে এটাও নেক কাজ নয় যে, আপনার সন্তানরা বিভিন্নজনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে আর আপনি অন্যান্য ভালো পথে খরচ করেন। এভাবে এটাও দীন সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক যে, মানুষের নিজের সন্তান ভুখা-নাঙ্গা থাকবে, তাকে মেপে মুখে দেয়া হবে আর নাম প্রচার ও খ্যাতি অথবা ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশের জন্য উদারতার সাথে খরচ করা হবে। আপনার ধন-সম্পদের প্রথম হকদার হলো আপনার প্রিয় সন্তান। এ সন্তান যদি আপনার তালাক দেয়া স্ত্রীর সন্তানও হয়। মোটকথা তারা আপনার সন্তান। তাদেরকে অসহায় বা দারিদ্রে রেখে নিজে আরাম-আয়েশ করা অথবা অন্যদেরকে আরামে রাখা হক মারার শামিল। অন্যদেরকে দেয়ার ব্যাপারে আপনার উদারতা প্রদর্শনের এ কাজ সংশোধনযোগ্য। আপনার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হেদায়াত হলো আপনি সর্বপ্রথম সন্তানদের প্রয়োজন পূরণ করবেন :
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ غَنِيٌّ وَابْدَأَ بِمَنْ تَعُولُ - بخاری، مشكوة باب فضل الصدقة عن أبي هريرة وحكيم بن حزام ص ১৭০
"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সবচেয়ে উত্তম সাদকা তা যার পরও সচ্ছলতা অবশিষ্ট থাকে এবং সর্বপ্রথম তাদের উপর খরচ করো যাদের ব্যয় ভার বহন তোমাদের জিম্মায় অর্পণ করা হয়েছে।"-বুখারী
এ হাদীসে মুসলমান মাতা-পিতা এক ভারসাম্যপূর্ণ ও সহজাত নিয়ম লাভ করেছে। প্রত্যেক মানুষেরই সহজাত আকাঙ্ক্ষা হলো তার ধন-সম্পদ তার সন্তানদের কাজে আসুক এবং তারা আরাম-আয়েশের জীবন অতিবাহিত করুন। ধন-সম্পদ অর্জনের সবচেয়ে বড়ো কারণ এটি এবং সর্বপ্রথম পসন্দনীয় ব্যয়ের খাতও এটিই। ইসলাম দান খয়রাতের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। বরং একে ঈমানের দাবী বলে আখ্যায়িত এবং বখিলী ও অনুদারতাকে মুনাফিকীর আলামত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু সাথে সাথে এ নির্দেশও দেয়া হয়েছে যে, সর্বপ্রথম সে সকল লোকের প্রয়োজনাবলী পূরণ করো যাদেরকে তোমাদের জিম্মায় অর্পণ করা হয়েছে। সন্তানদের প্রয়োজনাবলী উপেক্ষা করে দান-খয়রাত করা ইসলামে পসন্দনীয় নয়। উত্তম সাদকা তাই যার পর সন্তানরা কষ্টে নিপতিত না হয়।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 সন্তানের ব্যয়ভার বহনে অবহেলা কঠিন গুনাহ

📄 সন্তানের ব্যয়ভার বহনে অবহেলা কঠিন গুনাহ


قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَفَى بِالْمَرْءِ إِثْمًا أَنْ يُضِيعَ مَنْ يقُوتُ - رياض الصالحين، ابوداود، عن عبد الله بن عمر وبن العاص رض
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মানুষের গুনাহগার হবার জন্য একথাই যথেষ্ট যে, সে তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে যাদেরকে সে খানা-পিনা করাচ্ছে।"
মানুষকে যেসব মানুষের জিম্মাদার বানানো হয়েছে তাদের ব্যয় ভার বহনে গাফলতি করা এবং তাদেরকে ক্ষতি করা এমন সঙ্গীন গুনাহ যা এককভাবে তাকে আল্লাহর নাফরমান ও গুনাহগার আখ্যায়িত করার জন্য যথেষ্ট। এ গাফলতির কয়েকটি রূপ হতে পারে :
০ খ্যাতি ও প্রদর্শনীর জন্য সে খুব ব্যয় করে থাকে। কিন্তু সন্তান-সন্ততির অধিকার সম্পর্কে গাফেল।
০ নিজে খুব আরাম-আয়েশে কাটায়। পক্ষান্তরে সন্তানেরা ক্ষুৎ পিপাসায় কাতর।
০ দীনের সঠিক ধারণা না থাকার কারণে নিজের ধন-সম্পদ অন্যান্য ভালো কাজে ব্যয় এবং সন্তান-সন্ততির প্রয়োজনাবলী পূরণে গাফলতি করছে।
০ সন্তান জীবন-মৃত্যুর টানাপোড়নে কাটাচ্ছে। আর সে সময় সে অনুভূতিহীন অবস্থায় হাত-পা নড়ানো এবং কোনো কিছু করতে প্রস্তুতই নয়।
সন্তানের ব্যয়ভার বহন প্রত্যেক পিতার দায়িত্ব। এ দায়িত্বানুভূতি না থাকা এবং তার দাবী পূরণে গাফলতি প্রদর্শন সঙ্গীন গুনাহ।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 যে ব্যয়ের সওয়াব সবচেয়ে বেশী

📄 যে ব্যয়ের সওয়াব সবচেয়ে বেশী


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِينَارٍ أَنْفَقْتُهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَدِينَارٍ أَنْفَقْتُهُ فِي رَقَبَةٌ وَدِينَارٍ تَصَدَّقْتَ بِهِ عَلَى مِسْكِينِ وَدِينَارٍ أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ أَعْظَمُهَا أَجْرًا الَّذِي أَنْفَقْتَهُ عَلَى أَهْلِكَ
- صحيح مسلم
“হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: এক আশরাফী যা তুমি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করেছে, এক আশরাফী যা তুমি কোনো গোলামের গোলামী থেকে মুক্তির জন্যে খরচ করেছ, এক আশরাফী যা তুমি কোনো গরীবকে সাদকা হিসেবে দিয়েছ এবং এক আশরাফী যা তুমি নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করেছ এসবের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো সওয়াব সেই আশরাফীর যা তুমি নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করেছ।"
এ রাওয়ায়েতের আরো ব্যাখ্যা হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস থেকে করা যায়। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
"সবচেয়ে উত্তম আশরাফী সেই আশরাফী যা মানুষ নিজের সন্তান-সন্ততির উপর খরচ করে থাকে এবং সেই আশরাফী যা মানুষ আল্লাহর পথের সওয়ারীর জন্য খরচ করে এবং সেই আশরাফী যা মানুষ আল্লাহর পথের সঙ্গীদের জন্য খরচ করে। আবু কালাবা (একজন মধ্যবর্তী বর্ণনাকারী) বলেন, তিনি সন্তান-সন্ততির উপর খরচ করা থেকে কথা শুরু করেন এবং বলেন, সে ব্যক্তি থেকে বেশী সওয়াব ও পুরস্কার কে পেতে পারে যে নিজের ছোট ছোট সন্তানের জন্য খরচ করে। যাতে আল্লাহ তাদেরকে হাত পাতা থেকে বাঁচায় এবং সচ্ছল অবস্থায় বানিয়ে রাখেন।"-জামে তিরমিযী

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 যে পিতার চেহারা পূর্ণ চন্দ্রের ন্যায় চমকাবে

📄 যে পিতার চেহারা পূর্ণ চন্দ্রের ন্যায় চমকাবে


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حَلالاً اسْتِعْفَافًا عَنِ الْمَسْئَلَةِ وَسَعْيًا عَلَى أَهْلِهِ وَتَعَطَّفًا عَلَى جَارِهِ لَقِيَ اللَّهُ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيِّمَةِ وَوَجْهُهُ مِثْلُ القَمَرَ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَمَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حلالاً مُكَاثِرًا مُفَاخِرًا مُرَائِيًا لَقِى اللهُ تَعَالَى وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ - بهقى في شعب الايمان
"হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি হালাল মাধ্যমে দুনিয়া তলব করলো, যাতে নিজেকে অন্যের নিকট হাত পাতা থেকে বাঁচিয়ে রাখলো এবং নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য রুজির ব্যবস্থা করলো এবং নিজের প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ করলো সে কিয়ামতে আল্লাহর সাথে এ অবস্থায় মিলিত হবে যেন তার চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো ঝলমল করছে এবং যে ব্যক্তি হালালভাবে এজ ন্য দুনিয়ায় অর্জন করেছে যে, অন্যদের চেয়ে ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, অন্যের উপর নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে তাহলে সে আল্লাহর সাথে এ অবস্থায় মিলিত হবে যে আল্লাহ তার উপর ক্রোধান্বিত হবেন।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00