📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 কুরআনে সন্তানের ব্যয়ভার বহনের নির্দেশ

📄 কুরআনে সন্তানের ব্যয়ভার বহনের নির্দেশ


পবিত্র কুরআনে অবশ্য সন্তান প্রতিপালনের ব্যয় ভার বহনের নির্দেশ পরিষ্কার ভাষায় উল্লেখ নেই। কুরআনে একথা বলা হয়নি যে, "সন্তানের জন্য ব্যয় ভার বহন করো।" অথবা "সন্তানের ব্যয় ভার বহন ফরয।" আবার এর অর্থ এও নয় যে, সন্তানের জন্য ব্যয় ভার বহন করার নির্দেশ কুরআনে নেই এবং তার তাকিদ শুধু হাদীসেই এসেছে।
কুরআন প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত উঁচুস্তরের কালাম বা বাণী। হুকুম আহকাম এবং কানুন বর্ণনার ক্ষেত্রে এতে অত্যন্ত হাকিম সুলভ বর্ণনাভঙ্গী অবলম্বন করা হয়েছে। এ বর্ণনায় মানুষের প্রকৃতি, আবেগ এবং মনস্তাত্বিক দিকের প্রতি সম্পূর্ণরূপে দৃষ্টি রাখা হয়েছে।
সন্তান লালন-পালনে ব্যয় ভার বহন মানব সমাজে এমন একটি সুন্দর প্রাকৃতিক, স্বভাবজাত এবং প্রিয় কাজ যা কুরআন পাকে হুকুমের শিরোনামের বর্ণনার প্রয়োজনই অনুভব করেনি এবং সাথে সাথে অত্যন্ত হিকমতের সাথে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পিতা সন্তান প্রতিপালনের ব্যয় ভার বহনের জিম্মাদার।
উপরে বর্ণিত আয়াতে বলা হয়েছে, পিতা নিজের শিশুকে যে মহিলাকে দিয়েই দুধ পান করাতে চান না কেন সে মহিলাকে খাবার, কাপড় অথবা দুধের বিনিময় দানে বাধ্য থাকবে। যদি পিতা না থাকে তাহলে শিশুর যিনি অভিভাবক হবেন তার উপরই এ দায়িত্ব অর্পিত হবে। একজন অপরিচিত মহিলার ব্যয় ভার বহনের দায়িত্ব কুরআনে আপনার উপর এজন্যই অর্পণ করেছে যে, সে আপনার সন্তানকে দুধ পান করিয়েছে। একজন অপরিচিতি মহিলা যদি আপনার শিশুকে দুধ পান করায় তাহলে সুন্দরভাবে তার খরচ বহন করা আপনার দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। আর এটা এজন্য যে, সে আপনার সন্তানকে দুধ পান করিয়েছে। আপনার সন্তানকে দুধ পান করানোর জন্য একজন অপরিচিত মহিলার ব্যয় ভার বহনের দায়িত্ব যদি আপনার কাঁধে অর্পিত হয় তাহলে সন্তানের ব্যয় ভার বহনের দায়িত্ব আপনার উপর বর্তাবে না এটা কি করে সম্ভব? দুধ পান করানেওয়ালী মহিলাকে আপনি যা কিছু দেন তা আপনার শিশুর খাদ্য এবং সেবার বিনিময়ে তো দিয়ে থাকেন। এ বিনিময় দানের দায়িত্ব পিতার উপরই অর্পণ করে কুরআন এ তাৎপর্যই স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে যে, সন্তান প্রতি পালনের ব্যয় ভার বহনের একক জিম্মাদার হলো পিতা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের ভাষায় সে তাৎপর্যেরই বর্ণনা দিয়েছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00