📄 খরচ বহনের অর্থ
খরচ বহনের দায়িত্বের অর্থ হলো ভূমিষ্ঠ হবার পর থেকে বালেগ হওয়া পর্যন্ত সন্তানের সব ধরনের খরচ পিতা বহন করবে। তার ভূমিষ্ঠ হবার খরচ, খানা-পিনা, পরিধান ও ওড়নার খরচ, সেবা তত্ত্বাবধানের খরচ, স্বাস্থ্য ও আরামের খরচ, অন্য কোনো মহিলার দুধ পান করানোর প্রয়োজন হলে তার বিনিময় প্রদান, সন্তানের মাকে তালাক দেয়া হলে এবং সে যদি শিশুকে দুধ পান করায় তাহলে তার বিনিময় দান। মোটকথা সন্তান প্রতিপালন ও তার প্রবৃদ্ধির জন্য সব ধরনের ব্যয় বহন করা পিতার শরয়ী দায়িত্ব। পিতা যদি সচ্ছল হয় তাহলে সন্তানের সাদকা, ফিতরা আদায়ও তার উপর ওয়াজিব এবং আকীকা দান মুস্তাহাব।
📄 ব্যয়ভার এবং পিতার আবেগ
পিতা সন্তানের এ অধিকার অত্যন্ত উদারতার সাথে আদায় করে। গায়ের ঘাম পায়ে ফেলা অর্থ-সম্পদ নির্দ্বিধায় খরচ করে সে যখন সন্তানকে হাসি-খুশী দেখতে পায় তখন তার সকল ক্লেশ দূর হয়ে যায়। তার পিতৃত্বের স্নেহ আকিঞ্চনের আবেগ শান্ত হয় এবং আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে।
📄 ব্যয়ভার ও দীনি দায়িত্ব
আল্লাহ পাক পিতার অন্তরে পিতৃত্ব সুলভ ভালোবাসার সীমাহীন আবেগ সৃষ্টি করে তার এবং সন্তানের উপর বিরাট ইহসান করেছেন। এ স্বভাবজাত মায়া-মমতা ছাড়া শুধুমাত্র কর্তব্য হিসেবে সন্তানের খরচ বহন করা খুব কঠিন কাজ ছিলো এবং খুব কম মানুষই এ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হতো। ফলে সন্তান প্রতিপালন মানব সমাজে এক কঠিন সমস্যায় রূপ নিতো এবং সাধারণত সন্তান প্রতিপালন থেকে বঞ্চিত থাকতো। সন্তানের উপর আল্লাহরও বিরাট ইহসান যে, তিনি মাতা-পিতার অন্তরে স্নেহ ও মায়া-মমতা সৃষ্টি করে তাদের প্রতিপালনের জন্য অত্যন্ত সুন্দর দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।
মুসলমান পিতা সন্তানের ব্যয় ভার সহজাত ভালোবাসার কারণে বহন করে থাকে। কিন্তু সাথে সাথে সে এ ধারণাও করে যে, সন্তান প্রতিপালনের জন্য ব্যয় ভার বহন দীনি দায়িত্বও বটে। আল্লাহ সন্তানের অভিভাবকত্ব করার জন্য তার দায়িত্বে ন্যস্ত করেছেন। সন্তানের ব্যয় ভার বহন করে সে একদিকে যেমন পিতৃত্বের আবেগ পূরণ করে, তেমনি আখেরাতে সে এ উত্তম কাজের অফুরন্ত প্রতিদান পাবার আকাঙ্ক্ষা আল্লাহর নিকট প্রকাশ করে।
সন্তানের প্রতি স্বভাবজাত ভালোবাসার সাথে সাথে যখন এ শক্তিশালী বিষয় মিলিত হয় তখন সন্তান প্রতিপালনের ব্যয়ভার বহন পরকালীন সফলতার মাধ্যম হয়ে ওঠে। অতএব সন্তান প্রতিপালনে ব্যয়ভার বহনের অর্থ যখন এ সুন্দর লক্ষ্যে সুষমামণ্ডিত হয়ে উঠে তখন এ দায়িত্ব পালন খুব সহজ হয়ে যায়। মুসলমান পিতা পরকালীন মুক্তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এ দায়িত্বকে ফরয মনে করে আনজাম দিয়ে থাকে। সন্তান প্রতিপালনের জন্য কঠিনতম শ্রম স্বীকার করে এবং বিরাট কুরবানী দিয়ে আল্লাহ তার উপর যে আমানত ন্যস্ত করেছিলেন তা নষ্ট হয়নি বলে সে আনন্দ অনুভব করে। সন্তান প্রতিপালনে অর্থ ব্যয় করে মনে করে যে আল্লাহর নির্দেশে সে আল্লাহর পথে খরচ করেছে।
হযরত আবু মাসউদ-উল-বদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
إِذَا أَنفَقَ الرَّجُلُ عَلَى أَهْلِهِ نَفَقَةً يَحْسِبُهَا فَهِيَ لَهُ صَدَقَةٌ - متفق عليه، رياض الصالحين সঃ ১৫২
"যখন কোনো ব্যক্তি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধান এবং পরকালে সওয়াব পাওয়ার জন্যে পরিবার-পরিজনের উপর ব্যয় করে তাহলে তার এ ব্যয় (আল্লাহর দৃষ্টিতে) সাদকা হিসেবে পরিগণিত হয়।" -বুখারী ও মুসলিম
ইহতিসাবের সাথে কোনো কাজ করার অর্থ হলো শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকালীন সওয়াবের জন্য কাজ করা এবং অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তা না করা।
📄 উত্তম আদর্শ
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘরে যখন সবচেয়ে ছোট ছেলে হযরত ইবরাহীম ভূমিষ্ঠ হলেন তখন তার গোলাম আবু রাফে তাকে এ সুসংবাদ শুনালো। তিনি আনন্দে তৎক্ষণাৎ একটি গোলাম আযাদ করে দিলেন। সাত দিনের দিন আকীকা করলেন এবং শিশুর চুল কাটালেন। তিনি চুলের সমান রৌপ্য আল্লাহর রাস্তায় দান করলেন।
দুধ খাওয়ানোর জন্য আনসারের অনেক মহিলা প্রস্তাব দিলেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে খাওলা বিনতে যায়েদ আনসারীকে এ খিদমতের জন্য বাছাই করলেন এবং ইবরাহীমকে তার হাওয়ালা করে দিলেন। এ খেদমতের বিনিময়ে তাঁকে কতিপয় খেজুর বৃক্ষ দেয়া হলো।