📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মাতৃদুগ্ধ এবং স্বাস্থ্য

📄 মাতৃদুগ্ধ এবং স্বাস্থ্য


যেসব দেশে সভ্যতার আধুনিক দাবীর প্রেক্ষিতে মায়েরা শিশুকে নিজের দুধ পান করানোয় অনীহা প্রকাশ করছেন সেখানে স্বাস্থ্যের মাপকাঠি নিম্নগামী হচ্ছে এবং সন্তানরা মাতা-পিতার চরিত্র থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রথম দিকে কিছুদিন মায়ের দুধে কোলোস্ট্রাম নামক এক ধরনের বস্তু মিশ্রিত থাকে। এ কোলোস্ট্রাম শিশুর মজবুত জীবনী শক্তি দান করে। তাতে যে পরিমাণ ভিটামিন “এ” পাওয়া যায় পরবর্তীতে তা আর পাওয়া যায় না। তার পরিমাণ আস্তে আস্তে কমে আসে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম দিকে মা-কে নিজের দুধ অবশ্যই পান করাতে হবে। শিশু মায়ের পেটে এ ভিটামিন লাভ করে না। সুতরাং জীবনের প্রথম দিকে তাকে তা অবশ্যই পেতে হবে। কোলোস্ট্রাম সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুদেরকে বাইরের জীবাণু আক্রমণ থেকেও রক্ষা করে থাকে।
সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুদের কাশি এবং নিউমোনিয়ার ভয় থাকে। যদি তারা কোলোস্ট্রাম পেতে থাকে তাহলে এ রোগে আক্রান্ত হবার আশংকা কমে যায়। ভূমিষ্ঠ হবার এক মাসের মধ্যে যেসব শিশু মারা যায় তাদের অধিকাংশই কোলোস্ট্রাম ঘাটতিজনিত কারণে মারা যায়।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 আধুনিক গবেষণা

📄 আধুনিক গবেষণা


গবেষকরা এ ব্যাপারে একমত যে, সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুদেরকে সব ধরনের কষ্ট থেকে নিরাপদ রাখার সর্বোত্তম পন্থা হলো তাদেরকে মায়ের দুধ পান করানো। এ খাদ্য তাদের জন্য ওষুদের প্রয়োজন পূরণ করে। জীবনের প্রথম দিকে শিশুদের যে সকল রোগ হয় তার অধিকাংশ খাবারের কারণেই হয়ে থাকে।
চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, পশুদের ব্যাপারটি মানুষের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। গাভীর দুধ তার বাছুরের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কেননা তাকে খুব তাড়াতাড়ি নিজের পায়ের উপর দাঁড়াতে হয়। মস্তিষ্কের যোগ্যতার তুলনায় শারীরিক শক্তির প্রয়োজন তার একটু বেশী। মানুষের শিশু ভূমিষ্ঠ হবার পর পরই চলা-ফেরা করার প্রয়োজন হয় না। তার মস্তিষ্কের যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। মায়ের দুধ এসব যোগ্যতা অর্জনের জন্য মোক্ষম বস্তু হিসেবে কাজ করে।
মায়ের দুধ চর্বির পরিমাণ থাকে ৪ ভাগ। কিন্তু শীল মাছের দুধে চর্বির পরিমাণ থাকে ৪০ ভাগ। ব্যাপারটি স্পষ্ট। কারণ, শীল মাছের শরীরে শীঘ্রই চর্বির একটি পর্দার প্রয়োজন হয়। এ চর্বির সাহায্যে সে বরফ এবং বরফ যুক্ত পানির শীতলতা মুকাবিলা করে বেঁচে থাকে। পক্ষান্তরে খরগোশের দুধে প্রোটিনের অংশ কিছু বেশী থাকে। মানুষের দুধের চেয়ে ১০ গুণ বেশী। এ কারণেই খরগোশের বাচ্চা তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পায়। মাত্র ৬ দিনে তার ওজন ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিন থেকে দ্বিগুণ হয়ে যায়। মানব শিশুর ওজন দ্বিগুণ হতে ছ' মাস লাগে। এ হলো প্রকৃতির নিয়ম।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মা’র ছাড়া অন্য দুধ খাওয়ানোর কুফল

📄 মা’র ছাড়া অন্য দুধ খাওয়ানোর কুফল


আধুনিক ধারণা মতে উচ্চ রক্তচাপ রোগ বেশী বয়সে হয় না। বরং শিশুকালেই তা শুরু হয়। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো গাভীর দুধের বর্ধিত সোডিয়াম। ফ্যাশন প্রিয় জাতির হৃদরোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো মাতৃদুগ্ধ ছাড়া অন্য দুধ পান করা। এক জরিপ অনুযায়ী জানা গেছে যে, আমেরিকায় নিজের দুধ পান করনেওয়ালী মায়ের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে গেছে। বৃটেনের একটি শহরে এ সংখ্যা ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৩৬ শতাংশ হয়েছে এবং পাঁচ বছরে ফ্রান্সে মায়ের দুধ পান করেনি এমন শিশুর সংখ্যা ৩১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫১ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস্তব কথা হলো, প্রকৃতি প্রত্যেক জীবের স্তন্যপায়ী দুধ শুধুমাত্র তার সন্তানের জন্য উপযোগী করে রেখেছে।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 হৃদ্যতা

📄 হৃদ্যতা


যে শিশুকে নিজের বুকে নিয়ে দুধ পান করায় সে শিশু দুধ পান ছাড়াও মা'র নিকটে হেফাজতের অনুভূতি লাভ করে। আর এ অনুভূতি সারা জীবনই তার জাগ্রত থাকে এবং মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে তাকে একজন ভালো মানুষ তৈরি করে। দুধের এ সম্পর্ক মা ও শিশুর মধ্যে অটুট বন্ধন সৃষ্টি করে। এ বন্ধন ও মায়া-মমতার সম্পর্ক বাজারে ক্রয়ের বস্তু হতে পারে না।
মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, এ রোগের বর্ধিত সংখ্যার অন্যতম কারণ হলো আজকাল মানুষ মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত। আধুনিক সভ্যতা মা ও শিশুর মধ্যে এক কৃত্রিম প্রাচীর খাড়া করছে। কাঁচের বা প্লাষ্টিকের জীবনহীন বোতল এবং তাতে ভরা পশুর দুধ মা'র নরম বাহু ও সবদিক থেকে পূর্ণ দুধের বিকল্প হতে পারে না। উপরন্তু দুধ পান করানোর সময় মা যে প্রশান্তি লাভ করেন তার কোনো জবাব হয় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00