📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 প্রতিপালনের দায়িত্ব পালনকারিণী একজন মা

📄 প্রতিপালনের দায়িত্ব পালনকারিণী একজন মা


"আল্লাহ আমার আম্মাজানকে জাযায়ে খায়ের দিন। তিনি আমার লালন-পালন ও অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন।"
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ খাদেম হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর আম্মার ব্যাপারে একথাগুলো বলেছেন।
আনাসের মাতা উম্মে সুলাইম কুনিয়তে বেশী প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাঁর প্রকৃত নাম রামিলা অথবা সাহলা ছিলো এবং লকব ছিলো রামিসা। তাঁর পিতার নাম ছিলো মালহান। আনসারের নাজ্জার গোত্রের সাথে তিনি সম্পর্কযুক্ত ছিলেন।
তাঁর বিয়ে তাঁরই গোত্রের এক নওজোয়ান মালিক বিন নজরের সাথে হয়েছিলো। তার ঔরষেই হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু জন্মগ্রহণ করেন। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু শিশু থাকাবস্থায় উম্মে সুলাইম মুসলমান হয়ে যান।
উম্মে সুলাইম শিশু সন্তানকে মন-প্রাণ দিয়ে চাইতেন। যখন তিনি শিশুকে কালেমা শিখাতেন তখন মালিক বিন নজর খুব গোস্বা হতো। অবশেষে নারাজ হয়ে সে সিরিয়া চলে গেলো।
সিরিয়ায় তার এক শত্রু সুযোগ পেয়ে তাকে হত্যা করলো এবং উম্মে সুলাইম যৌবনকালেই বিধবা হয়ে গেলেন। এক্ষণে বিয়ের পয়গাম আসা শুরু হয়ে গেলো। কিন্তু তিনি প্রত্যেক পয়গামই এ বলে প্রত্যাখ্যান করলেন: “আমি ততক্ষণ পর্যন্ত বিয়ে করবো না যতক্ষণ পর্যন্ত আমার পুত্র মজলিসে উঠা-বসা এবং কথাবার্তা বলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারে। অতপর যখন আনাসই আমার বিয়ের ব্যাপারে রাজী হবে তখন বিয়ে করবো।”
উম্মে সুলাইম যুবতী মহিলা ছিলেন। আনাস ছিলো শিশু। উম্মে সুলাইম পেরেশান ছিলেন। কিন্তু এটা তাঁর নিকট অসহনীয় ছিলো যে, সতালো পিতার দুর্ব্যবহারে শিশু মনে কোনো আঘাত লাগে।
অতপর যখন হযরত আনাস যুবক হলো তখন আবু তালহা পয়গাম প্রেরণ করলো। কিন্তু কিভাবে তা গ্রহণ করতে পারে! আবু তালহা তো মুসলমান ছিলো না। সে জন্য এ পয়গام তিনি প্রত্যাখ্যান করলেন। কিন্তু এ প্রত্যাখ্যান ছিলো অত্যন্ত হেকমতের প্রত্যাখ্যান। যাতে আবু তালহার চক্ষু খুলে যায়। উম্মে সুলাইম বললেন:
يَا أَبَا طَلْحَةَ الَستُ تَعلَمُ أَنَّ الْهَكَ الَّذِي تَعْبُدُ نَبَتَ مِنَ الْأَرْضِ قَالَ بَلَى قَالَت أَفَلَا تَسْتَحْيِي تَعْبُدُ شَجَرَةً - اصابه ج دوم ومسند احمد
“আবু তালহা ! আপনি কি জানেন না যে, যাকে আপনি আল্লাহ বানিয়ে পূজা করছেন তা মাটি থেকে মাথা বের করে? তিনি বললেন, হাঁ, জানি। এরপর উম্মে সুলাইম বলতে লাগলেন, তাহলে বৃক্ষ পূজা করতে আপনার লজ্জা লাগে না?-ইসাবাহ এবং মুসনাদে আহমদ
একথা শুনে আবু তালহা চিন্তায় পড়ে গেলেন। সে সময় তিনি চলে গেলেন। কিন্তু অন্তরের কালিমা দূর হবার উপক্রম হলো। কিছু দিন পর উম্মে সুলাইমের নিকট এলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করে অভিষিক্ত হলেন।
উম্মে সুলাইম যখন দেখলেন যে, ইসলামের মতো সম্পদ দিয়ে আল্লাহ পাক আবু তালহাকে অভিষিক্ত করেছেন, তখন তার অসহায়ত্ব ও দারিদ্রের কোনো পরওয়া না করে তিনি বললেন, আবু তালহা! আমি তোমার পয়গাম কবুল করছি। আমার মোহরানা তোমার ইসলাম। উম্মে সুলাইমের এ বিয়ে সে সুসন্তানের ব্যবস্থাপনাতেই হয়েছিলো যার সুন্দর প্রতিপালনের খাতিরে এতোদিন পর্যন্ত তিনি বিয়েতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, আমার মা'র মোহরও ছিলো আশ্চর্য ধরনের।
আল্লাহর দৃষ্টিতে এ নেক স্ত্রীর মর্যাদা কতটুকুন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ বর্ণনাতেই তা অনুমান করা যায়:
دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَسَمِعْتُ خَشَفَةً فَقُلْتُ مَا هَذَا فَقِيلَ الرُّمَيْصَاءُ بِنتُ مِلْحَانَ -
صحيح مسلم ج دوم وطبقات ابن سعد ج هشتم
"আমি বেহেশতে প্রবেশ করলাম। এ সময় আমি একটা কিছুর শব্দ শুনতে পেলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম এ শব্দ কিসের? বলা হলো, এটা মিলহানের কন্যা রুমাইসার আওয়াজ।" -মুসলিম ও তাবকাতে ইবনে সা'দ

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 শিশু প্রতিপালনের জন্য নজিরবিহীন কুরবানী

📄 শিশু প্রতিপালনের জন্য নজিরবিহীন কুরবানী


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে মহিলা সাহাবীবৃন্দ রাদিয়াল্লাহু আনহু আর কার নিকট বেশী প্রিয় ছিলো। কিন্তু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নিজের চাচা আবু তালিবের কন্যা উম্মে হানির নিকট বিয়ের পয়গাম পেশ করলেন, তখন তিনি এজন্য ক্ষমা চাইলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশু প্রতিপালনের গুরুত্ব সম্পর্কে মহিলা সাহাবীদের যে শিক্ষা দিয়েছিলেন তা তাঁরা খুব ভালোভাবেই গ্রহণ করেছিলেন। উম্মে হানি ক্ষমা চেয়ে যে কথা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছিলেন তা চিন্তা করে দেখুন। তাহলেই পরিষ্কার হবে যে, মহিলা সাহাবীদের নিকট সন্তান প্রতিপালন কতখানি গুরুত্বের বিষয় ছিলো। উম্মে হানি বলেছিলেন:
"হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার এ দু চোখ থেকেও প্রিয়। কিন্তু স্বামীর অধিকার অনেক বেশী। বিয়ে করতে গিয়ে আমি ভয় পাই যে, যদি স্বামীর খিদমতের অধিকার আদায় করি তাহলে এসব অন্তরের মনিদের (সন্তান) অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবো না। আর যদি সন্তানের খিদমতে লেগে থাকি তাহলে স্বামীর হক আদায় করতে পারবো না।"-তাবকাতে ইবনে সা'দ : উম্মে হানি প্রসঙ্গ
এ সেই ভাগ্যবতী উম্মে হানি, যাঁর গৃহে রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন গোসল করেছিলেন এবং চাশতের নামায আদায় করেছিলেন। আত্মীয়তার বন্ধনের কারণে উম্মে হানি যে দু মুশরিককে নিজের গৃহে আশ্রয় দিয়েছিলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। -মুসনাদে আহমদ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00