📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 সন্তানের খাতিরে দ্বিতীয় বিয়ে না করা

📄 সন্তানের খাতিরে দ্বিতীয় বিয়ে না করা


যদি কোনো মহিলার স্বামী মারা যান, তাহলে তার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করা শুধু বৈধই নয় বরং পসন্দনীয়ও। কিন্তু যদি কোনো মহিলা নিজের সন্তানের খাতিরে দ্বিতীয় বিয়ে না করেন এবং তিনি মৃত স্বামীর ইয়াতীম সন্তানের উপর নিজের রূপ ও যৌবন কুরবানী করে দেন তাহলে তাঁর এ কাজ এতো পসন্দনীয় এবং গ্রহণীয় হবে যে, তিনি কিয়ামতের দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে থাকবেন।
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَامْرَأَةُ سَفْعَاءُ الخَدَّيْنِ كَهَاتَيْنِ يَوْمَ الْقِيمَةِ وَأَوْمَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ إِلَى الْوُسْطَى وَالسَّبَّابَةِ أَمْرَأَةُ أَمَتْ مِنْ زَوْجِهَا ذَاتُ مَنْصَبٍ وَجَمَالٍ حَبَسَتْ نَفْسَهَا عَلَى يَتَامَاهَا حَتَّى بَانُوا أَوْمَاتُوا -
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমি এবং (দুশ্চিন্তায়) গণ্ড ঝলসিত মহিলা দু' আঙ্গুলের মতো এক সাথে থাকবো। (ইয়াযিদ বিন যুরাই নিজের মধ্যমা এবং শাহাদাত আঙ্গুলের দিকে ইশারা করলেন) অর্থাৎ সে মহিলা যার স্বামী মারা গেছেন। তিনি একজন উঁচু বংশের সম্ভ্রান্ত এবং রূপবতী মহিলা। কিন্তু তিনি নিজের ইয়াতীম শিশুদের (ভালো লালন-পালনের) খাতিরে দ্বিতীয় বিয়ে করা থেকে বিরত থাকেন। এমনকি সে শিশু তার অভিভাবকত্ব থেকে পৃথক হয়ে গেলো অথবা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে গেলো।"
স্বামী বঞ্চিত মহিলার অর্থ দু ধরনের হতে পারে। প্রথমত, যাঁর স্বামী মারা গেছেন। দ্বিতীয়ত, যাঁর স্বামী তালাক দিয়ে দিয়েছেন। আভিধানিক দিক থেকে আইয়েমা সে ব্যক্তিকে বলা হয় যিনি বন্ধন থেকে বঞ্চিত। পুরুষ বন্ধন বঞ্চিত হতে পারেন আবার মহিলাও হতে পারেন। এখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বামী বঞ্চিত পুরুষ ও মহিলার সে কাজকে প্রশংসা করেছেন। অর্থাৎ মহিলাটি ইয়াতীম শিশুদের খাতিরে দ্বিতীয় বিয়ে করছেন না। এজন্য এখানে প্রকৃতিগতভাবে বিধবা মহিলার কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু যদি কোনো মহিলাকে তার স্বামী তালাক দিয়ে দেন এবং শিশুও কোনো কারণবশত মহিলার দায়িত্বে এসে পড়ে, তাহলে এ মহিলা যদি সন্তানের খাতিরে দ্বিতীয় বিয়ে না করেন, তাহলে তিনিও সে সওয়াবের অধিকারী হবেন বলে আশা করা যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00