📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মহিলাদের সবচেয়ে উঁচু মর্যাদার কাজ

📄 মহিলাদের সবচেয়ে উঁচু মর্যাদার কাজ


যেসব দেশে এ পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি, সেসব দেশে মহিলারা অন্তরের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য গলদঘর্ম রয়েছেন এবং সমাজ অন্ধের মতো এ রাস্তায় দৌড়াচ্ছে। কিন্তু যারা এ ভয়াবহ সভ্যতার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করেছে তারা তার তেতো ফল ভোগ করছে। তারা কৃতকর্মের উপর লজ্জিত হয়ে ফিরে আসার চিন্তা করছে। আধুনিক যুগের পাশ্চাত্যের মহান চিন্তানায়ক আর্নল্ড টয়েনবি লিখেছেন:
"মানব ইতিহাসের সেসব যুগই পতনের শিকার হয়েছে যে যুগে মহিলা নিজের কদমকে গৃহের চার দেয়ালের বাইরে নিয়ে গেছে।"
ডঃ জুড লিখেছেনঃ "যদি মহিলারা নিজের গৃহে দেখা-শুনা এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব পালনেই সন্তুষ্ট থাকে তাহলে আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে যে, এ দুনিয়া বেহেশতের প্রতীক হয়ে যাবে।"
সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বহু পূর্বেই নিজের উম্মাতকে সাবধান করে দিয়েছিলেন যে, সে যুগ তোমাদের জন্য খুবই খারাপ যুগ হবে, যে যুগে তোমরা বেগমদের করায়ত্তে চলে যাবে এবং তোমাদের সামষ্টিক কাজকর্মের বাগডোর তাদের হাতে ন্যস্ত হবে। উপরন্তু তিনি বলেছেন:
إِذَا كَانَ أُمَرَاؤُكُمْ شِرَارُكُمْ وَأَغْنِيَاؤُكُمْ بُخَلاتُكُمْ وَأَمُرُكُمْ إِلَى نِسَاءِكُمْ فَبَطْنُ الْأَرْضِ خَيْرٌ لَّكُمْ مِنْ ظَهْرِهَا - مشكوة باب تغير الناس
"যখন তোমাদের শাসক এবং দায়িত্বশীলরা খারাপ লোক হবে, তোমাদের ধনীরা বখিল হবে এবং তোমাদের কার্যাবলী বেগমদের উপর ন্যস্ত হবে, তখন জমিনের পিঠের চেয়ে জমিনের কোল তোমাদের জন্যে উত্তম হবে।”-মিশকাত
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলা উম্মাতকে বলেছেন, তোমরা যদি তোমাদের সহজাত দায়িত্ব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পালন করতে থাকা তাহলে তোমরা বেহেশতে আমার সাথে থাকবে। অর্থাৎ তোমাদের সহজাত এবং গৃহের দায়িত্ব আল্লাহর দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান দায়িত্ব। কোনোভাবেই এ দায়িত্বকে খাটো করে দেখা যাবে না। সে সকল মহিলাইতো সফল যারা নিজেদের এ আসল দায়িত্বকে নিষ্ঠার সাথে পালন করে। সেসব মহিলা কখনই সফল হতে পারে না যারা বাইরের দায়িত্বের বোঝা কাঁধে নিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি থাকতে চায়। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
أَيُّمَا امْرَأَةٍ قَعَدَتْ عَلَى بَيْتِ أَوْلَادِهَا فَهِيَ مَعِيَ فِي الْجَنَّةِ - كنز العمال
“যে মহিলা নিজের সন্তান দেখা-শুনার জন্যে গৃহে বসে থাকে সে বেহেশতে আমার সাথে থাকবে।"-কানজুল উম্মাল
মহিলাদের জন্য এর চেয়ে বড়ো সৌভাগ্য এবং সফলতা আর কি হতে পারে যে, তারা বেহেশতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে থাকবেন। আর এ সৌভাগ্য প্রত্যেক মহিলাই অর্জন করতে পারে যদি সে সন্তান দেখাশুনা ও গৃহের কাজ আনজাম এবং নিজের আসল দায়িত্ব পালন করে।
প্রকৃতপক্ষে মহিলার শারীরিক গঠন, তার বিশেষ পবিত্র আবেগ- অনুভূতি, তার বিশেষ নৈতিক গুণাবলী এবং তার বিশেষ মেযাজ আল্লাহ পাক সে কাজের উপযোগী করেই তৈরি করেছেন। এ স্বভাবজাত কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তার থেকে অন্য কাজ নেয়া যুলুম ছাড়া আর কিছুই নয়।
গৃহের কাজকে খারাপ মনে করা, শিশু প্রতিপালনকে অমর্যাদাকর মনে করা এবং বাইরের সামষ্টিক কাজে অংশ নেয়াকে প্রগতি মনে করা একটি ভুল ধারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। ইসলাম কিছু সীমারেখা টেনে আপনাকে সামষ্টিক কাজে অংশগ্রহণের অধিকার অবশ্যই প্রদান করেছে। কিন্তু এ অধিকার আপনাকে প্রদান করেনি যে, আপনি আপনার সহজাত দায়িত্বকে অমর্যাদাকর মনে করবেন এবং তা ত্যাগ করে বাইরের দায়িত্ব পালনকে প্রগতি মনে করবেন। মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রকৃত উন্নয়ন বলতে এ বুঝায় যে, আপনাকে উন্নত মানব সমাজ গড়তে হবে। আর উন্নত মানব সমাজ গড়তে হলে অত্যাবশ্যক ব্যাপার হলো আপনাকে সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব পালন এবং উন্নত চরিত্র ও পবিত্র স্বভাবের মানুষ তৈরি করতে হবে। কেননা, পবিত্র সমাজ ভালো মানুষ দিয়েই তৈরি সম্ভব। এ কাজ মহিলারা ছাড়া কেউই আনজাম দিতে পারে না। ভালো মানুষ ভালো কোলেই প্রতিপালিত হয়ে থাকে। এ কারণেই ইসলাম আপনার এ কাজকে সবচেয়ে মর্যাদাকর কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আপনার এ কাজ ইসলামের দৃষ্টিতে জিহাদ এবং জিহাদকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীনের শীর্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মাআজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছেন:
اَلَا أَدُلُّكَ بِرَأْسِ الْأَمْرِ وَعُمُودِهِ وَذُرْوَةِ سَنَامِهِ ؟ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ! قَالَ رَأْسُ الْأَمْرِ الْإِسْلَامُ وَعُمُودُهُ الصَّلوةُ وَذَرُوَةُ سَنَامِهِ الْجِهَادُ - ترمذى
“আমি কি তোমাদেরকে দীনের মাথা, স্তম্ভ এবং তার শীর্ষ সম্পর্কে বলে দেবো? আমি বললাম, অবশ্যই বলুন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, দীনের মাথা হলো আনুগত্য করা, তার স্তম্ভ হলো নামায এবং তার শীর্ষ হলো জিহাদ।”
এ শিক্ষার আলোকে আপনি যদি গৃহ দেখাশুনা এবং সন্তান লালন- পালনের কাজে লেগে থাকেন তাহলে আপনি জিহাদের ময়দানে রয়েছেন এবং আল্লাহর দৃষ্টিতে আপনার আর মুজাহিদের মর্যাদা সমান।
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
عَلَيْكُنَّ بِالْبَيْتِ فَإِنَّهُ جِهَادُكُنَّ - مسند احمد ج ۲
“গৃহ দেখাশুনা করা তোমাদের দায়িত্ব। আর এটাই তোমাদের জিহাদের কাজ।”

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 সন্তানের খাতিরে দ্বিতীয় বিয়ে না করা

📄 সন্তানের খাতিরে দ্বিতীয় বিয়ে না করা


যদি কোনো মহিলার স্বামী মারা যান, তাহলে তার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করা শুধু বৈধই নয় বরং পসন্দনীয়ও। কিন্তু যদি কোনো মহিলা নিজের সন্তানের খাতিরে দ্বিতীয় বিয়ে না করেন এবং তিনি মৃত স্বামীর ইয়াতীম সন্তানের উপর নিজের রূপ ও যৌবন কুরবানী করে দেন তাহলে তাঁর এ কাজ এতো পসন্দনীয় এবং গ্রহণীয় হবে যে, তিনি কিয়ামতের দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে থাকবেন।
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَامْرَأَةُ سَفْعَاءُ الخَدَّيْنِ كَهَاتَيْنِ يَوْمَ الْقِيمَةِ وَأَوْمَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ إِلَى الْوُسْطَى وَالسَّبَّابَةِ أَمْرَأَةُ أَمَتْ مِنْ زَوْجِهَا ذَاتُ مَنْصَبٍ وَجَمَالٍ حَبَسَتْ نَفْسَهَا عَلَى يَتَامَاهَا حَتَّى بَانُوا أَوْمَاتُوا -
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমি এবং (দুশ্চিন্তায়) গণ্ড ঝলসিত মহিলা দু' আঙ্গুলের মতো এক সাথে থাকবো। (ইয়াযিদ বিন যুরাই নিজের মধ্যমা এবং শাহাদাত আঙ্গুলের দিকে ইশারা করলেন) অর্থাৎ সে মহিলা যার স্বামী মারা গেছেন। তিনি একজন উঁচু বংশের সম্ভ্রান্ত এবং রূপবতী মহিলা। কিন্তু তিনি নিজের ইয়াতীম শিশুদের (ভালো লালন-পালনের) খাতিরে দ্বিতীয় বিয়ে করা থেকে বিরত থাকেন। এমনকি সে শিশু তার অভিভাবকত্ব থেকে পৃথক হয়ে গেলো অথবা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে গেলো।"
স্বামী বঞ্চিত মহিলার অর্থ দু ধরনের হতে পারে। প্রথমত, যাঁর স্বামী মারা গেছেন। দ্বিতীয়ত, যাঁর স্বামী তালাক দিয়ে দিয়েছেন। আভিধানিক দিক থেকে আইয়েমা সে ব্যক্তিকে বলা হয় যিনি বন্ধন থেকে বঞ্চিত। পুরুষ বন্ধন বঞ্চিত হতে পারেন আবার মহিলাও হতে পারেন। এখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বামী বঞ্চিত পুরুষ ও মহিলার সে কাজকে প্রশংসা করেছেন। অর্থাৎ মহিলাটি ইয়াতীম শিশুদের খাতিরে দ্বিতীয় বিয়ে করছেন না। এজন্য এখানে প্রকৃতিগতভাবে বিধবা মহিলার কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু যদি কোনো মহিলাকে তার স্বামী তালাক দিয়ে দেন এবং শিশুও কোনো কারণবশত মহিলার দায়িত্বে এসে পড়ে, তাহলে এ মহিলা যদি সন্তানের খাতিরে দ্বিতীয় বিয়ে না করেন, তাহলে তিনিও সে সওয়াবের অধিকারী হবেন বলে আশা করা যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00