📄 কন্যা সৌভাগ্যের কারণ হলো
ইমরানের স্ত্রী আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন যে, হে পরওয়ারদিগার! আমি আমার ভূমিষ্ঠতব্য সন্তানকে তোমার দরবারে মানত করেছি। তুমি আমার মানত কবুল করো। কিন্তু যখন তার কন্যা সন্তান জন্ম নিলো তখন খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলো এবং বললো, পরওয়ারদিগার! এতো কন্যা। হায় আল্লাহ! এ কন্যা দিয়ে সে লক্ষ্য কি করে পূরণ হবে। পুত্র তো কন্যার মতো হয় না। পুত্র তো প্রাকৃতিক দুর্বলতা এবং তামাদ্দুনিক বাধ্য বাধকতা থেকে মুক্ত হয়। কিন্তু আল্লাহ খুব ভালোভাবেই জানতেন যে, ইমরানের বেগম কাকে জনা দিয়েছে। সে তাকে কন্যা মনে করে চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হচ্ছে। সে মনে করছে যে, সে লক্ষ্য কি করে পূরণ হবে, যে জন্য সে সন্তানকে মানত করতে চেয়েছিলো। সেকি জানতো যে, এ কন্যাই তার জন্য সৌভাগ্যের কারণ হবে এবং এ কন্যাই কিয়ামত পর্যন্ত তার নাম আলোকিত করে রাখবে? তার বদৌলতেই ইমরানের বেগমের নাম সর্বশেষ আসমানী কিতাবে সংরক্ষিত হবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত কোটি কোটি মানুষ তাঁর নাম স্মরণ করবে এবং তার বদৌলতেই সে এমন এক নেতৃস্থানীয় পয়গাম্বরের নানী হবেন যাঁর উপর আল্লাহ ইনজিল কিতাব নাযিল করবেন।
বস্তুত ইমরানের স্ত্রীর মানত আল্লাহ পাক ব্যর্থ করেননি। বরং সে কন্যাকে আল্লাহ এমন সুন্দরভাবে কবুল করেছেন যা কিয়ামত পর্যন্ত স্মরণ করা হবে। তার নাম সহিফায় সংরক্ষিত রয়েছে। যা পড়া সাওয়াব। শুনা সাওয়াব এবং শুনানোও সাওয়াব। পবিত্র কুরআনে সে কাহিনীও এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে:
فَتَقَبَّلَهَا رَبُّهَا بَقَبُولٍ حَسَنٍ وَأَنْبَتَهَا نَبَاتًا حَسَنَا وَكَفَّلَهَا زَكَرِيَّا ، كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِنْدَهَا رِزْقًا قَالَ يُمَرْيَمُ أَنِّي لَكِ هَذَا ، قَالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ ، إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ ال عمران : ٣٧
“শেষ পর্যন্ত তার আল্লাহ এ কন্যা সন্তানকে সন্তুষ্টির সাথে কবুল করে নিলেন, তাকে খুব ভালো মেয়ে হিসেবে গড়ে তুললেন এবং যাকারিয়াকে তার পৃষ্ঠপোষক করে দিলেন, যাকারিয়া যখন তার নিকট মেহরাবে যেতো তখনই তাঁর নিকট কিছু না কিছু খাদ্য বা পানীয় দ্রব্য দেখতে পেতো। জিজ্ঞেস করতো: মরিয়ম, এ তুমি কোথায় পেলে? উত্তর দিতো, এ আল্লাহর নিকট থেকে এসেছে। বস্তুত আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিপুল পরিমাণ রিযেক দান করেন।"
সন্তান আল্লাহর দান। কন্যাও তারই দান এবং পুত্রও। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাজ হলো সে দানের মূল্য দেবে এবং দানকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। আল্লাহর দানের মূল্য না দেয়া এবং অকৃতজ্ঞ হওয়া কখনই মুমিনের পক্ষে শোভা পায় না। আল্লাহই ভালো জানেন, কাকে কোন্ নিয়ামত দিতে হবে এবং তিনিই নিজের জ্ঞান ও কুদরতের অধীন বিজ্ঞতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং তাকেই নিজের জন্য কল্যাণকর মনে করা মুমিনের কর্তব্য।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে প্রত্যেক মু'মিন পুরুষ এবং মু'মিন মহিলার আকীদা বা বিশ্বাস হলো, তাঁর থেকে উত্তম বা আফজাল কেউই সৃষ্টি হয়নি এবং হতেও পারে না। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চার কন্যার পিতা ছিলেন। হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আসমান ও জমিনে তাঁর থেকে উত্তম কোনো মহিলা নেই। তাঁরই মাধ্যমে আল্লাহ পাক প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ চার কন্যা দান করেছিলেন এবং হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা সে চার কন্যার মাতা ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মাহকে হেদায়াত করেছেন:
لَا تَكْرَهُو الْبَنَاتِ فَإِنِّي أَبُو الْبَنَاتِ
"কন্যাদেরকে ঘৃণা করো না, আমি স্বয়ং কন্যাদের পিতা।”
এছাড়াও তিনি বলেছেন, কন্যারা অত্যন্ত মুহাব্বাতওয়ালী এবং কল্যাণ ও খায়ের বরকতের হয়। -কানযুল উম্মাল