📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মেয়েদেরকে জীবন্ত দাফন থেকে বাঁচানোর শুভ চেষ্টা

📄 মেয়েদেরকে জীবন্ত দাফন থেকে বাঁচানোর শুভ চেষ্টা


ফারাযদাক আরবের একজন প্রখ্যাত কবি ছিলেন। একটি ব্যাপারে তাঁর বড়ো অহংকার ছিলো। তাঁর দাদা হযরত ছা' ছা' কত মেয়েকেই না জীবন্ত দাফন হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন। হযরত ছা' ছা' নিজেই নিজের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন:
“একবার আমি আমার দুটি নিখোঁজ উটের সন্ধানে বের হলাম। দূরে আগুন নজরে এলো। কখনো আগুনের শিখা লেলিহান হয়ে উঠতো আবার কখনো তা নিভে যেতো। আমি চিন্তা করলাম গিয়েই দেখি না ঘটনা কি। সম্ভবত কোনো মুসিবতে পতিত মানুষ এ আগুন জ্বালিয়ে রেখেছে। আমি রওয়ানা দিলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম যে, কোনো মুসিবত পতিত লোক হলে এবং তার উপকারে আসলে অবশ্যই তার বিপদ দূর করার চেষ্টা চালাবো। কিন্তু আমি দ্রুত উট চালালাম এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই বনী আনমারের মহল্লায় পৌঁছলাম। গিয়ে দেখি, লম্বা চুলওয়ালা এক বৃদ্ধ নিজের গৃহের সামনে বসে শোক প্রকাশ করছে এবং অনেক মহিলা একজন মহিলাকে ঘিরে বসে আছে। এ মহিলাটি প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছে। সালাম ও দোয়ার পর পরিস্থিতি জানতে চাইলে তারা আমাকে জানালো যে, তিনদিন যাবত মহিলাটি প্রসব বেদনায় কাতর। বড়ো মিয়ার সাথে একথা হচ্ছিল এমন সময় মহিলারা বলে উঠলো বাচ্চা জন্ম নিয়েছে বৃদ্ধ চেঁচিয়ে উঠলো, পুত্র হলে ভালো। আর যদি কন্যা হয় তাহলে তার আওয়াজ শ্রবণ করতে চাই না। এক্ষণই তাকে হত্যা করবো। আমি অত্যন্ত মিষ্টিভাবে বললাম শেখ! এটা করবেন না। আপনারই কন্যা। বলো, রুজীর প্রশ্ন। তার রুজীদাতা হলেন আল্লাহ। বৃদ্ধ পুনরায় গর্জে উঠলো। না, তাকে জীবিত রাখবো না। তাকে হত্যা করেই ছাড়বো। আমি বিনয়ের সাথে পুনরায় পীড়াপীড়ি করায় তার ভেতর কিছুটা পরিবর্তন ঘটলো এবং বললো, তুমি যদি এতোই রহমদিল হও তাহলে তার মূল্য দাও এবং নিয়ে গিয়ে প্রতিপালন করো। নির্দ্বিধায় বললাম, আমি ক্রয়ের জন্য প্রস্তুত আছি এবং নবজাত কন্যাকে ক্রয় করে খুশীর সাথে ফিরে এলাম এবং আল্লাহর নিকট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলাম যে, এ শিশু কন্যাকে স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে পালন করবো। আমি আল্লাহর সাথে এ ওয়াদাও করলাম যে, যখনই কোনো পাষাণ হৃদয় কোনো নিষ্পাপ কন্যাকে হত্যা করতে চাইবে আমি কখনই তা করতে দিবো না। দাম দিয়ে সে কন্যা নিয়ে আসবো এবং অত্যন্ত স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে তাকে লালন-পালন করবো। অতপর এ সিলসিলা অব্যাহত রইলো। অবশেষে আল্লাহ পাক হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করলেন। সে সময় পর্যন্ত, আমি ৯৪জন শিশু কন্যাকে যালেম পিতা-মাতাদের খপ্পর থেকে বাঁচিয়েছিলাম। অতপর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ অভিশাপ চিরদিনের জন্য শেষ করে দেন।"
ইসলাম সন্তান হত্যার সকল নির্যাতনমূলক প্রথা থেকে সমাজকে পবিত্র করে এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দার পরিচিত হিসেবে উল্লেখ করে যে, সে আল্লাহর নিকট সন্তানকে চক্ষু শীতলকারী বানিয়ে দেয়ার জন্য দোয়া করে থাকে:
وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنِ - الفرقان : ٧٤
"এবং (আল্লাহর বান্দা) সে বলে থাকে যে, হে আমার প্রভু! আমাদের স্ত্রী এবং সন্তানদেরকে আমাদের চক্ষু শীতলকারী বানিয়ে দাও।” -সূরা আল ফুরকান: ৭৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00