📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 জান্নাতে বিশেষ মহল

📄 জান্নাতে বিশেষ মহল


আপনার জীবদ্দশায় যদি সন্তানের মৃত্য হয় এবং আপনি সে মৃত্যু শোক সবর ও ধৈর্যের সাথে বরদাশত করেন তাহলে সন্তান আপনার জন্য আখেরাতের সঞ্চয়, জান্নাতের ওসিলা এবং বিরাট মান-ইজ্জতের মাধ্যম হবে। এ সবরের বিনিময়ে আল্লাহ আপনাকে জান্নাত প্রদান করবেন এবং সেখানে আপনার জন্য একটি বিশেষ ধরনের মহল তৈরি করবেন। সে মহলের নামই হবে "শোকরের মহল।" হযরত আবু মূসা আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِذَا مَاتَ وَلَدُ الْعَبْدِ قَالَ اللهُ تَعَالَى لِمَلَائِكَتِهِ قَبَضْتُمْ وَلَدَ عَبْدِي فَيَقُولُونَ نَعَمُ فَيَقُولُ قَبَضْتُمْ ثَمَرَةَ فُؤَادِهِ فَيَقُولُونَ نَعَمْ فَيَقُولُ فَمَاذَا قَالَ عَبْدِي فَيَقُولُونَ حَمِدَكَ وَاسْتَرْجَعَ فَيَقُولُ اللهُ تَعَالَى ابْنُوا لِعَبْدِي بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَسَمُوهُ بَيْتَ الْحَمْدِ - جامع ترمذی
"যখন কোনো বান্দার সন্তান মারা যায় তখন আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তানের রূহ কবজ করে নিয়েছো। ফেরেশতারা জবাব দেন জ্বী হাঁ। কবজ করে নিয়েছি। এরপর আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন তোমরা তার কলিজার টুকরার রূহ কবজ করেছো! ফেরেশতারা জবাব দেন জ্বী হাঁ, কবজ করেছি। এ সময় আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, অতপর আমার বান্দাহ কি বলেছে? ফেরেশতারা জবাব দেন, (পরওয়ারদিগার) তোমার বান্দা তোমার প্রশংসা করেছে। এবং এ মুসিবতে সে 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন' পড়েছে। একথা শুনে আল্লাহ পাক ফেরেশতাদেরকে তার বান্দার জন্য জান্নাте একটি মহল তৈরির এবং সে মহলের নাম "শোকরের মহল” রাখার নির্দেশ দেন।"

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 সন্তান সাদকায়ে জারীয়াহ

📄 সন্তান সাদকায়ে জারীয়াহ


"হযরত উম্মে হাবিবা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, আমি হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট বসেছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাশরীফ আনলেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে মুসলমান দম্পতিরই তিনটি নাবালেগ শিশু মারা যায় তাহলে এ শিশুরা কিয়ামতের দিন জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবে এবং যখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের কথা বলা হবে তখন এসব নিষ্পাপ শিশু জবাব দেবে যে, যতক্ষণ আমাদের মাতা-পিতা জান্নাতে দাখিল না হবে ততক্ষণ আমরা জান্নাতে যেতে পারি না। তখন আল্লাহ নির্দেশ দেবেন যে, যাও তোমরা এবং তোমাদের মাতা-পিতা সকলেই জান্নাতে যাও।”-তিবরানী
সন্তানের জীবদ্দশায় আপনি যদি দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেন তাহলে সন্তান আপনার জন্য এমন এক সাদকা হিসেবে পরিগণিত হবে যার সওয়াব দুনিয়া থাকা পর্যন্ত আপনার আমলনামায় লেখা হতে থাকবে। মৃত্যুর সাথে আলিঙ্গন করতেই মানুষের আমলের সুযোগ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু সে যদি নেক সন্তান রেখে যায় তাহলে তা এমন এক নেক আমল হবে যার সওয়াব লেখা হতে থাকে। হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ - صحيح مسلم
"যখন মানুষ ওফাত পায় তখন তার আমলের সুযোগ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি কাজ (এসবের সওয়াব মৃত্যুর পরও পেতে থাকেন)। কাজ তিনটি হলো, এমন সাদকাহ প্রদান যা তার পরও অব্যাহত থাকে। অথবা এমন ইলম বা জ্ঞান পরিত্যাগ করে যান যে তারপরও মানুষ তা থেকে উপকৃত হতে থাকেন। অথবা এমন নেক সন্তান রেখে যান যে, মৃত্যুর পর তার জন্য দোয়া করতে থাকে।"
"হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু ইরশাদ করেছেন, যখন মাইয়্যেতের মর্যাদা বুলন্দ হয় তখন সে আশ্চর্যান্বিত হয়ে জিজ্ঞেস করে, এটা কেমন করে হলো? আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে বলা হয় যে, তোমার সন্তান তোমার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করছে এবং আল্লাহ সে দোয়া কবুল করেছেন।"
"হযরত ইবনে সিরীন রাহমাতুল্লাহ আলাই বলেন, এক রাতে আমরা আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিদমতে বসেছিলাম। এমন সময় তিনি দোয়ার জন্য হাত উঠালেন এবং বিনয়ের সাথে বললেন, হে আমার পরওয়ারদিগার! আবু হুরাইরাকে ক্ষমা করো। হে পরওয়ারদিগার! আবু হুরাইরার মা'কে ক্ষমা করো এবং পরওয়াদিগার! সে সকল লোককেও ক্ষমা করে দাও যারা আবু হুরাইরা ও তার মা'র জন্য মাগফিরাতের দোয়া করে। সুতরাং আমরা বরাবর হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং তার মা'র জন্য মাগফিরাতের দোয়া করে থাকি। যাতে আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর দোয়ায় শামিল থাকি।"

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 সন্তান হত্যা জঘন্যতম পাপ

📄 সন্তান হত্যা জঘন্যতম পাপ


মুসলমান সমাজ যদিও বর্তমানে দুঃখজনক পশ্চাৎগমন এবং শিক্ষণীয় পতনে ক্ষত-বিক্ষত। বিশ্বে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া ও উন্নতি অর্জনের সাহসও হারিয়ে বসেছে এবং আখেরাতে বুলন্দ মর্যাদা হাসিলের শিক্ষাও ভুলে গেছে। এ সত্ত্বেও তাওহীদে এবং দীনের মৌলিক শিক্ষার সাথে সম্পর্ক রক্ষার বদৌলতে মুসলমান মহিলাদেরই এ বিশেষ মর্যাদা রয়েছে যে, তারা কিছু গুনাহর ব্যাপারে চিন্তাও করতে পারে না। যেসব গুনাহতে অন্যান্য মহিলা লিপ্ত রয়েছে অথবা খুব সহজেই তাতে লিপ্ত হতে পারে।
মুসলমান মহিলা চিন্তাও করতে পারে না যে, সে নিজের নিষ্পাপ শিশুকে নিজের হাতে হত্যা করে ফেলবে। ইসলাম এ মারাত্মক পাপ নির্মূল করার জন্য একদিকে মাতা-পিতার অন্তরে মানব জীবনের মর্যাদার গভীর অনুভূতি এবং সন্তানের কদর ও মূল্য সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে সন্তান হত্যাকে এতো সঙ্গীন পাপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যে, তাকে শিরকের মতো জঘন্য গুনাহ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُم مِّنْ إِمْلَاقٍ - الانعام : ١٥١
“(হে রাসূল!) তাদেরকে বলুন যে, এসো আমি তোমাদেরকে বলি যে, তোমাদের রব তোমাদের উপর কি কি বস্তু নিষিদ্ধ করেছেন। তার সাথে কাউকে শরীক করো না। এবং মাতা-পিতার সাথে সুন্দর আচরণ করা ও দারিদ্রের ভয়ে সন্তান হত্যা করো না।"-সূরা আল আনআম : ১৫২
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ভয়ানক যুলুম থেকে সমাজকে পবিত্র করার উপর এতো গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন যে, বাইয়াতে আকাবাতে তিনি সর্বপ্রথম আনসারদের নিকট থেকে যেসব জরুরী বিষয়ে ওয়াদা নিয়েছিলেন তার মধ্যে অন্যতম বিষয় ছিলো, তারা যেন সন্তানদেরকে হত্যা না করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে যেসব মহিলা হাজির হতেন তাদের নিকট থেকেও তিনি সন্তান হত্যা না করার ওয়াদা নিতেন। হুদাইবিয়ার সন্ধির পর যে সকল মহিলা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তাদের নিকট থেকে যে প্রতিশ্রুতি নেয়া হয়েছিলো তার এক দফায় সন্তান হত্যা না করার ওয়াদা সন্নিবেশিত ছিলো। ঈদের সাধারণ সমাবেশে তিনি মহিলাদের এলাকাতে তাশরিফ নিতেন এবং তাদের নিকট থেকে অন্যান্য বিষয়ের সাথে সাথে এ ব্যাপারেও ওয়াদা নিতেন।
"হযরত উবায়দাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বিন সামেত বর্ণনা করেছেন, একবার আমরা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাদেরকে বললেন, আমার নিকট একথার উপর বাইয়াত করো যে, তোমরা কাউকে আল্লাহর সাথে অংশীদার বানাবে না, চুরি করবে না, বদ কাজ থেকে বিরত থাকবে এবং নিজের সন্তানকে হত্যা করবে না। যে ব্যক্তি এ ওয়াদা পূরণ করবে তার পারিশ্রমিক আল্লাহর জি স্মায়। আর যে ব্যক্তি তার মধ্য থেকে কোনো খারাপ কাজ করলো এবং তাকে আইনের অধীন শান্তি প্রদান করা হলো তাহলে তা হবে তার গুনাহর কাফ্ফারা। আর যার গুনাহ দুনিয়াতে কারোর উপর প্রকাশ পেলো না তাহলে আল্লাহর ইখতিয়ার রয়েছে চাইলে ক্ষমাও করে দিতে পারেন এবং চাইলে শাস্তিও দিতে পারেন।"

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 সন্তান হত্যার কারণসমূহ

📄 সন্তান হত্যার কারণসমূহ


প্রাক ইসলামী যুগে অনেক দেশেই সন্তান হত্যার প্রচলন ছিলো। রোমে এর প্রচলন ছিলো বেশী। প্রকাশ্যভাবে সন্তানকে হত্যা করা হতো। এর কোনো বিচার বিশ্লেষণ হতো না। ভারতের রাজপূতদের মধ্যে এ ভয়ানক প্রথা চালু ছিলো এবং আরববাসীদের নির্দয়তা ও নিষ্ঠুরতার কাহিনী তো কিংবদন্তী হয়ে আছে।
সাধারণত সন্তান হত্যার তিনটি কারণ ছিলো। কিছু নাদান বা আহাম্মক তো একে একটি ধর্মীয় কাজ বলে মনে করতো এবং দেব-দেবীকে সন্তুষ্ট করার মানসে তাদের সমীপে নিজের শিশুকে কুরবানী পেশ করতো। মানত মানতো যে, যদি আমার অমুক কাজ হয়ে যায় তাহলে আমার শিশুকে কুরবানী করবো। এ যুলুম ও নৃশংসতামূলক কাজ শুধু পুরুষরাই করতো না বরং মহিলারাও নির্দয়তার সাথে এতে শরীক হতো। একবার হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট একজন মহিলা এসে বললো, "আমি মানত মেনেছিলাম যে, নিজের শিশুকে কুরবানী করবো? তিনি জবাবে বললেন, কখনো এ কাজ করো না। মানতের কাফ্ফারা আদায় করে দিও।"-মুয়াত্তা ইমাম মালেক
অজ্ঞতা এবং নৃশংসতার এ প্রথা অতীতের স্মরণীয় ব্যাপারই নয় বরং এ উপমহাদেশের কিছু মানুষ বর্তমানেও অজ্ঞতার অন্ধকারে ঘুরপাক খাচ্ছে। কিছুদিন পূর্বে ওযারান নামক স্থানে ৯ বছরের একটি নিষ্পাপ কন্যাকে দেবীর নামে হত্যা করা হয়।
পবিত্র কুরআনেও তাদের নাদানী এবং যুলুমের চিত্র অংকন করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, তারা সরাসরি ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।
وَكَذلِكَ زَيَّنَ لِكَثِيرٍ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ قَتْلَ أَوْلَادِهِمْ شُرَكَاؤُهُمْ لِيُرْدُوهُمْ وَلِيَلْبِسُوا عَلَيْهِمْ دِيْنَهُمْ ، وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ
“এবং এমনিভাবে তাদের শরীকেরা বহুসংখ্যক মুশরিকদের জন্য তাদের নিজেদের সন্তানকে হত্যা করার কাজকে খুবই আকর্ষণীয় বানিয়ে দিয়েছে। যেন তারা তাদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিমজ্জিত করে এবং তাদের নিকট তাদের দীনকে সন্দেহপূর্ণ বানিয়ে দেয়।" -সূরা আল আনআম : ১৩৭
قد خَسِرَ الَّذِينَ قَتَلُوا أَوْلَادَهُمْ سَفَهَا بِغَيْرِ عِلْمٍ - الانعام : ١٤٠ "নিশ্চিতই ক্ষতির মধ্যে পড়েছে সেসব মানুষ যারা নিজেদের সন্তানদেরকে মূর্খতা ও অজ্ঞতার কারণে হত্যা করেছে।" -সূরা আল আনআম : ১৪০
কিছু কম বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ তার রুজীতে অংশ নিয়ে তাকে দারিদ্র্য ও দুশ্চিন্তায় নিক্ষেপ করবে এ ভয়ে নিজের প্রিয় সন্তানকে হত্যা করতো। এসব নাদানকে এ যুলুম থেকে বাধা দিয়ে বলা হয়েছে যে, তোমরা কি নিজেদের রুজী স্বয়ং তৈরি করো? যে আল্লাহ তোমাদেরকে রুজী দিয়ে থাকেন সে আল্লাহই তাদেরকে রুজী দেবেন। আল্লাহ যে প্রাণ দুনিয়ায় প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেন তার রুজীর সরঞ্জাম তার সাথেই প্রেরণ করেন। রিযিকের কোষাগারের চাবি শুধু আল্লাহর হাতেই থাকে।
وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ ، نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ ، إِنَّ قَتَلَهُمْ كَانَ خِطَّأً كَبِيرًا (بنی اسرائیل : ۳۱)
"দারিদ্রতার ভয়ে নিজের সন্তানকে হত্যা করো না। আমরা তাদেরকেও রিযিক দিই এবং তোমাদেরকেও। প্রকৃত ব্যাপার হলো সন্তান হত্যা করা মহাপাপ।" -সূরা বনী ইসরাঈল: ৩১
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ অপরাধকে সবচেয়ে বড় গুনাহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন:
عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الذَّنْبِ أَعْظَمُ عِندَ اللهِ قَالَ أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ قُلْتُ إِنَّ ذَالِكَ لَعَظِيمٌ قُلْتُ ثُمَّ أَيُّ قَالَ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ تَخَافُ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ قُلْتُ ثُمَّ أَيُّ قَالَ أَنْ تُزَانِي حَلِيلَةَ جَارك - صحيح بخاري كتاب التفسير
"হযরত আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বিন মাসউদ বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোন্টি? তিনি বললেন, তোমরা কাউকে আল্লাহর শরীক করো না, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, বাস্তবিকই এটা বড়ো গুনাহ এবং আমি জি জ্ঞেস করলাম, এরপর সবচেয়ে বড়ো গুনাহ কোন্টি? তিনি বললেন, তোমাদের রুজীতে অংশ নেবে এ ভয়ে নিজের শিশুকে তোমরা যদি হত্যা করো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোন্ গুনাহ? তিনি বললেন, প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে বদ কাজ করা।"
সন্তান হত্যার তৃতীয় পদ্ধতি অত্যন্ত ভয়াবহ এবং দুঃখজনক। এ পদ্ধতির কথা চিন্তা করলেই অন্তর কেঁপে উঠে। কিছু কঠোর হৃদয় এবং নিষ্ঠুর ব্যক্তির নিজের নিষ্পাপ প্রিয় কন্যাকে স্বহস্তে জীবিত দাফন করে দিতো। এ ভয়াবহ দৃশ্য এবং নিষ্পাপ পূতপবিত্র কন্যার আহ্! মূলক ফরিয়াদ তাদের উপর সামান্যতম প্রভাবও ফেলতো না। তাদের নিকট কন্যার অস্তিত্ব জিল্লতী এবং অমর্যাদার প্রতীক বলে বিবেচিত। যে মহিলা অন্যের স্ত্রী হবে, সে তাকে পিতা বলবে এটা ছিলো তাদের নিকট অকল্পনীয় অমর্যাদার ব্যাপার। তাদের নিকট এটাও ছিলো অত্যন্ত লজ্জাকর ব্যাপার যে, তাদের জামাই হবে এবং জামাইরা তাদেরকে শ্বশুর বলবে। বস্তুত তারা যখনই অবহিত হতো যে তাদের ঘরে কন্যা সন্তান জন্ম নিয়েছে তখনই দুশ্চিন্তায় তারা অস্থির হয়ে উঠতো। চেষ্টা করতো অবিলম্বে জিল্লতীর সে বস্তুর উপর কয়েক ডালি মাটি নিক্ষেপ করার। কারোর শ্বশুর এবং কন্যার স্বামী হওয়া তারা ভয়ানকভাবে অপসন্দ করতো। পবিত্র কুরআনে তাদের এ নিন্দনীয় চিন্তার চিত্র এভাবে অংকন করা হয়েছে :
وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنثى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًا وَهُوَ كَظِيمٌ يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَبِهِ ، أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُهُ فِي التُّرَابِ - -
“যখন তাদের কারো কন্যা সন্তান পয়দা হবার সুসংবাদ দেয়া হয় তখন তার মুখমণ্ডল কালিমা লিপ্ত হয়ে যায়। আর সে তখন শুধু ক্রোধের রক্ত পান করে থাকে। লোকদের নিকট থেকে মুখ লুকিয়ে ফিরে, এ খারাপ খবরের পর কেমন করে কাউকে মুখ দেখাব। সে চিন্তা করে যে, লাঞ্ছনা সহ্য করে কন্যাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে?”-সূরা আন নাহল : ৫৮-৫৯
আরবের কতিপয় গোত্র এবং ব্যক্তি এ নিষ্ঠুরতা ও কঠোর হৃদয়ের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলো। এ যালেমরা অসহায় ও নিষ্পাপ কন্যাদেরকে জীবিত দাফন করাকে অত্যন্ত কৃতিত্বের কাজ বলে মনে করতো। এ নির্দয়রা তাদের নিষ্ঠুরতার জন্য গৌরবও করতো। এক ব্যক্তি নবী করীম (স)-এর খিদমতে হাজির হয়ে নিজের কৃতিত্ব বর্ণনা করে বললো সে তো স্বহস্তে আটটি কন্যা জীবিত দাফন করেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00