📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 সন্তানের অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা

📄 সন্তানের অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা


"হযরত নুমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমার পিতা হযরত বশির রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হলেন এবং আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমি নুমানকে অমুক অমুক জিনিস দিয়ে দিয়েছি। একথার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তোমার সকল সন্তানকে এ ধরনের উপঢৌকন দিয়েছো? তিনি জবাবে বললেন, না। সবাইকে তো দেইনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে অন্য কাউকে সাক্ষী বানাও। অতপর তিনি বললেন, তুমি কি এটা পসন্দ করো না যে, সকল সন্তান তোমার সাথে একই ধরনের নেক আচরণ করুক। বশির রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাব দিলেন, কেন নয়। তিনি বললেন, তাহলে এ ধরনের করো না।"-আল আদাবুল মুফরাদ
এ হাদীসের এ অংশ বিশেষভাবে চিন্তা করার মতো। "তুমি কি এটা পসন্দ করো না যে, সকল সন্তান তোমার সাথে একই ধরনের নেক আচরণ করুক।” অর্থাৎ শিশু আপনার আচরণেই শিক্ষাগ্রহণ করে যে, মাতা-পিতার সাথে কি ধরনের আচরণ করতে হবে।
শিশুর চরিত্র ও চাল-চলন গঠনে মাতা-পিতা ছাড়া অন্যান্য কার্যকারণও সক্রিয় থাকে। শিক্ষা, পারিপার্শ্বিকতা, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থা এসবই নিজস্ব সীমায় ভাঙ্গা-গড়ার কাজে দায়িত্বশীল। কিন্তু এখানে শুধু মাতা-পিতার সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছে। সন্তানদের ব্যাপারে তাদের দায়িত্বাবলী কি এবং তাদের ব্যাপারে সন্তানদের কি কি অধিকার রয়েছে তা আলোচনা করা হবে।
প্রত্যেক মা'ই এটা চায় যে, তার সন্তান তার অন্তরের শান্তি এবং চক্ষু শীতলকারী হোক। দুনিয়া এবং আখিরাতে তার জন্য ইজ্জত ও আরামের মাধ্যম হোক। তার বংশ ও সমাজের জন্য কল্যাণকর হোক। আপনার এ আকাঙ্ক্ষা নিসন্দেহে মর্যাদা পাবার যোগ্য। কিন্তু কোনো আকাঙ্ক্ষাই শুধু দোয়ার মাধ্যমে পূরণ হয় না। আপনাদের দোয়া পবিত্র, আপনাদের আকাঙ্ক্ষাও পবিত্র; কিন্তু শুধু দোয়া ও আকাঙ্ক্ষা দিয়ে কোনো উদ্দেশ্য সফল হওয়া সম্ভব নয়। নিজের দোয়া ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সঠিকভাবে চেষ্টার হক আদায় না করলে তা কখনো সাফল্যের রূপ দেখবে না।
সন্তানের ভালো এবং উন্নত ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা কে না করে থাকে। কোনো মা এ আশা করে যে, তার সন্তান ভ্রষ্ট পথে চলুক? সন্তানের খারাপ কাজ এবং পথভ্রষ্টতায় কার না অন্তরে বাজে। সন্তান যদি লজ্জিত এবং ব্যর্থ হয় তাহলে কোন্ মা'র চক্ষু দিয়ে রক্তের অশ্রু প্রবাহিত না হয়। আর সন্তানের সার্থক ভবিষ্যত দেখে কোন্ মা খুশীতে বাগ বাগ না হয়। কিন্তু শুধু ভালো আবেগ-অনুভূতি দিয়েই উদ্দেশ্য সফল হতে পারে না। সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন হলো তাদেরকে অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়া এবং তাদের অধিকার আদায়ের পুরো চেষ্টা করা। আপনি নিজের দায়িত্ব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পালনের পরই সন্তানদেরকে অধিকার আদায়ের শিক্ষা দিতে পারেন। আপনি যদি তাদের অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণাই না রাখেন তাহলে আপনি তাদের অধিকার কিভাবে আদায় করবেন।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 সন্তানের অধিকার

📄 সন্তানের অধিকার


সন্তানের অধিকারসমূহ আদায়ে আপনাকে এজন্যও তৎপর হওয়া প্রয়োজন যে, এটা আপনার দীনি দায়িত্ব। তাদের অধিকারসমূহ আল্লাহ নির্ধারিত করে দিয়েছেন এবং একদিন তিনি এ ব্যাপারে আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইরশাদ হলো:
وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ زَوْجِهَا وَوَلَدِهُ فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ - متفق عليه
"এবং মহিলা নিজের স্বামীর ঘর ও তার সন্তানের রক্ষক। তোমরা সবাই (নিজ নিজ অবস্থা) অনুযায়ী রক্ষক এবং তোমাদের সকলের নিকটই তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে।"-বুখারী ও মুসলিম
নিসন্দেহে পিতাও নিজের সন্তানের রক্ষক এবং তাদের অধিকারসমূহের জিম্মাদার। কিন্তু এটা বাস্তব যে, মা'র দায়িত্ব কিছুটা বেশী। পিতা জীবিকার জন্যে দৌঁড়-ঝাপের কারণে বেশীর ভাগ সময় ঘরের বাইরে অবস্থান করে। গৃহে সবসময় মাতাই শিশুদের সাথে থাকেন এবং শিশুও মা'র প্রতি বেশী অনুরক্ত হয়। শিশুদের উপর খেয়াল দেয়ার জন্য প্রকৃতিগতভাবেই মা বেশী সময় এবং শিশুও মায়ের প্রভাব কিছুটা বেশী গ্রহণ করে।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 সন্তানের ৭টি অধিকার

📄 সন্তানের ৭টি অধিকার


আর এটাও বাস্তব যে, শিশুদের দায়িত্বাবলী সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পালন এবং তাদের অধিকারসমূহের হক আদায়ে যে উচ্চাঙ্গের নৈতিক চরিত্র ও গুণাবলীর প্রয়োজন তা আল্লাহ্‌ পাক নিজের হিকমতের অধীন পুরুষদের তুলনায় মহিলাদেরকেই কিছুটা বেশী দান করেছেন। ধৈর্য, ত্যাগ ও কুরবানী, দয়া ও নম্রতা এবং ভালোবাসার মৌলিক গুণাবলী পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের বেশী দান করা হয়েছে। আর এজন্যই তাদের উপর আল্লাহ্‌ পাক যেসব দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তা পালনের জন্য ঐসব গুণাবলীর বেশী প্রয়োজন।
এক: সন্তানের কদর ও মূল্য দুই: লালন-পালন তিন: সুন্দর আচরণ চার: ভালো নাম রাখা পাঁচ: স্নেহ ও ভালোবাসা ছয়: শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং সাতঃ বিয়ে।
সামনে আমরা এ সাত অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। সন্তানের জন্য অন্তর ভরা দোয়ার সাথে সাথে এসব অধিকারের প্রতি গভীর ধারণা এবং তা আদায়ের পূর্ণ ব্যবস্থাই আপনার সন্তান আপনার চক্ষুকে সুশীতল করতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00