📄 এক নজরে মাতা-পিতার সাথে ভালো আচরণের ফল
এক: আল্লাহর নেয়ামতসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো নেয়ামত হলো মাতা-পিতা, মানুষের জন্মগ্রহণ ও লালন-পালনে আল্লাহর পরেই মাতা-পিতার বড়ো অবদান। আপনি তাঁদের ইহসানের স্বীকৃতি জানালে আল্লাহর ইহসানের স্বীকৃতি জানালেন। আর তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকলে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকলেন।
দুই: মাতা-পিতাকে সন্তুষ্ট রাখুন-তাহলে আল্লাহ আপনার উপর সন্তুষ্ট থাকবেন। আপনার কোনো অবহেলা বা নাফরমানীর কারণে তাঁরা নাখোশ হলে আল্লাহ আপনার উপর নাখোশ হবেন। মাতা-পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি, মাতা-পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।
তিন: মাতা-পিতার সাথে ভালো আচরণ ও তাঁদের খিদমত করা জিহাদ করার সমতুল্য বরং কোনো কোনো সময় তার থেকেও বড়ো কাজ। আপনি তাদের খিদমতে রত থাকলে মুজাহীদিনের ন্যায় আপনিও দীন প্রতিষ্ঠাকারীদের দলে গণ্য হবেন। আল্লাহর দৃষ্টিতে ময়দানে জিহাদে অংশ গ্রহণকারীদের সমতুল্য মর্যাদার অধিকারী আপনিও।
চার: মাতা-পিতার সন্তুষ্টি বেহেশতের চাবিকাঠি। মাতা-পিতাকে সন্তুষ্ট করার কাজ করতে থাকলে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে।
পাঁচ: যাকে আল্লাহ তাআলা মাতা-পিতার খিদমত করার সুযোগ দিয়েছেন তাকে আসলে বেহেশতের পথে চলারই সুযোগ করে দিয়েছেন। যে এ সুযোগ কাজে লাগাবে তাকে আল্লাহ জান্নাত দেবেন। আর যে এ সুযোগ গ্রহণ করবে না সে ধ্বংস হবে।
ছয়: আল্লাহর ঘরের তাওয়াফ করা, হজ্জ ও ওমরা করা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। কেউ যদি মাতা-পিতার খিদমত করতে থাকে আল্লাহ তাকে হজ্জ ও ওমরাকারীর সমতুল্য সাওয়াব দেবেন।
সাত: আপনি আপনার মাতা-পিতার আদব ও সম্মান করলে আপনার সন্তানও আপনাকে সম্মান করবে। আপনি আপনার মাতা-পিতার ভালো করলে আল্লাহ তাআলা আপনার সন্তানদেরকেও সে শিক্ষাই দেবেন।
আট: মাতা-পিতার খিদমতে সমস্ত মসিবত ও দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে যায়।
নয়: মাতা-পিতার আনুগত্য, আদব ও সম্মান প্রদর্শন হতে কখনও দূরে থাকবেন না। এতে হায়াতে বরকত এবং রুজি-রোজগারের পথ প্রশস্ত হবে।
📄 কুরআনে সন্তানের ব্যয়ভার বহনের নির্দেশ
পবিত্র কুরআনে অবশ্য সন্তান প্রতিপালনের ব্যয় ভার বহনের নির্দেশ পরিষ্কার ভাষায় উল্লেখ নেই। কুরআনে একথা বলা হয়নি যে, "সন্তানের জন্য ব্যয় ভার বহন করো।" অথবা "সন্তানের ব্যয় ভার বহন ফরয।" আবার এর অর্থ এও নয় যে, সন্তানের জন্য ব্যয় ভার বহন করার নির্দেশ কুরআনে নেই এবং তার তাকিদ শুধু হাদীসেই এসেছে।
কুরআন প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত উঁচুস্তরের কালাম বা বাণী। হুকুম আহকাম এবং কানুন বর্ণনার ক্ষেত্রে এতে অত্যন্ত হাকিম সুলভ বর্ণনাভঙ্গী অবলম্বন করা হয়েছে। এ বর্ণনায় মানুষের প্রকৃতি, আবেগ এবং মনস্তাত্বিক দিকের প্রতি সম্পূর্ণরূপে দৃষ্টি রাখা হয়েছে।
সন্তান লালন-পালনে ব্যয় ভার বহন মানব সমাজে এমন একটি সুন্দর প্রাকৃতিক, স্বভাবজাত এবং প্রিয় কাজ যা কুরআন পাকে হুকুমের শিরোনামের বর্ণনার প্রয়োজনই অনুভব করেনি এবং সাথে সাথে অত্যন্ত হিকমতের সাথে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পিতা সন্তান প্রতিপালনের ব্যয় ভার বহনের জিম্মাদার।
উপরে বর্ণিত আয়াতে বলা হয়েছে, পিতা নিজের শিশুকে যে মহিলাকে দিয়েই দুধ পান করাতে চান না কেন সে মহিলাকে খাবার, কাপড় অথবা দুধের বিনিময় দানে বাধ্য থাকবে। যদি পিতা না থাকে তাহলে শিশুর যিনি অভিভাবক হবেন তার উপরই এ দায়িত্ব অর্পিত হবে। একজন অপরিচিত মহিলার ব্যয় ভার বহনের দায়িত্ব কুরআনে আপনার উপর এজন্যই অর্পণ করেছে যে, সে আপনার সন্তানকে দুধ পান করিয়েছে। একজন অপরিচিতি মহিলা যদি আপনার শিশুকে দুধ পান করায় তাহলে সুন্দরভাবে তার খরচ বহন করা আপনার দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। আর এটা এজন্য যে, সে আপনার সন্তানকে দুধ পান করিয়েছে। আপনার সন্তানকে দুধ পান করানোর জন্য একজন অপরিচিত মহিলার ব্যয় ভার বহনের দায়িত্ব যদি আপনার কাঁধে অর্পিত হয় তাহলে সন্তানের ব্যয় ভার বহনের দায়িত্ব আপনার উপর বর্তাবে না এটা কি করে সম্ভব? দুধ পান করানেওয়ালী মহিলাকে আপনি যা কিছু দেন তা আপনার শিশুর খাদ্য এবং সেবার বিনিময়ে তো দিয়ে থাকেন। এ বিনিময় দানের দায়িত্ব পিতার উপরই অর্পণ করে কুরআন এ তাৎপর্যই স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে যে, সন্তান প্রতি পালনের ব্যয় ভার বহনের একক জিম্মাদার হলো পিতা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের ভাষায় সে তাৎপর্যেরই বর্ণনা দিয়েছেন।