📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মা’র বদদোয়া

📄 মা’র বদদোয়া


মা'র সন্তুষ্টি ও তার মমতাপূর্ণ অন্তরের দোয়া দীন ও দুনিয়ার সবচেয়ে বড়ো সৌভাগ্য। পক্ষান্তরে দীন ও দুনিয়ার সবচেয়ে মারাত্মক জিল্লতী হলো সন্তানের প্রতি মাতার দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ের বদদোয়া।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "তিন ধরনের দোয়া এমন যা নিসন্দেহে কবুল হয়।
এক: মযলুমের দোয়া। দুই: মুসাফিরের দোয়া এবং তিন: সন্তানের জন্য মাতা-পিতার দোয়া।"
প্রথম যুগে জারিজ নামে একজন বুজর্গ ছিলেন। হযরত জারিজ রাহমাতুল্লাহ আলাই একজন নেককার ও ইবাদাত গুজার মানুষ ছিলেন। তিনি সবসময় শহর থেকে দূরে নিজের খানকাতে ইবাদাতে কাটাতেন। একজন রাখাল সারা দিন বকরী চরিয়ে তার খানকায় রাত কাটাতো।
একদিন হযরত জারিজ রাহমাতুল্লাহি আলাইর মাতা তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে এলেন। হযরত জারিজ রাহমাতুল্লাহি আলাই নামায পড়ছিলেন। মা তাকে ডেকে বললো, জারিজ! তিনি চুপ থেকে নামায পড়াই উত্তম মনে করলেন। দ্বিতীয় দিনও একই ঘটনা ঘটালো। মা এলেন এবং তাকে ডাকতে লাগলেন। তিনি একই ধরনের চিন্তা করে চুপ থেকে নামায পড়তে লাগলেন এবং মায়ের ডাকের জবাব দিলেন না। তৃতীয় দিন মা পুনরায় পুত্রের নিকট এলেন এবং ডাকতে লাগলেন। নামাযের মধ্যে কি করে জবাব দেয়া যায়। একথা ভেবে তিনি চুপ রইলেন। এ অবস্থা দেখে মা খুব দুঃখ পেলেন এবং ক্রোধান্বিত হয়ে বদদোয়া করলেন। তিনি আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করে বললেন, হে আল্লাহ! খারাপ মেয়েদের পাল্লায় না পড়া পর্যন্ত যেন জারিজের মৃত্যু না হয়।
একথা বলে নিরাশ হয়ে মা সেখান থেকে চলে গেলেন। কিছুদিন পরই একদিন বনী ইসরাঈলের লোকজন হযরত জারিজের নেক কাজ ও ইবাদাতের কথা আলোচনা করছিলো। এমন সময় সেখানকার এক অনিন্দ্য সুন্দরী মহিলা বলে উঠলো, "তোমরা যদি বলো তাহলে তাকে পাপে ফঁসিয়ে দিই!" এরপর সে মহিলা হযরত জারিজের খানকায় উপস্থিত হলো এবং অপকর্মের প্রতি আহ্বান জানাতে লাগলো। আল্লাহ পাক হযরত জারিজের উপর রহমাত নাযিল করলেন এবং তিনি সে বদকার মহিলার ষড়যন্ত্র থেকে পরিষ্কার পরিত্রাণ পেয়ে গেলেন। তাঁর থেকে নিরাশ হয়ে মহিলাটি হযরত জারিজের খানকায় অবস্থানরত রাখালের নিকট গেলো। রাখালটি ষড়যন্ত্রের শিকার হলো এবং নিজের মুখে কালিমা লেপন করে বসলো। অতপর যখন সে মহিলার বাচ্চা হলো তখন সে প্রচার করলো যে, এতো জারিজের পুত্র। এ খবর যখন বাদশাহর নিকট পৌঁছলো তখন সে খানকাহ ভেঙ্গে ফেলার এবং তাকে তার কাছে ধরে আনার নির্দেশ দিলো।
লোকজন হযরত জারিজের খানকাতে উপস্থিত হয়ে তা ভেঙ্গে ফেললো এবং তাঁকে বেদম প্রহার করলো। অতপর পিঠমোড়া দিয়ে বেঁধে তাঁকে বাদশাহর নিকট নিয়ে এলো। যখন পিঠমোড়া দিয়ে বাঁধা অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন রাস্তায় কতিপয় বদকার মহিলা তাকে এ অবস্থায় দেখে হাসতে লাগলো। তাদের হাসতে দেখে হযরত জারিজও মুচকি হাসি দিলেন।
বাদশাহ হযরত জারিজকে বললো, এ মহিলা কি বলে? তিনি বললেন, বলুন কি বলে। বাদশাহ বললো, সে বলে শিশুটি জারিজের। জারিজ রাহামাতুল্লাহি আলাই বললেন, শিশুটিকে আনা হোক। শিশুটিকে উপস্থিত করা হলে তিনি বললেন, তাকে নামায পড়ার সুযোগ দেয়া হোক। তিনি নামায পড়লেন। নামায থেকে যখন ফারেগ হলেন, তখন তিনি নিজে আঙ্গুল শিশুর পেটে মেরে বললেন, বল তোর বাপ কে? আল্লাহর নির্দেশে শিশুটির জবান খুলে গেলো এবং সে বললো, অমুক রাখাল আমার বাপ। অতপর লোকজন হযরত জারিজের হাত ও পায়ে চুমু দেয়া শুরু করলো। তাঁর নিকট ক্ষমা চাইতে লাগলো। বাদশাহও অত্যন্ত প্রভাবিত হলো এবং সে হযরত জারিজকে বললো, হযরত আপনার খানকা কি স্বর্ণ দিয়ে বানিয়ে দেবো? তিনি বললেন, না। তবে, যেভাবে মাটির ছিলো, সেভাবেই বানিয়ে দিন।
বাদশাহ বললো, আচ্ছা হযরত একটি কথা কি বলবেন! রাস্তায় যখন কিছু বদকার মহিলা আপনার প্রতি বিদ্রূপাত্মক হাসি হাসছিলো তখন আপনি মুচকি হাসি হাসছিলেন কেন? তিনি বললেন, এটা এমন একটি গোপন কথা যা শুধু আমিই জানি। যা কিছু ঘটেছে তা সবই আমার মায়ের বদদোয়ার প্রতিফল। মার বদদোয়া লেগেছে আমার এবং তিনি মার বদদোয়ার পুরো কাহিনী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করলেন।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মা’র নাফরমানীর শিক্ষণীয় শাস্তি

📄 মা’র নাফরমানীর শিক্ষণীয় শাস্তি


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে একটি ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা শুনলে মুখ দিয়ে কলিজা বের হয়ে আসে। কতিপয় সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি এসে বলতে লাগলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! একজন যুবকের মুমূর্ষ অবস্থা। লোকজন তাকে কালেমায়ে শাহাদাত পড়ার উপদেশ দিচ্ছে। অথচ তার মুখই খুলছে না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যক্তি কি নামায পড়তো? সে বললো, জ্বী হাঁ। নামায পড়তো। একথা শুনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠলেন এবং তার সাথে চললেন। আমরাও পিছু পিছু চললাম। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে যুবকের নিকট পৌঁছলেন। তখন মৃত্যু পূর্ববর্তী অবস্থা। তিনি তাকে কালেমা পড়ার তালকিন দিলেন। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমিতো বলতে পারি না। তিনি বললেন, কেন? কি ঘটনা? জানা গেলো সে মাতার নাফরমানী করে থাকে। তিনি লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তার মা কি জীবিত আছেন? সবাই বললো, জ্বী হাঁ। জীবিত আছেন। প্রিয় নবী তার মা'কে ডেকে আনার নির্দেশ দিলেন। যখন তার বৃদ্ধা মাতা এলেন তখন তিনি তাঁকে বললেন, বড় বিবি! একি তোমার পুত্র? সে বললো, জ্বী হাঁ, আমারই পুত্র। তিনি বললেন, বড় বিবি। এটা বলো, যদি এক ভয়ংকর আগুন প্রজ্জ্বলন করা হয় এবং তোমাকে বলা হয় যে যদি সুপারিশ করো তাহলে সে পরিত্রাণ পায়। নচেৎ তাতে সে নিক্ষিপ্ত হয়। এ অবস্থায় কি তুমি সুপারিশ করবে? বৃদ্ধা বললো, জ্বী হাঁ। সে সময় তো আমি অবশ্যই সুপারিশ করবো। একথা শুনে রহমতের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি আল্লাহ ও আমাকে সাক্ষী রেখে বলো যে, তুমি তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে গেছো।
বৃদ্ধা বললেন, হে আল্লাহ! আমি তোমাকে এবং তোমার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি আমার কলিজার টুকরার প্রতি রাজী হয়ে গেছি।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে যুবকের দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে বললেন, বলো, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।" মাতার সন্তুষ্টির বরকতে যুবকের মুখ খুলে গেলো এবং সে তৎক্ষণাৎ কালেমা পড়লো। এ অবস্থা দেখে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং বললেন, আল্লাহর শোকর যে, তিনি আমার অসিলায় এ নওজোয়ানকে জাহান্নামের ভয়ংকর আযাব থেকে নাজাত দিয়েছেন। -তিবরানী, আহমদ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00