📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসীয়ত
হযরত মায়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন জালিলুল কদর সাহাবী ছিলেন। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, মায়াজ যদি না হতো তাহলে আমি অবধারিতভাবে ধ্বংস হয়ে যেতাম। তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক ওসীয়ত করেছেন। একবার তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ওসীয়ত করেছেন, "আল্লাহর সাথে কখনো কাউকে শরীক করবে না। যদি তোমাকে হত্যাও করা হয় এবং আগুন দিয়ে জ্বালিয়েও দেয়া হয় এবং কখনো মাতা-পিতার নাফরমানী করা উচিত নয় যদি তারা নিজের সম্পদ এবং পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকার নির্দেশও দেয়।”
হযরত মায়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন জালিলুল কদর সাহাবী ছিলেন। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, মায়াজ যদি না হতো তাহলে আমি অবধারিতভাবে ধ্বংস হয়ে যেতাম। তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক ওসীয়ত করেছেন। একবার তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ওসীয়ত করেছেন, "আল্লাহর সাথে কখনো কাউকে শরীক করবে না। যদি তোমাকে হত্যাও করা হয় এবং আগুন দিয়ে জ্বালিয়েও দেয়া হয় এবং কখনো মাতা-পিতার নাফরমানী করা উচিত নয় যদি তারা নিজের সম্পদ এবং পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকার নির্দেশও দেয়।”
📄 মাতা-পিতাকে কাঁদানো
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত উঁচু মর্যাদার সাহাবী ছিলেন। তিনি একজন জবরদস্ত আলেম, আবেদ এবং যাহেদ ছিলেন। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সুন্নাতের অত্যন্ত পাবন্দ ছিলেন। ৬০ বছর ধরে তিনি ফতওয়া দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, মাতা-পিতাকে কাঁদানোর অর্থ হলো তাদের নাফরমানী করা এবং এ কাজ জবরদস্ত গুনাহর কাজ।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত উঁচু মর্যাদার সাহাবী ছিলেন। তিনি একজন জবরদস্ত আলেম, আবেদ এবং যাহেদ ছিলেন। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সুন্নাতের অত্যন্ত পাবন্দ ছিলেন। ৬০ বছর ধরে তিনি ফতওয়া দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, মাতা-পিতাকে কাঁদানোর অর্থ হলো তাদের নাফরমানী করা এবং এ কাজ জবরদস্ত গুনাহর কাজ।
📄 মাতা-পিতাকে গালমন্দ দেয়া
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِ بنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مِنَ الكَبَائِرِ شَتْمُ الرَّجُلِ وَالِدَيْهِ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ! وَهَلْ يَشْتِمُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ ؟ قَالَ نَعَمْ يَسُبُّ أَبَا الرَّجُلِ فَيَسُبُّ آبَاهُ وَيَسُبُّ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّه - বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও র্আি
"হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরমিয়েছেন, মাতা-পিতার প্রতি গালি দান বড়ো গুনাহর অন্তর্ভুক্ত। লোকজন (আশ্চর্য হয়ে) জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ভালো, কেউ কি নিজের মাতা-পিতাকে গালিও দেয়। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, জ্বী হাঁ। মানুষ অন্যের মাতা-পিতাকে গালি দেয়। তাহলে (ফিরে) তার মাতা-পিতাকে গালি দিয়ে দেয়। সে অন্যের মা'কে খারাপ নামে স্মরণ করে। তাহলে সে তার মা'কে গাল-মন্দ করে।
এ হাদীস থেকে এ শিক্ষা পাওয়া যায় যে, মাতা-পিতার মান-ইজ্জতের প্রতি আবশ্যিকভাবে নজর দিতে হবে। তারা যাতে কোনো ধরনের কষ্ট না পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু তাই নয়, অন্যের মাতা-পিতার প্রতিও এমন উক্তি করা যাবে না যাতে সে উত্তেজিত হয়ে আপনার মাতা-পিতাকে এক হাত নিয়ে বসে।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِ بنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مِنَ الكَبَائِرِ شَتْمُ الرَّجُلِ وَالِدَيْهِ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ! وَهَلْ يَشْتِمُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ ؟ قَالَ نَعَمْ يَسُبُّ أَبَا الرَّجُلِ فَيَسُبُّ آبَاهُ وَيَسُبُّ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّه - বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও র্আি
"হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরমিয়েছেন, মাতা-পিতার প্রতি গালি দান বড়ো গুনাহর অন্তর্ভুক্ত। লোকজন (আশ্চর্য হয়ে) জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ভালো, কেউ কি নিজের মাতা-পিতাকে গালিও দেয়। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, জ্বী হাঁ। মানুষ অন্যের মাতা-পিতাকে গালি দেয়। তাহলে (ফিরে) তার মাতা-পিতাকে গালি দিয়ে দেয়। সে অন্যের মা'কে খারাপ নামে স্মরণ করে। তাহলে সে তার মা'কে গাল-মন্দ করে।
এ হাদীস থেকে এ শিক্ষা পাওয়া যায় যে, মাতা-পিতার মান-ইজ্জতের প্রতি আবশ্যিকভাবে নজর দিতে হবে। তারা যাতে কোনো ধরনের কষ্ট না পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু তাই নয়, অন্যের মাতা-পিতার প্রতিও এমন উক্তি করা যাবে না যাতে সে উত্তেজিত হয়ে আপনার মাতা-পিতাকে এক হাত নিয়ে বসে।
📄 অভিশাপ দেয়া
"হযরত আবু তোফায়েল বলেন, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি আপনাকে এমন কোনো কথা বলেছিলেন, যা অন্য কাউকে বলেননি? তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো আমাকে এমন কোনো কথা বলেননি যা অন্যকে বলেননি। হ্যাঁ আমার তরবারীর খাপে একটি লিখিত বাণী আছে। অতপর তিনি তরবারীর খাপ থেকে সে বাণী বের করলেন। তাতে লিখা ছিলো, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করে তার উপর আল্লাহর লানত বা অভিশাপ। যে জমির সীমা বদলে দেয় তার উপর আল্লাহর লানত। যে নিজের মাতা-পিতার উপর অভিশাপ দেয় তার উপর আল্লাহর লানত এবং যে দীনের ব্যাপারে কোনো নতুন কথা সৃষ্টি করে তার উপরে আল্লাহর লানত।” মাতা-পিতাকে অভিসম্পাত করা এবং গালমন্দ দেয়া এমন জঘন্যতম খারাপ কাজ যা চিন্তা করা যায় না কিন্তু দুনিয়ার এ কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে। ক্রোধ, প্রতিশোধস্পৃহা, অজ্ঞতা এবং নাদানীর কারণে অনেক সময় মানুষ এমন সব কাজ করে বসে যা সাধারণ অবস্থায় ধারণা করাও দুরূহ ব্যাপার।
মাতা-পিতাও তো মানুষ। তারাও মানবীয় দুর্বলতা থেকে পবিত্র নয়। তাদের মধ্যেও ঘৃণা, ভালোবাসা, ক্রোধ, প্রতিশোধস্পৃহা অন্যান্য দুর্বলতা বিদ্যমান। মানবীয় দুর্বলতার কারণে কোনো সময় তারাও এমন কথা বলে বসতে পারেন অথবা এমন আচরণ করে ফেলতে পারেন যা তাদের নিকট থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত। এতে উত্তেজিত হওয়া যাবে না। তাদের অধিকার সম্পর্কে চোখ বুজে থাকা যাবে না। মাতা-পিতা এমন দু ব্যক্তিত্ব যারা সন্তানের লালন-পালন ও আরাম প্রদানের জন্য নিজের সমগ্র জীবন বিলিয়ে দেন। তারা যে ধরনের আচরণই করুন না কেন, তাদের সম্পর্কে কিছু বলা শোভনীয় নয়। তাদের গালমন্দ করা এবং সকল ইহসান ভুলে যাওয়াও উচিত নয়।
নিসন্দেহে মাতা-পিতাও কোনো সময় সন্তানের হক আদায়ে কমতি এবং নিজেদের অবাঞ্ছিত আচরণের মাধ্যমে সন্তানদেরকে নাফরমানী ও বিদ্রোহের পথে ঠেলে দিতে পারেন। বিশেষ করে, যখন পিতা দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং সন্তানদেরকে সৎ মা বা বিমাতার সাথে জীবন কাটাতে হয় তখন এ সকল ঘটনা ঘটে থাকে। বিভিন্ন ধরনের দুঃখজনক ঘটনার উদ্ভব হয়। সৎ মা সাধারণত বিভিন্নভাবে পিতাকে সন্তানদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেন এবং তার আন্তরিক কামনাই হয়ে দাঁড়ায় যে পিতা যেন সন্তানদের সম্পর্কে বিগড়ে যান। সাধারণত পিতাও নতুন স্ত্রীর কিছুটা মনোতুষ্টির জন্য এবং বারবার তার বলার জন্য নিজের সন্তানদের সাথে সৎ সন্তানের মতো আচরণ করতে থাকে। এমনিভাবে মা যদি দ্বিতীয় বিয়ে করে এবং সন্তানরা সৎ পিতার পাল্লায় পড়ে তাহলে সাধারণত সৎ পিতা আগের সন্তানদের সাথে ভালো আচরণ কোনোক্রমেই বরদাশত করতে পারে না এতোদূর না হলেও অন্তত সে চায় যে, পূর্বেকার সন্তানদের চেয়ে সে যেন নিজের সন্তানদেরকে বেশী ভালোবাসে। মাও কিছুটা স্বামীকে খুশীর জন্য এবং অনেকটা তার ইচ্ছার বলি হয়ে অনেক সময় খারাপ ব্যবহার করে থাকে। অথচ মা'র মতো ব্যক্তিত্বের নিকট থেকে এটা অবশ্যই আশা করা যায় না। ইনসাফের দৃষ্টিকোণ থেকে এ অবস্থায় সামান্যতম হলেও মাতা-পিতা অপরাধী বলে সাব্যস্ত হয়। এহেন পরিস্থিতিতে খান্দান এবং সমাজের দায়িত্ব রয়েছে। তাদের কর্তব্য হলো এ ধরনের মাতা-পিতার প্রতি লাগাম টানা। তাদেরকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং সামাজিক চাপের মাধ্যমে সন্তানদের সাথে সন্তানের মতো আচরণে বাধ্য করা। কিন্তু সম্পর্কের কারণে সন্তানদেরকে সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধারণ করতে হবে। মাতা-পিতার ইজ্জত-আবরুর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে এবং এমন কথা মুখ দিয়ে বের করা যাবে না যা মায়ের ইজ্জতের পরিপন্থী হয়। সর্বাবস্থায় সন্তানের কর্তব্য হলো, যথাসম্ভব কৃতজ্ঞতা, আনুগত্য এবং সুন্দর আচরণের প্রমাণ দেয়া। জনৈক কবি কি সুন্দরই না বলেছেন :
"পিতা যে নির্দেশই দিন না কেন তা মানো, নিশ্চিত জেনো যে, পিতার আনুগত্যকারী কখনো অপমানিত হয় না।”
"হযরত আবু তোফায়েল বলেন, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি আপনাকে এমন কোনো কথা বলেছিলেন, যা অন্য কাউকে বলেননি? তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো আমাকে এমন কোনো কথা বলেননি যা অন্যকে বলেননি। হ্যাঁ আমার তরবারীর খাপে একটি লিখিত বাণী আছে। অতপর তিনি তরবারীর খাপ থেকে সে বাণী বের করলেন। তাতে লিখা ছিলো, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করে তার উপর আল্লাহর লানত বা অভিশাপ। যে জমির সীমা বদলে দেয় তার উপর আল্লাহর লানত। যে নিজের মাতা-পিতার উপর অভিশাপ দেয় তার উপর আল্লাহর লানত এবং যে দীনের ব্যাপারে কোনো নতুন কথা সৃষ্টি করে তার উপরে আল্লাহর লানত।” মাতা-পিতাকে অভিসম্পাত করা এবং গালমন্দ দেয়া এমন জঘন্যতম খারাপ কাজ যা চিন্তা করা যায় না কিন্তু দুনিয়ার এ কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে। ক্রোধ, প্রতিশোধস্পৃহা, অজ্ঞতা এবং নাদানীর কারণে অনেক সময় মানুষ এমন সব কাজ করে বসে যা সাধারণ অবস্থায় ধারণা করাও দুরূহ ব্যাপার।
মাতা-পিতাও তো মানুষ। তারাও মানবীয় দুর্বলতা থেকে পবিত্র নয়। তাদের মধ্যেও ঘৃণা, ভালোবাসা, ক্রোধ, প্রতিশোধস্পৃহা অন্যান্য দুর্বলতা বিদ্যমান। মানবীয় দুর্বলতার কারণে কোনো সময় তারাও এমন কথা বলে বসতে পারেন অথবা এমন আচরণ করে ফেলতে পারেন যা তাদের নিকট থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত। এতে উত্তেজিত হওয়া যাবে না। তাদের অধিকার সম্পর্কে চোখ বুজে থাকা যাবে না। মাতা-পিতা এমন দু ব্যক্তিত্ব যারা সন্তানের লালন-পালন ও আরাম প্রদানের জন্য নিজের সমগ্র জীবন বিলিয়ে দেন। তারা যে ধরনের আচরণই করুন না কেন, তাদের সম্পর্কে কিছু বলা শোভনীয় নয়। তাদের গালমন্দ করা এবং সকল ইহসান ভুলে যাওয়াও উচিত নয়।
নিসন্দেহে মাতা-পিতাও কোনো সময় সন্তানের হক আদায়ে কমতি এবং নিজেদের অবাঞ্ছিত আচরণের মাধ্যমে সন্তানদেরকে নাফরমানী ও বিদ্রোহের পথে ঠেলে দিতে পারেন। বিশেষ করে, যখন পিতা দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং সন্তানদেরকে সৎ মা বা বিমাতার সাথে জীবন কাটাতে হয় তখন এ সকল ঘটনা ঘটে থাকে। বিভিন্ন ধরনের দুঃখজনক ঘটনার উদ্ভব হয়। সৎ মা সাধারণত বিভিন্নভাবে পিতাকে সন্তানদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করার চেষ্টা করেন এবং তার আন্তরিক কামনাই হয়ে দাঁড়ায় যে পিতা যেন সন্তানদের সম্পর্কে বিগড়ে যান। সাধারণত পিতাও নতুন স্ত্রীর কিছুটা মনোতুষ্টির জন্য এবং বারবার তার বলার জন্য নিজের সন্তানদের সাথে সৎ সন্তানের মতো আচরণ করতে থাকে। এমনিভাবে মা যদি দ্বিতীয় বিয়ে করে এবং সন্তানরা সৎ পিতার পাল্লায় পড়ে তাহলে সাধারণত সৎ পিতা আগের সন্তানদের সাথে ভালো আচরণ কোনোক্রমেই বরদাশত করতে পারে না এতোদূর না হলেও অন্তত সে চায় যে, পূর্বেকার সন্তানদের চেয়ে সে যেন নিজের সন্তানদেরকে বেশী ভালোবাসে। মাও কিছুটা স্বামীকে খুশীর জন্য এবং অনেকটা তার ইচ্ছার বলি হয়ে অনেক সময় খারাপ ব্যবহার করে থাকে। অথচ মা'র মতো ব্যক্তিত্বের নিকট থেকে এটা অবশ্যই আশা করা যায় না। ইনসাফের দৃষ্টিকোণ থেকে এ অবস্থায় সামান্যতম হলেও মাতা-পিতা অপরাধী বলে সাব্যস্ত হয়। এহেন পরিস্থিতিতে খান্দান এবং সমাজের দায়িত্ব রয়েছে। তাদের কর্তব্য হলো এ ধরনের মাতা-পিতার প্রতি লাগام টানা। তাদেরকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং সামাজিক চাপের মাধ্যমে সন্তানদের সাথে সন্তানের মতো আচরণে বাধ্য করা। কিন্তু সম্পর্কের কারণে সন্তানদেরকে সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধারণ করতে হবে। মাতা-পিতার ইজ্জত-আবরুর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে এবং এমন কথা মুখ দিয়ে বের করা যাবে না যা মায়ের ইজ্জতের পরিপন্থী হয়। সর্বাবস্থায় সন্তানের কর্তব্য হলো, যথাসম্ভব কৃতজ্ঞতা, আনুগত্য এবং সুন্দর আচরণের প্রমাণ দেয়া। জনৈক কবি কি সুন্দরই না বলেছেন :
"পিতা যে নির্দেশই দিন না কেন তা মানো, নিশ্চিত জেনো যে, পিতার আনুগত্যকারী কখনো অপমানিত হয় না।”