📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মাতার প্রতি আদব প্রদর্শন

📄 মাতার প্রতি আদব প্রদর্শন


হযরত মুহাম্মদ ইবনে শিরীন রাহমাতুল্লাহ আলাই একজন মশহুর তাবেয়ী। তাঁকে ফিকাহ ও হাদীসের ইমাম হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর মাতা হিজাজের অধিবাসী ছিলেন। তিনি মাতার আদব ও সম্মান এবং ইচ্ছার প্রতি খুব খেয়াল রাখতেন। যখন মায়ের জন্য কাপড় কিনতেন তখন নরম ও সৌন্দর্যের প্রতি দৃষ্টি রাখতেন। ঈদের জন্য নিজের হাতে মায়ের কাপড় রং করতেন। মায়ের প্রতি এতো ভক্তি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন যে, কখনো মায়ের সামনে উঁচু গলায় কথা বলতেন না। মায়ের সাথে এমনভাবে কথা বলতেন যেন কোনো গোপন কথা বলছেন।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মাতার খিদমত

📄 মাতার খিদমত


হযরত ওয়ায়েস কুরনী রাহমাতুল্লাহ আলাই অত্যন্ত মশহুর বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁকে উত্তম তাবেয়ী উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তিনি হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন, "উত্তম তাবেয়ীন কুরন গোত্রের একজন মানুষ। তার নাম ওয়ায়েস। তার একজন বৃদ্ধা মা আছেন। যখন সে কসম খায় তখন তা পূরণ করে। যদি তাঁর কাছ থেকে মাগফিরাতের দোয়া নিতে পার তাহলে অবশ্যই নেবে।"
হযরত ওয়ায়েস রাহমাতুল্লাহ আলাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগেরই মানুষ ছিলেন। কিন্তু তার সাথে তিনি মুলাকাত করতে পারেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিদার বা দর্শন লাভ থেকে নিজের চক্ষুকে আলোকিত করার চেয়ে একজন মুমিনের বড় বাসনা আর কি হতে পারে! কিন্তু বৃদ্ধা মাতা থাকা এবং তাঁকে একাকী রেখে না যাওয়ার ইচ্ছার কারণে হযরত ওয়ায়েস রাহমাতুল্লাহ আলাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাজির হতে পারেননি। তিনি দিন-রাত তাঁর খিদমতেই লেগে থাকতেন। হজ্জ আদায়ের বড় সাধ ছিলো। কিন্তু যতদিন তাঁর মাতা জীবিত ছিলেন ততদিন তাঁকে একাকী রেখে হজ্জ আদায় করতে যেতে পারেননি। তাঁর ওফাতের পরই তিনি এ সাধ পূরণ করেন।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মাতার সাথে আচরণ

📄 মাতার সাথে আচরণ


হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এক ব্যক্তি এসে বললো, "হযরত! আমি একস্থানে বিয়ের পয়গাম পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু কনে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। অপর এক ব্যক্তি তার নিকট পয়গাম প্রেরণ করলে সে তা গ্রহণ করে। এটা মর্যাদা হানিকর ব্যাপার মনে করে এবং আবেগ তাড়িত হয়ে আমি সেই মাহিলাকে হত্যা করি। হযরত! বলুন, এখনো কি আমার জন্য তাওবার কোনো পথ আছে? হযরত আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "বলো তোমার মা কি জীবিত আছেন?” সে বললো, "হযরত! মা তো ইন্তেকাল করেছেন।" তিনি বললেন, "যাও, সত্য অন্তরে তাওবা করো এবং এমন কাজ করো যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারো।"
হযরত যায়েদ বিন আসলাম হযরত আবদুল্লাহর নিকট এলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, আপনি সেই ব্যক্তির নিকট তার মা জীবিত আছেন কিনা— একথা কেন জিজ্ঞেস করেছেন? হযরত আবদুল্লাহ বললেন, আল্লাহর নৈকট্য এবং সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মাতার সাথে সুন্দর আচরণের চেয়ে বড়ো আমল আমার জানা নেই।
এ ধরনের একটি ঘটনা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগেই ঘটেছিলো। এক ব্যক্তি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি বড় গুনাহ করে বসেছি। হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য তাওবার কি কোনো পথ খোলা আছে? রহমাতে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "তোমার মাতা কি জীবিত আছেন?” সে ব্যক্তি বললো, হুজুর! মাতা তো জীবিত নেই। অতপর তিনি বললেন, আচ্ছা তোমার খালা কি বেঁচে আছেন? সে বললো, জ্বী, বেঁচে আছেন। তিনি বললেন, খালার সাথে সুন্দর আচরণ করো।"
এসব ঘটনা থেকে মাতার শ্রেষ্ঠত্ব এবং খিদমতের দীনি গুরুত্বের আন্দাজ করা যায়। মানুষ যদি বড়ো গুনাহও করে তাহলে তার শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ হিসেবে মাতার সাথে সুন্দর আচরণের কথা রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। আর এটা আল্লাহর চূড়ান্ত রহমাত যে, মা যদি ইন্তেকাল করে থাকেন তাহলে মায়ের বোনের সাথে সুন্দর আচরণ করে মানুষ নিজের পরকাল তৈরী করতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00