📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মাতার মমতার প্রতি খেয়াল রাখা

📄 মাতার মমতার প্রতি খেয়াল রাখা


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে একজন সাহাবী কোনো কথার কারণে নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেন এবং শিশু সন্তানকে তার কাছ থেকে নিয়ে নিতে চাইলেন। মায়ের অবস্থা হয়ে দাঁড়ালো নাজুক। একদিকে স্বামীর নিকট থেকে বিচ্ছিন্নতার দুঃখ, অন্যদিকে কলিজার টুকরা এবং দুশ্চিন্তা হরণকারী সন্তানও ছিনিয়ে নেয়ার মতো অবস্থা। দুঃখ ভারাক্রান্ত ও পেরেশান মনে সে রহমতে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাজির হলো এবং নিজের সমগ্র দুঃখপূর্ণ কাহিনী অত্যন্ত দরদপূর্ণ ভাষায় ব্যক্ত করলো। সে বললো:
“হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্বামী আমাকে তালাক দিয়েছেন। এভাবে আমি তার অভিভাবকত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছি। হে আল্লাহর রাসূল! এখন তিনি আমার নিকট থেকে এ শিশু সন্তানও ছিনিয়ে নিতে চান। হে আল্লাহর রাসূল! হে রহমতে আলম! এটা আমার আদরের সন্তান। আমার গর্ভ তার আরামস্থল। আমার বুকের ছাতি তার পানের মশক এবং আমার কোল তার ঘরসদৃশ। সে আমার আরামের আধার। সে আমার জন্য কূপ থেকে পানি আনে। হে আল্লাহর রাসূল! আমি এ দুঃখ কি করে বরদাশত করবো।"
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, লটারী করে নাও। পিতা অগ্রসর হয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এটাতো আমার বাচ্চা। আমার সন্তানের দাবীদার আর কে হতে পারে! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশু ছেলেটিকে সম্বোধন করে বললেন, ইনি তোমার পিতা এবং ইনি তোমার মাতা। বেটা! যাকে ইচ্ছা তার হাত ধর। ছেলেটা মায়ের হাত ধরলো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছেলেটির মাকে বললেন, যাও। যতদিন তোমার দ্বিতীয় বিয়ে না হবে ততদিন কেউ তাকে তোমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মাতার আদেশের প্রতি খেয়াল রাখা

📄 মাতার আদেশের প্রতি খেয়াল রাখা


হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনকালে খেজুরের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিলো। একদিন মানুষজন দেখলো যে, হযরত উসামাহ ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু খেজুরের গাছ কেটে মাথি বের করছেন। এতে সকলেই আশ্চর্যান্বিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো : হযরত! এ আক্রার বাজারে আপনি এভাবে খেজুরের গাছটি নষ্ট করছেন। আজকালতো খেজুরের গাছ অত্যন্ত মূল্যবান বস্তু। তিনি বললেন, "ভাইসব! তোমাদেরকে কি বলবো। আমার মা আমাকে খেজুর গাছের মাথি নেয়ার আদেশ করেছেন। মায়ের আদেশ কি কখনো অবজ্ঞা করা যায়?"

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মাতার প্রতি আদব প্রদর্শন

📄 মাতার প্রতি আদব প্রদর্শন


হযরত মুহাম্মদ ইবনে শিরীন রাহমাতুল্লাহ আলাই একজন মশহুর তাবেয়ী। তাঁকে ফিকাহ ও হাদীসের ইমাম হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর মাতা হিজাজের অধিবাসী ছিলেন। তিনি মাতার আদব ও সম্মান এবং ইচ্ছার প্রতি খুব খেয়াল রাখতেন। যখন মায়ের জন্য কাপড় কিনতেন তখন নরম ও সৌন্দর্যের প্রতি দৃষ্টি রাখতেন। ঈদের জন্য নিজের হাতে মায়ের কাপড় রং করতেন। মায়ের প্রতি এতো ভক্তি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন যে, কখনো মায়ের সামনে উঁচু গলায় কথা বলতেন না। মায়ের সাথে এমনভাবে কথা বলতেন যেন কোনো গোপন কথা বলছেন।

📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 মাতার খিদমত

📄 মাতার খিদমত


হযরত ওয়ায়েস কুরনী রাহমাতুল্লাহ আলাই অত্যন্ত মশহুর বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁকে উত্তম তাবেয়ী উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তিনি হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন, "উত্তম তাবেয়ীন কুরন গোত্রের একজন মানুষ। তার নাম ওয়ায়েস। তার একজন বৃদ্ধা মা আছেন। যখন সে কসম খায় তখন তা পূরণ করে। যদি তাঁর কাছ থেকে মাগফিরাতের দোয়া নিতে পার তাহলে অবশ্যই নেবে।"
হযরত ওয়ায়েস রাহমাতুল্লাহ আলাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগেরই মানুষ ছিলেন। কিন্তু তার সাথে তিনি মুলাকাত করতে পারেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিদার বা দর্শন লাভ থেকে নিজের চক্ষুকে আলোকিত করার চেয়ে একজন মুমিনের বড় বাসনা আর কি হতে পারে! কিন্তু বৃদ্ধা মাতা থাকা এবং তাঁকে একাকী রেখে না যাওয়ার ইচ্ছার কারণে হযরত ওয়ায়েস রাহমাতুল্লাহ আলাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাজির হতে পারেননি। তিনি দিন-রাত তাঁর খিদমতেই লেগে থাকতেন। হজ্জ আদায়ের বড় সাধ ছিলো। কিন্তু যতদিন তাঁর মাতা জীবিত ছিলেন ততদিন তাঁকে একাকী রেখে হজ্জ আদায় করতে যেতে পারেননি। তাঁর ওফাতের পরই তিনি এ সাধ পূরণ করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00