📄 মাতা-পিতার জন্য দোয়া করার সওয়াব
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْعَبْدَ لَيَمُوتُ وَالِدَاهُ أَوْ أَحَدُهُمَا وَإِنَّهُ لَهُمَا لَعَاقٌ فَلَا يَزَالُ يَدْعُولَهُمَا وَيَسْتَغْفِرْ لَهُمَا حَتَّى يَكْتُبَهُ اللَّهُ بَارًا -
"হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি আজীবন মাতা-পিতার নাফরমানী করে এবং তার মাতা-পিতা অথবা তাঁদের উভয়ের কেউ ইন্তেকাল করেন তাহলে তার উচিত অব্যাহতভাবে মাতা-পিতার জন্য দোয়া ও ক্ষমা চাওয়া। ফলে আল্লাহ নিজের রহমাতে তাকে নেক লোকদের মধ্যে লিখে দেন।"
আজীবন মাতা-পিতার আনুগত্য, তাঁদের সাথে সুন্দর আচরণ এবং তাঁদের সন্তুষ্ট রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা আবশ্যক। কিন্তু সামগ্রিক প্রচেষ্টার পরও যদি তাঁরা সন্তুষ্ট না হন এবং অসন্তুষ্ট অবস্থাতেই দুনিয়া থেকে বিদায় নেন তাহলেও আল্লাহর রহমাতের দরজা খোলা থাকে ও ক্ষতিপূরণ সম্ভব। অব্যাহতভাবে তাঁদের জন্য দোয়া ও মাগফিরাত কামনার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ পাক ভুল ক্ষমা করে দিতে পারেন বলে আশা করা যায় ও আপনাকে উত্তম বান্দাদের মধ্যে পরিগণিত করতে পারেন। আল্লাহর রহমত থেকে কোনো মুমিন বান্দারই নিরাশ হওয়া উচিত নয়। বান্দাহর অন্তরে যখনই তাওবার আবেগ সৃষ্টি হয় তখনই তিনি অগ্রসর হয়ে তা কবুল করে নেন এবং সেই আবেগকে অগ্রসর করানো ও জীবনের উপর তার প্রভাব ফেলার যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করেন কিন্তু এ হাদীস থেকে ভুল ধারণা নেয়া অবশ্যই ঠিক নয় যে, মাতা-পিতা জীতি থাকা অবস্থায় অবাধ্য থেকে তাঁদের মৃত্যুর পর দোয়া এবং ইসতিগফার করে আল্লাহর রহমাত লাভ করা যাবে। সঠিক কথা হলো, জীবিতাবস্থায় তাঁদের খিদমত এবং সন্তুষ্ট রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধান করা।
📄 মাতা-পিতার প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টি
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَض أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ وَلَدٍ بَارٍ يَنْظُرُ إِلَى وَالِدَيْهِ نَظَرَةَ رَحْمَةٍ إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ نَظَرَةٍ حِجَّةً مَبْرُورَةً قَالُوا إِنْ نَظَرَ كُلَّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ قَالَ نَعَمْ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَأَطْيَبُ - مسلم
"হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, যে সুসন্তানই মাতা-পিতার প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টিতে একবার তাকাবে তার বদলায় আল্লাহ তাকে এক হজ্জ কবুলের সওয়াব দান করেন। লোকজন জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কেউ একদিনে শতবার রহমাত ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখে। তিনি বললেন, জ্বী হাঁ যদি কেউ শতবার দেখে তবুও। আল্লাহ (তোমাদের ধারণায়) অনেক বড় এবং সম্পূর্ণ পবিত্র।"
মর্মার্থ হলো আল্লাহর রহমাত এবং ব্যাপকতা এতো বড়ো যে, তিনি তা থেকেও বেশী প্রদান করতে পারেন। যদি কোনো সন্তান দিন ভর শতবার মাতা-পিতার প্রতি রহমাত ও মুহাব্বাতের দৃষ্টিতে দেখে তাহলে আল্লাহ শত হজ্জের সওয়াবও দিতে পারেন। মানুষ আল্লাহ সম্পর্কে যাকিছু চিন্তা করতে পারে তিনি তা থেকেও বেশী বড়ো এবং মর্যাদাবান।
মানুষ নিজের সামর্থ্যকে সামনে রেখে চিন্তা করে থাকে। ফলে এতো বড়ো সওয়াব প্রাপ্তি অসম্ভব বলে মনে হয় এবং ভুল ধারণার শিকার হয়। কিন্তু আল্লাহ সম্পর্কে এ ভুল ধারণা পোষণ সঠিক নয়। তিনি প্রত্যেক ভুল ধারণা থেকে পবিত্র। সেই দয়াশীল সত্তা এতো দান করতে পারেন যে, মানুষের ধারণা সে পর্যন্ত পৌঁছতেই সক্ষম নয়।
📄 মাতা-পিতার প্রতি অর্থনৈতিক সাহায্য
يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ ط قُلْ مَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ خَيْرٍ فَالْوَالِدَيْنِ -
"লোকজন আপনাকে জিজ্ঞেস করে থাকে, আমরা কি খরচ বা ব্যয় করবো। জবাবে বলে দিন, যে মালই তোমরা খরচ করো তার প্রথম হকদার হলো মাতা-পিতা।"-সূরা আল বাকারা: ২১৫
কুরআন ও সুন্নাতে যেভাবে মাতা-পিতার খিদমত, আনুগত্য এবং সুন্দর আচরণের গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে তেমনি মাতা-পিতার উপর খরচ না করে ধন-সম্পদ বাঁচানো সঠিক নয় বলেও তাকিদ দেয়া হয়েছে। বরং সর্বপ্রথম তাদের উপরই খরচ করতে হবে। আর তাঁরা যদি অভাবগ্রস্ত হন তাহলে জবরদস্তি করেই নিতে পারেন। যদি কেউ মাতা-পিতার খিদমত ও আনুগত্য প্রদর্শনে কমতি না করেও অর্থ খরচ করতে না চায়, তাহলে সেটাও ঠিক হবে না। যেভাবে সন্তানের উপর তাদের অধিকার রয়েছে তেমনি সন্তানের সম্পদের উপরও তাঁদের অধিকার আছে।
📄 পুত্রের সম্পদে পিতার অধিকার
একবার প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এক ব্যক্তি এলো এবং নিজের পিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বললো ইচ্ছা হলেই সে আমার সম্পদ নিয়ে নেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই ব্যক্তির পিতাকে ডাকলেন। লাঠির উপর ভর দিয়ে এক দুর্বল বৃদ্ধ এসে হাজির হলো। তিনি বৃদ্ধকে সব জিজ্ঞেস শুরু করলে সে বললো: আল্লাহর রাসূল! এক যুগ ছিলো যখন এ দুর্বল আরো অসহায় ছিলো এবং আমি শক্তি সম্পন্ন ছিলাম। আমি বিত্তশালী ছিলাম। আর সে ছিলো কপর্দক শূন্য। আমি কখনো তাকে আমার সম্পদ নেয়ায় বাধা দিইনি। আজ আমি দুর্বল। সে সুঠাম ও শক্তিশালী। আমি কপর্দক শূন্য। সে বিত্তশালি। এখন সে নিজের সম্পদ আমাকে দেয় না।
একথা শুনে রহমতে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেঁদে দিলেন এবং বললেন, "তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার পিতার। তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার পিতার।”