📘 মাতা পিতা ও সন্তানের অধিকার > 📄 হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরামর্শ

📄 হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরামর্শ


আরো একটি হাদীস এ ধারণার সমর্থনে পাওয়া যায়। "এক ব্যক্তি হযরত আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিদমতে হাজির হয়ে বলতে লাগলেন, আমার পিতা অত্যন্ত পীড়াপীড়ি করে আমার বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন আমাকে স্ত্রী তালাকের নির্দেশ দিচ্ছেন। হযরত আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: ভাই, আমি আপনাকে মাতা-পিতার নাফরমানীও করতে বলি না। আবার একথাও বলি না যে, নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দাও। হ্যাঁ, আপনি যদি চান তাহলে আমি আপনাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যে কথা শুনেছি তা বলে দিতে পারি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, "পিতা জান্নাতের অতি উত্তম দরজা।" যদি তোমরা চাও তাহলে নিজের জন্য তা সুরক্ষিত করে নাও। আর যদি চাও তাহলে তা উপেক্ষাও করতে পারো।-ইবনে হাব্বান
হাদীসটির একথা চিন্তা করার বিষয়। প্রশ্নকারী এসে পরিষ্কারভাবে বললো যে, আমার পিতা আমাকে তালাকের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু হযরত আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাবে একথা স্পষ্টভাবে বলেননি যে, পিতা যখন বলছেন, তখন দিয়ে দাও তালাক। কেননা তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব। বরং তিনি বলেছেন, আমি তোমাকে মাতা-পিতার অবাধ্য হতেও বলি না, আবার তোমাকে একথাও বলি না যে, স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দাও। এ ব্যাপারে যদি অবধারিতভাবে আনুগত্য ওয়াজিব হতো তাহলে হযরত আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু পরিষ্কারভাবে বলে দিতেন যে, তালাক দিয়ে দাও এবং মাতা-পিতার আনুগত্য করো। হযরত আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত হিকমত বা কৌশলের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফরমান শুনালেন এবং প্রশ্নকারী স্বয়ং যাতে এ ব্যাপারে চিন্তা করে সে জন্য উদ্বুদ্ধ করলেন।
অবশ্য মাতা-পিতার উপর যাতে যুলুম না হয় সে ব্যাপারে যেন সে খেয়াল রাখে। কেননা তাদের আনুগত্য জান্নাতের মাধ্যম।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00