📄 শয়তান কাদের উপর কর্তৃত্ব চালাতে পারেনা?
শয়তান সব মানুষের উপর কর্তৃত্ব ও আধিপত্য চালাতে পারেনা। যারা খাঁটি ঈমানদার, আল্লাহর নিষ্ঠাবান দাস, যারা আল্লাহর পথে অটল অবিচল থাকে, যারা নির্ভীক -আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেনা এবং যারা সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা করে, শয়তান তাদের উপর কর্তৃত্ব চালাতে পারেনা। দেখুন মহান আল্লাহর বাণী :
إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ وَكَفَى بِرَبِّكَ وَكِيلًا
অর্থ : আমার যারা নিষ্ঠাবان দাস নিশ্চয়ই তাদের উপর তোর কোনো প্রকার কর্তৃত্ব- আধিপত্য চলবেনা। (হে মুহাম্মদ!) উকিল হিসেবে আল্লাহই তোমার জন্যে যথেষ্ট। (সূরা ১৭ ইসরা: আয়াত ৬৫)
إِنَّهُ لَيْسَ لَهُ سُلْطَانٌ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ .
অর্থ: জেনে রাখো, যারা ঈমান আনে, ঈমানের পথে চলে এবং তাদের মহান প্রভু আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে, তাদের উপর শয়তানের কোনো প্রভাব, আধিপত্য ও কর্তৃত্বই চলেনা। (সূরা ১৬ আন নহল : আয়াত ৯৯)
إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِّنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُم مُّبْصِرُونَ
অর্থ : যারা সতর্ক সচেতন লোক, শয়তানের পক্ষ থেকে যখনই তারা কোনো কুচিন্তা, কুমন্ত্রনা ও প্ররোচনা অনুভব করে, তখনই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং সাথে সাথে তাদের চোখ খুলে যায়, তারা সজাগ সতর্ক হয়ে যায় এবং সত্য পথ ও সঠিক কর্মপন্থা স্পষ্টভাবে দেখতে পায়। (সূরা ৭ আ'রাফ: ২০১)
قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ وَ إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ . قَالَ هَذَا صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيمٌ . إِنْ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِينَ ، وَإِنْ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ .
অর্থ: ইসলিস বললো: 'হে প্রভু! আপনি যেহেতু আমাকে বিপথগামী করলেন, তাই পৃথিবীতে আমি মানুষের কাছে তাদের পাপ কর্মসমূহকে শোভনীয় ও চমৎকার করে তুলবো এবং আমি তাদের সবাইকে বিপথগামী করে ছাড়বো- কেবল তাদের মধ্যকার ঐলোকদের ছাড়া, যারা আপনার মনোনীত নিষ্ঠাবান সুপথ প্রাপ্ত।' আল্লাহ বললেন: হ্যা, এটাই আমার কাছে পৌছার সরল সঠিক পথ-নিষ্ঠার সাথে সরল সঠিক পথে চলা আমার দাসদের উপর তোর কোনো প্রভাব-কর্তৃত্ব-আধিপত্য চলবেনা; তবে বিপথগামীদের যারা তোর অনুসরণ করবে, তাদের কথা ভিন্ন। জাহান্নামই তাদের সবার প্রতিশ্রুত আবাস। (সূরা ১৫ আল হিজর : আয়াত ৩৯-৪৩)
إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا ، إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ • الَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ .
অর্থ : শয়তান তোমাদের চিরশত্রু; সুতরাং তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ। সে তো তার দলকে (অনুসারীদেরকে) জাহান্নামী হবার দিকেই দাওয়াত দেয় (প্রলুদ্ধ করে)। যারা তার দাওয়াতে (প্ররোচনায় পড়ে) কুফুরির পথ অবলম্বন করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। আর যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ করে (ঈমানের পথে চলে এবং পূণ্য কর্ম করে) তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। (সূরা ৩৫ ফাতির: আয়াত ৬-৭)
وَإِمَّا يَتَزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ .
অর্থ: তুমি যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার প্ররোচনা অনুভব করো, তবে সাথে সাথে তার থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাও। তিনি সর্বশ্রোতা এবং সর্বজ্ঞানী। (সূরা ৪১ হামিম আস্সাজদা: আয়াত ৩৬)
শয়তান কোন্ ধরনের লোকদের উপর কর্তৃত্ব এবং আধিপত্য চালাতে পারেনা, উল্লেখিত আয়াতগুলো থেকে তার একটা সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। সংক্ষেপে সাজিয়ে বললে বলা যায় যে, শয়তান যাদের উপর তার কর্তৃত্ব, আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার করতে পারেনা, তারা হলো :
১. যারা আল্লাহর নিষ্ঠাবান দাস। যারা আল্লাহর আনুগত্য ও দাসত্বে এবং তাঁর ইবাদতে নিষ্ঠাবান।
📄 শয়তানের ব্যাপারে মহান আল্লাহর মর্মস্পর্শী উপদেশ
এযাবতকার আলোচনা থেকে পরিষ্কার হলো, মানুষের মূল দুশমন হলো শয়তান। সে মানুষের স্বঘোষিত সুস্পষ্ট দুশমন। তার সর্বসাধনা হলো, মানুষকে আল্লাহর অবাধ্য বানিয়ে জাহান্নামের পথে পরিচালিত করা। এ উদ্দেশ্যে সে মানুষের বিরুদ্ধে ধোকা, প্রতারণা ও বিভ্রান্তির জাল বিস্তার করে।
অপরদিকে মানুষও অজ্ঞতা, অন্ধতা, অহমিকা, লোভ লালসা, কামনা বাসনা ও দুনিয়ার মোহের কারণে শয়তানের প্রতারণা ও বিভ্রান্তির জালে আটকা পড়ে।
মানুষ যেনো সতর্ক হয়, শয়তানের প্রতারণার জালে আঁটকা না পড়ে, সে উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ কুরআন মজিদে মানুষকে অনেক মর্মস্পর্শী উপদেশ দিয়েছেন। শয়তানের ব্যাপারে মহান আল্লাহর কয়েকটি উপদেশ উল্লেখ করা হলো:
يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّةِ يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْآتِهِمَا إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ .
অর্থ: হে আদম সন্তান! শয়তান যেনো তোমাদেরকে তেমনিভাবে ফিতনায় না ফেলে, যেমন করে সে তোমাদের আদি পিতা মাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল এবং তাদের শরীর থেকে তাদের পোষাক খসিয়ে ফেলেছিল, যাতে তাদের লজ্জাস্থান একে অপরের সামনে খুলে যায়। সে এবং তার সাথি তোমাদেরকে এমন জায়গা থেকে দেখতে পায় যেখান থেকে তোমরা তাকে দেখতে পাওনা। যারা ঈমান আনেনা তাদের জন্যে আমি শয়তানদের অলি (অভিভাবক) বানিয়ে দিয়েছি। (সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ২৭)
إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِينَ . وَإِنْ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ . لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِّكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءٌ مَّقْسُومٌ . إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ . ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ . وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِم مِّنْ غِلَّ إِخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُّتَقَابِلِينَ . لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُم مِّنْهَا بِمُخْرَجِينَ نَبِي عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ . وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ .
অর্থ: নিশ্চয়ই যারা আমার নিষ্ঠাবান দাস তাদের উপর তোর কোনো আধিপত্য খাটবেনা। তোর কর্তৃত্ব শুধু ঐ সব ভ্রষ্ট লোকদের উপরই চলবে, যারা তোকে মেনে চলে। তাদের সবার জন্যে দোযখের শাস্তির ওয়াদা রইলো, যার রয়েছে সাতটি দরজা। প্রতিটি দরজার জন্যে তাদের মধ্য থেকে একটি অংশকে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে মুত্তাকি (সতর্ক) লোকেরা থাকবে বাগানে ও ঝরণাসমূহের মধ্যে। তাদেরকে বলা হবে, 'তোমরা এতে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে প্রবেশ করো।' তাদের অন্তরে একে অপরের প্রতি কোনো প্রকার কুণ্ঠাভাব থাকলে তা আমি দূর করে দেবো। তারা ভাই ভাই হয়ে সামনা-সামনি আসনে বসবে। যেখানে কোনো রকম কষ্ট তাদের স্পর্শ করবেনা এবং সেখান থেকে তাদেরকে বেরও করে দেয়া হবেনা। (হে নবী!) আমার দাসদের জানিয়ে দাও আমি ক্ষমাশীল ও মেহেরবান, কিন্তু সেই সংগে আমার আযাবও ভয়ানক যন্ত্রণাদায়ক। (সূরা ১৫ হিজর: আয়াত ৪২-৫০)
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا .
অর্থ : স্মরণ করো, যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, 'আদমকে সাজদা করো,' তখন তারা সাজদা করলো, কিন্তু ইবলিস করলোনা। সে ছিলো জিন। সে তার প্রভুর হুকুম অমান্য করলো। তোমরা কি আমাকে বাদ দিয়ে তাকে ও তার বংশধরদেরকেই তোমাদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে? অথচ তারা তোমাদের দুশমন। এটা কতইনা মন্দ বদল, যা যালিমরা (আল্লাহর বদলে) গ্রহণ করেছে। (সূরা ১৮ আল কাহাফ: আয়াত ৫০)
وَقُل لِّعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَتَرَغُ بَيْنَهُمْ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلْإِنسَانِ عَدُوًّا مُّبِينًا .
অর্থ: (হে নবী!) আমার নিষ্ঠাবান দাসদের বলে দাও, তারা যেনো এমন কথা বলে যা খুব ভালো। আসলে শয়তানই মানুষের মধ্যে কুমন্ত্রণা দিয়ে ফাসাদ সৃষ্টি করে। নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের জন্যে প্রকাশ্য দুশমন। (সূরা ১৭ ইসরা : ৫৩)
সূরা আন্ নিসায় মহান আল্লাহ বলেন : আল্লাহ শুধু শিরকের গুনাহ্ই মাফ করেন না, এছাড়া আর সব গুনাহ্ই মাফ করেন, যার বেলায় তিনি ইচ্ছা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরিক করে সে তো গুমরাহিতে বহুদূর চলে গেছে। ওরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে দেবীদের মা'বুদ বানায়। আর ওরা ঐ বিদ্রোহী শয়তানকে মা'বুদ বানায়, যার উপর আল্লাহ লা'নত করেছেন। (ওরা ঐ শয়তানকে মেনে চলে) যে আল্লাহকে বলেছিল, 'আমি তোমার বান্দাহদের মধ্য থেকে এক নির্দিষ্ট হিস্যা দখল করেই ছাড়বো। (সে আরো বলেছিল) অবশ্যি আমি তাদেরকে গুমরাহ করবো, আশার ছলনায় ভুলাবো, তাদের আমি হুকুম করবো এবং আমার হুকুম মতো তারা পশুর কানে ছিদ্র করবে, আমি তাদেরকে হুকুম করবো এবং তারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে বিকৃতি ঘটাবে। যে কেউ আল্লাহ্ বদলে শয়তানকে অলি বানাবে, সে সুস্পষ্ট ক্ষতির মধ্যে পড়বে। শয়তানতো তাদের সাথে ওয়াদা করে এবং তাদেরকে আশা দিয়ে ভুলায়। অথচ শয়তানের ওয়াদা ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। এদের ঠিকানা হলো দোযখ, যেখান থেকে মুক্তির কোনো উপায় ওরা পাবেনা। আর যারা ঈমান আনবে এবং নেক আমল করবে তাদেরকে আমি এমন বাগানে দাখিল করবো, যার নিচে নদী সমূহ প্রবহমান থাকবে এবং তারা সেখানে থাকবে চিরকাল। এটা আল্লাহর খাঁটি ওয়াদা। আর আল্লাহর চেয়ে নিজের কথায় আর কে বেশি সত্যবাদী হতে পারে? (সূরা ৪ আন নিসা: আয়াত ১১৬-১২২)
وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ .
অর্থ : অনেক জিন ও মানুষকেই আমি দোযখের জন্যে সৃষ্টি করেছি। (কারণ,) তাদের দিল আছে, কিন্তু তা দ্বারা তারা চিন্তা করেনা। তাদের চোখ আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখেনা। তাদের কান আছে, কিন্তু তার সাহায্যে তারা শুনেনা। তারা পশুর মতো; বরং তার চেয়েও অধম। এরাই ঐ সব লোক যারা গাফলতির মধ্যে পড়ে আছে। (সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ১৭৯)
আল্লাহ পাক সূরা আল ফুরকানে বলেন: ঐদিন একটি মেঘ আসমানকে ভেদ করে এগিয়ে আসবে এবং ফেরেশতাদের একের পর এক নাযিল করা হবে। সেদিন সত্যিকারের কর্তৃত্ব হবে শুধু রহমানের। কাফিরদের জন্যে সে দিনটি হবে বড়ই কঠিন। যালিম লোকেরা সেদিন নিজেদের দু'হাত কামড়াতে কামড়াতে বলবে: হায় আমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি রসূলের সাথে এক পথে চলতাম! হায় আমার পোড়া কপাল! আমি যদি অমুক লোকটিকে বন্ধু না বানাতাম! তারই ধোকায় পড়ে আমি ঐ উপদেশ মেনে চলিনি, যা আমার কাছে এসেছিল। মানুষের জন্যে শয়তান বড়ই বিশ্বাসঘাতক। (সূরা ২৫ ফুরকান: আয়াত ২৫-২৯)
الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُوا أَوْلِيَاءَ الشَّيْطَانِ إِنْ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا
অর্থ : যারা ঈমান এনেছে, তারা আল্লাহর পথে লড়ে যায়, আর যারা কুফরি করেছে তারা লড়াই করে তাগুতের পথে। তাই শয়তানের সাথিদের বিরুদ্ধে লড়ে যাও। জেনে রাখো, শয়তানের চাল বড়ই দুর্বল। (সূরা ৪ নিসা : আয়াত ৭৬)
📄 শয়তানের কুমন্ত্রণা ও বিভ্রান্তি থেকে বাঁচার উপায় : কুরআনের বাণী
কুরআন মজিদে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও বিভ্রান্তি থেকে আত্মরক্ষার উপায় বলে দেয়া হয়েছে। সেসব উপায় ও প্রক্রিয়া অবলম্বন করলেই শয়তানের প্রতারণা থেকে আত্মরক্ষা করা সম্ভব। সেগুলো হলো:
১. শয়তানের প্ররোচনা অনুভব করলেই আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হবে :
وَإِمَّا يَتَزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
অর্থ: যদি কোনো সময় শয়তান তোমাকে উস্কানি দেয় তাহলে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। তিনি সবকিছু শুনেন ও জানেন। (সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ২০০)
২. শয়তানের প্ররোচনা অনুভব করার সাথে সাথে আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে :
إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُم مُّبْصِرُونَ
অর্থ : যারা সতর্ক-মুত্তাকি, শয়তানের কারণে কোনো মন্দ ভাব তাদের মনে জাগার সাথে সাথেই তারা সাবধান সতর্ক হয়ে যায়। তখন তারা স্পষ্ট দেখতে পায় (তাদের জন্যে সঠিক পথ কোন্টি)। (সূরা ৭ আ'রাফ: আয়াত ২০১)
৩. শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চেয়ে কুরআন পাঠ শুরু করতে হবে :
فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ •
অর্থ : যখন তোমরা কুরআন পড়তে শুরু করো তখন ধিকৃত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। (সূরা ১৬ নহল : আয়াত ৯৮)
৪. শয়তানকে দুশমন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে :
إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا •
অর্থ : নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের দুশমন। তাই তোমরাও তাকে তোমাদের দুশমন হিসেবে গ্রহণ করো। (সূরা ৩৫ ফাতির : আয়াত ৬)
৫. শয়তানের প্ররোচনা থেকে সবসময় এভাবে দোয়া করতে থাকুন :
رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ . وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ .
অর্থ : প্রভু! শয়তানের প্ররোচনা থেকে আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। প্রভু! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার নিকট তাদের (শয়তানদের) উপস্থিতি থেকে। (সূরা ২৩ আল মুমিনূন: আয়াত ৯৭-৯৮)
টিকাঃ
১২. শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়ার পদ্ধতি হলো: 'আউযুবিল্লাহি মিনাশ্ শাইতানির রাজিম' বলা, অথবা নিম্নে (৫নম্বরে) উদ্ধৃত দোয়াটি পড়া।
📄 শয়তানের প্রতারণা ও বিপথগামিতা থেকে রক্ষা পাওয়ার কৌশল : হাদিসের আলোকে
০১. রাতে ঘুম থেকে জেগে আল্লাহকে স্মরণ করুন এবং অযু করে নামায পড়ুন : আবু হুরায়রা রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: রাতে যখন তোমরা ঘুমিয়ে পড়ো, তখন শয়তান এসে তোমাদের প্রত্যেকের শিয়রে বসে এবং তোমাদের মাথার শেষাংশে তিনটি গিরা দেয় এবং প্রতিটি গিরায় এই বলে ফু দিয়ে দেয় : 'রাত এখনো অনেক বাকি, ঘুমিয়ে থাকো।' তখন ঐ ব্যক্তি যদি রাতে জেগে উঠে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে, তাতে একটি গিরা খুলে যায়। তারপর যদি উঠে অযু করে, তখন আরেকটি গিরা খুলে যায়। অতপর যদি নামায পড়ে, তখন (শয়তানের) সবগুলো গিরাই খুলে যায়। ফলে সুন্দর, পবিত্র ও উৎফুল্ল মনে এই ব্যক্তির দিবসের শুভ সূচনা হয়। আর সে যদি এ কাজগুলো না করে, তবে কলুষ মন আর অলস দেহে এ ব্যক্তির দিবসের সূচনা হয়। (সহীহ আল বুখারি: সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়, শয়তান ও তার বাহিনীর কর্মপদ্ধতি অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩০২৮)
০২. যখন ঘুমাতে যাবেন আয়াতুল কুরসি পড়ুন: আবু হুরায়রা রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. আমাকে রমযানের যাকাত (সদাকুতল ফিতর) পাহারার দায়িত্বে নিয়োগ করেন। আমি পাহারারত থাকাকালেই এক আগন্তুক দু'হাত ভরে খাদ্যসমাগ্রী নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আমি তাকে ধরে ফেললাম। বললাম, তোমাকে আমি রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে হাযির করবো। তখন সে বললো, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে মোক্ষম একটি বিষয় শিখিয়ে দেবো। সে বললো: তুমি যখন ঘুমানোর জন্যে বিছানায় যাবে, তখন আয়াতুল কুরসি পড়ে নেবে। তাতে সর্বদা আল্লাহ তোমাকে হিফাযত করবেন এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত কোনো শয়তান তোমার কাছেও ঘেষতে পারবেনা।' - ঘটনাটি আমি রসূলুল্লাহ সা.কে অবহিত করলাম, তিনি বললেন: সে ছিলো শয়তান। সে (ছাড়া পাওয়ার জন্যে) তোমাকে সত্য বিষয়টি বলেছে, অথচ সে ডাহা মিথ্যাবাদী। (সহীহ আল বুখারি: সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়, শয়তান ও তার বাহিনীর কর্মপদ্ধতি অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩০৩৩)
০৩. আল্লাহ সম্পর্কে প্রশ্ন সৃষ্টি হলে 'আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম' বলুন : আবু হুরায়রা রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: তোমাদের একেক জনের কাছে শয়তান এসে বলবে এটা কে সৃষ্টি করেছে, ওটা কে সৃষ্টি করেছে? শেষ পর্যন্ত বলবে : আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? এখান পর্যন্ত আসলেই তুমি বলবে 'আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম -আমি ধিকৃত শয়তান থেকে আল্লাহ্ আশ্রয় চাই।'-তারপর নিবৃত্ত হয়ে যাবে- আর সম্মুখে অগ্রসর হবেনা। (সহীহ আল বুখারি: সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়, শয়তান ও তার বাহিনীর কর্মপদ্ধতি অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩০৩৪)
০৪. সন্ধ্যায় শিশুদের ঘরে রাখুন, আল্লাহ্র নাম নিয়ে দরজা বন্ধ করুন: জাবির রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: সন্ধ্যা নেমে এলে তোমরা তোমাদের শিশুদের ঘরে রাখো। কারণ এসময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা শেষ হলে (প্রয়োজনে) তাদের বাইরে যেতে দিতে পারো। বিসমিল্লাহ বলে ঘরের দরজা বন্ধ করো। বিসমিল্লাহ বলে বাতি নেভাও। বিসমিল্লাহ বলে পানির পাত্র ঢেকে রাখো। বিসমিল্লাহ বলে খাবার পাত্র ঢেকে রাখো। ঢাকার কিছু না পেলে যৎসামান্য কিছু হলেও উপরে দিয়ে রাখো। (সহীহ আল বুখারি: সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়, শয়তান ও তার বাহিনীর কর্মপদ্ধতি অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩০৩৮)
০৫. কারো মনে সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে- এমন বিষয়গুলো স্পষ্ট করে বলে দিন: উম্মুল মুমিনিন সুফিয়া বিনতে হুয়াই রা. বলেন: রসূলুল্লাহ সা. মসজিদে ই'তেকাফরত ছিলেন- এমতাবস্থায় একরাত্রে আমি তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে গেলাম এবং কিছু প্রয়োজনীয় কথা বললাম। অতপর আমি ঘরে ফেরার সময় রসূলুল্লাহ সা. আমাকে এগিয়ে দিতে উঠে এলেন। এসময় দুজন আনসার সাহাবি ওখান দিয়ে অতিক্রম করছিল। তারা আল্লাহর রসূলকে দেখেই দ্রুত হাঁটতে লাগলো। তখন রসূলুল্লাহ সা. তাদের বললেন: 'একটু থামো, এহলো আমার স্ত্রী সুফিয়া বিনতে হুয়াই।' এ কথা শুনে তারা বললো: 'সুবহানাল্লাহ, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি আপনার ব্যাপারে অন্য কিছু ধারণা করতে পারি? তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: শোনো, শয়তান রক্তের মতোই মানুষের ধমনীতে প্রবাহিত হয়। আমার আশংকা হয়েছিল, সে তোমাদের অন্তরে কোনো কুধারণা সৃষ্টি করে দেয় নাকি। (সহীহ আল বুখারি: সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়, শয়তান ও তার বাহিনীর কর্মপদ্ধতি অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩০৩৯)
০৬. রাগান্বিত হলে 'আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম' বলুন: সুলাইমান বিন সুরাদ বলেন, একবার আমি রসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে বসা ছিলাম। এসময় দুজন লোক পরস্পরকে গালাগাল করছিল। রাগে তাদের একজনের চেহারা লাল হয়ে গেলো এবং গলার রগ ফুলে উঠলো। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন : আমি এমন একটি বাক্য জানি, এ ব্যক্তি যদি সেটি উচ্চারণ করে, তবে তার রাগ পড়ে যাবে। সে যদি বলে: “আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম- আমি ধিকৃত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই”, তবে তার রাগ পড়ে যাবে। (সহীহ আল বুখারি: সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়, শয়তান ও তার বাহিনীর কর্মপদ্ধতি অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩০৪০)
০৭. সারাদিন শয়তান থেকে রক্ষাকারী একটি বাক্য :
لا اله الا اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَه لَه الْمُلْكُ وَلَه الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِير
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার ও সমকক্ষ নেই, সমস্ত কর্তৃত্ব তাঁর, সমস্ত প্রশংসা তাঁর এবং তিনি সর্বশক্তিমান।”
-যে ব্যক্তি দিনে শতবার এই বাক্যটি উচ্চারণ করবে, সে দশজন মানুষকে গোলামির বন্ধন থেকে মুক্ত করার সমপরিমাণ পুরস্কার লাভ করবে, তার জন্যে শতটি পূণ্য লেখা হবে, তার শতটি পাপ মুছে দেয়া হবে এবং এ বাক্যটি সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত ঐদিন তার জন্যে প্রতিরক্ষা বুহ্য রচনা করবে। (সহীহ আল বুখারি : সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়, শয়তান ও তার বাহিনীর কর্মপদ্ধতি অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর ৩০৫১)
০৮. শয়তানকে নিজের থেকে দূরে রাখার কৌশল: আনাস রা. বলেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: কেউ যদি ঘর থেকে বের হবার সময় নিম্নোক্ত কথাগুলো বলে, তখন (আল্লাহ্ পক্ষ থেকে) তাকে বলা হয়: 'তোমাকে সঠিক পথ দেখানো হবে, আল্লাহ তোমার জন্যে যথেষ্ট হবেন এবং তোমাকে নিরাপদ রাখা হবে।' অতপর শয়তান তার থেকে দূরে চলে যায়। তারা পরস্পরকে বলে: তুমি কিভাবে ওর উপর প্রভাব বিস্তার করবে, যাকে সঠিক পথ দেখানো হয়েছে, আল্লাহ যার জন্যে যথেষ্ট হয়েছেন এবং যাকে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে? সেই কথাগুলো হলো :
بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ لاَ حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ
অর্থ: 'আমি আল্লাহ্ নামে আরম্ভ করছি এবং আল্লাহ্র উপর তাওয়াক্কুল করছি। আল্লাহ ছাড়া কারো কোনো শক্তি ক্ষমতা নেই।' (তিরমিযি, আবু দাউদ, নাসায়ী)
০৯. শয়তানকে আপনার ঘরে ঢুকতে এবং আহারে অংশ নিতে দেবেন না : জাবির রা. বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সা.কে বলতে শুনেছি: শয়তানরা তোমাদের ঘরের সদর (আগ) দরজায় ওঁৎ পেতে বসে থাকে। সে এই সংকল্প নিয়ে বসে থাকে যে, তোমাদের কেউ যখন ঘরে প্রবেশ করবে, সেও তার সাথে ঘরে প্রবেশ করবে এবং তার খাবার গ্রহণে অংশগ্রহণ করবে। যখন কোনো ব্যক্তি আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে ঘরে প্রবেশ করে এবং আল্লাহ্ নাম নিয়ে খেতে আরম্ভ করে, তখন (ওঁৎ পেতে থাকা) শয়তান তার সাথিদের বলে: 'এ ঘরে আজ তোমাদের রাত্রিযাপন হলোনা এবং রাতের খাবারও জুটলোনা।' আর কোনো ব্যক্তি যখন আল্লাহ্ নাম উচ্চারণ ছাড়াই ঘরে প্রবেশ করে, শয়তান তার সাথিদের বলে: 'যাও, আজ এ বাড়িতেই তোমরা রাত কাটাবে।' অতপর ঐ ব্যক্তি যদি আহার গ্রহণকালেও আল্লাহ্র নাম উচ্চারণ না করে, তখন শয়তান তার সাথিদের বলে: এ বাড়িতেই আজ তোমরা রাত কাটানোর এবং খানা খাবার সুযোগ পেলে। (সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ)
১০. দীনের সঠিক ও যথার্থ জ্ঞানার্জন করুন: শয়তানের প্রতারণা ও বিভ্রান্তি থেকে আত্মরক্ষা করার সবচেয়ে বড়, কার্যকর ও মোক্ষম হাতিয়ার হলো, দীন সম্পর্কে, ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ও যথার্থ জ্ঞানার্জন করা। কুরআন সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান রাখেন এমন লোকদের শয়তান ভয় পায় এবং খুব কমই তাদের প্রতারিত করতে পারে। কারণ,
ক. যিনি সঠিক পথ জানেন, আসল জিনিস চেনেন, তাকে কেউ ভুল পথে নিতে পারেনা এবং মেকি জিনিস গচাতে পারেনা।
খ. তিনি যদি কখনো ভুল করেও ফেলেন, তিনি তা বুঝতে পারেন। ফলে তিনি তওবা করেন, অনুতপ্ত হন এবং ভুল শুধরে নেন।
গ. তাঁর সংগি-সাথি এবং আশে পাশের লোকদের তিনি সব সময় জ্ঞান দান করনে, তাদের উপদেশ নসিহত করেন, তাদের ভুল শুধরে দেন এবং শয়তানের বিভ্রান্তি থেকে তাদের সতর্ক রাখেন। এসব কারণেই রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন :
فَقِيهُ وَاحِدٌ أَشَدُّ عَلَى الشَّيْطَانِ مِنْ أَلْفِ عَابِدِ
অর্থ: দীনের সঠিক ও যথার্থ জ্ঞানের অধিকারী একজন সমুঝদার ব্যক্তি শয়তানের জন্যে হাজার (অজ্ঞ) ইবাদতগুজারের চাইতেও ভয়াবহ। (ইবনে মাজাহ)
সমাপ্ত
টিকাঃ
১৩. এ সময় লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোনো শক্তি-ক্ষমতা নেই)' বলে আল্লাহকে স্মরণ করুন। অথবা 'আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম' বলুন।
১৪. এ থেকে বুঝা গেলো, রাগ সৃষ্টি হয় শয়তানের উস্কানিতে।