📘 মানুষের চিরশত্রু শয়তান > 📄 শয়তান আল্লাহর নাফরমানি করিয়ে এবং হানাহানি বাধিয়ে দিয়ে কেটে পড়ে

📄 শয়তান আল্লাহর নাফরমানি করিয়ে এবং হানাহানি বাধিয়ে দিয়ে কেটে পড়ে


শয়তান মানুষের বন্ধু ও কল্যাণকামী সেজে মানুষকে প্ররোচনা দেয়। আর শয়তানের প্ররোচনায় প্রভাবিত হয়ে কেউ যখন আল্লাহর হুকুম অমান্য করে এবং অপরাধ সংঘটিত করে বসে, তখন শয়তান তাকে ফেলে কেটে পড়ে:
كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِنكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ . فَكَانَ عَاقِبَتَهُمَا أَنَّهُمَا فِي النَّارِ.
অর্থ: তাদের উপমা হলো শয়তান। শয়তান মানুষকে (প্ররোচনা দিয়ে) বলে : 'কুফুরি (আল্লাহর হুকুম অমান্য) করো।' অতপর সে যখন কুফুরি করে বসে, তখন শয়তান তাকে বলে 'তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই, আমি তো আল্লাহ রব্বুল আলামীনকে ভয় করি।' ফলে উভয়ের পরিণতিই হবে জাহান্নাম। (সূরা ৫৯ হাশর: আয়াত ১৬-১৭)
শয়তান কিভাবে পরস্পরের মধ্যে বিবাদ ও হানাহানি উস্কে দিয়ে কেটে পড়ে, কুরআন মজিদে আরেক স্থানে মহান আল্লাহ সেকথা এভাবে উল্লেখ করেছেন :
وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لَا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّasِ وَإِنِّي جَارٌ لَّكُمْ ۖ فَلَمَّا تَرَاءَتِ الْفِئَتَانِ نَكَصَ عَلَى عَقِبَيْهِ وَقَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكُمْ إِنِّي أَرَى مَا لَا تَرَوْنَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ ۚ وَاللَّهُ شَدِيدُ الْعِقَابِ .
অর্থ: স্মরণ করো, শয়তান তাদের দুষ্টকর্মসমূহ তাদের কাছে চমৎকার ও শোভনীয় করে তুলে ধরেছিল। সে (বদরযুদ্ধ উপলক্ষে কুরাইশদের বলেছিল : '(ঝাপিয়ে পড়ো ওদের বিরুদ্ধে), আজ কোনো মানুষই তোমাদের উপর বিজয়ী হবেনা। আমি তোমাদের পাশেই থাকবো।' তারপর উভয় দল যখন পরস্পরের সম্মুখীন হলো, সে পেছন দিক থেকে কেটে পড়লো এবং তাদের (তার অনুসারী কুরাইশদের) বললো: 'তোমাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এমন কিছু দেখতে পাচ্ছি যা তোমরা দেখতে পাওনা। আমি আল্লাহকে ভয় করি। আর আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।' (সূরা ৮ আল আনফাল: আয়াত ৪৮)

📘 মানুষের চিরশত্রু শয়তান > 📄 কিয়ামতের দিন মানুষের উদ্দেশ্যে শয়তানের শেষ বিবৃতি

📄 কিয়ামতের দিন মানুষের উদ্দেশ্যে শয়তানের শেষ বিবৃতি


কিয়ামতের দিন আল্লাহর বিচার ফায়সালা শেষ হবার পর আল্লাহর অনুমতি নিয়ে অভিশপ্ত শয়তান মানুষের উদ্দেশ্যে একটি বিবৃতি প্রদান করবে। মানুষকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কুরআনে সে বিবৃতিটি উল্লেখ করা হয়েছে:
وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدتُّكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ وَمَا كَانَ لِيَ عَلَيْكُم مِّن سُلْطَانٍ إِلَّا أَن دَعَوْتُكُمْ فَاسْتَجَبْتُمْ لِي فَلَا تَلُومُونِي وَلُومُوا أَنفُسَكُم مَّا أَنَا بِمُصْرِكُمْ وَمَا أَنتُم بِمُصْرِخِيَّ إِنِّي كَفَرْتُ بِمَا أَشْرَكْتُمُونِ مِن قَبْلُ إِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ .
অর্থ: যখন আল্লাহর বিচার ফায়সালা শেষ হবে, তখন শয়তান (একটি বিবৃতি দিয়ে) বলবে: আল্লাহ তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা-ই ছিলো সত্য প্রতিশ্রুতি। আমিও তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কিন্তু আমি তোমাদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছি। তোমাদের উপর তো আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিলনা; আমি তো কেবল তোমাদের আহবান করেছি, আর তোমরা আমার আহবানে সাড়া দিয়েছিলে। সুতরাং তোমরা আমার প্রতি দোষারোপ করোনা; বরং তোমরা নিজেদেরকেই তিরস্কার করো। আমি (আল্লাহর শাস্তি থেকে) তোমাদের রক্ষা করতে পারবোনা, আর তোমরাও আমাকে রক্ষা করতে পারবেনা। ইতোপূর্বে তোমরা যে আমাকে আল্লাহর শরিক ও সমকক্ষ বানিয়ে নিয়েছিলে আমি সেটা (সে মর্যাদা) অস্বীকার করছি। নিশ্চয়ই যালিমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরা ১৪ ইবরাহিম : আয়াত ২২)

📘 মানুষের চিরশত্রু শয়তান > 📄 শয়তান কাদের বিপথগামী করে এবং সে কাদের বন্ধু ও অভিভাবক?

📄 শয়তান কাদের বিপথগামী করে এবং সে কাদের বন্ধু ও অভিভাবক?


আমরা এখানে আল কুরআনের কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করছি। এ আয়াতগুলো থেকে পরিষ্কার হয়ে যাবে শয়তান কাদেরকে বিপথগামী করে। সে কাদের অভিভাবকত্ব করে এবং কারা তার ভক্ত বন্ধু ও অনুসারী? মহান আল্লাহ বলেন :
هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلَى مَن تَنَزَّلُ الشَّيَاطِينُ • تَنَزَّلُ عَلَى كُلِّ أَفَاكَ أَثِيمٍ . يُلْقُونَ السَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كَاذِبُونَ
অর্থ: (হে মানুষ!) আমি কি তোমাদের সংবাদ দেবো, শয়তানরা কাদের উপর নাযিল হয় (কাদের ঘাড়ে চেপে বসে)? -তারা চেপে বসে ঘোরতর মিথ্যাবাদী পাপাসক্তদের ঘাড়ে; যারা কান পেতে থাকে এবং মিথ্যা কথা ছড়ায়। (সূরা ২৬ আশ্ শোয়ারা : আয়াত ২২১-২২৩)
أَلَمْ تَرَ أَنَّا أَرْسَلْنَا الشَّيَاطِينَ عَلَى الْكَافِرِينَ تَؤُزُّهُمْ أَنَّا .
অর্থ: তুমি কি দেখোনা, আমি শয়তানদের ছেড়ে রেখেছি; তারা কাফিরদের উপর সওয়ার হয় এবং তাদেরকে মন্দ কর্মে প্রলুব্ধ করে? (সূরা মরিয়ম : ৮৩)
وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ . وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ .
অর্থ: তুমি তাদেরকে ঐ ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়ে শুনাও যার কাছে আমি আমার আয়াত পাঠিয়েছিলাম; কিন্তু সে তা বর্জন করে। অতএব শয়তান তার পেছনে লাগে এবং সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আমি চাইলে তা (আমার আয়াত) দ্বারা তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করতে পারতাম; কিন্তু সে (তা বর্জন করে) দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। (সূরা ৭: ১৭৫-১৭৬)
إِنَّمَا سُلْطَانُهُ عَلَى الَّذِينَ يَتَوَلَّوْنَهُ وَالَّذِينَ هُم بِهِ مُشْرِكُونَ .
অর্থ : শয়তান তো কেবল তাদের উপরই কর্তৃত্ব ও আধিপত্য করে, যারা তাকে বন্ধু ও অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, আর যারা আল্লাহ্র সাথে শরিক করে। (সূরা ১৬ আন নহল: আয়াত ১০০)
وَلِتَصْغَىٰ إِلَيْهِ أَفْئِدَةُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَلِيَرْضَوْهُ وَلِيَقْتَرِفُوا مَا هُم مُّقْتَرِفُونَ .
অর্থ: যারা আখিরাতে বিশ্বাস করেনা, তাদেরকে নিজের প্রতি অনুরক্ত ও পরিতুষ্ট করা এবং নিজেরা যেসব অপকর্ম করে, তাদেরকে দিয়েও সেসব অপকর্ম করানোর উদ্দেশ্যেই শয়তান কুমন্ত্রণা দেয়। (সূরা আনআম: আয়াত ১১৩)
لِيَجْعَلَ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِتْنَةٌ لِلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُمْ .
অর্থ: তিনি এমনটি করেন শয়তানের উদ্ভাবিত সন্দেহকে ঐসব লোকদের জন্যে ফিতনা (পরীক্ষা) বানানোর জন্যে, যাদের অন্তরে রয়েছে ব্যধি এবং যারা পাষন্ড। (সূরা ২২ আল হজ্জ: আয়াত ৫৩)
وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ . وَإِنَّهُمْ لَيَصُدُّونَهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُم مُّهْتَدُونَ . حَتَّىٰ إِذَا جَاءَنَا قَالَ يَا لَيْتَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ بُعْدَ الْمَشْرِقَيْنِ فَبِئْسَ الْقَرِينُ . وَلَن يَنفَعَكُمُ الْيَوْمَ إِذْ ظَلَمْتُمْ أَنَّكُمْ فِي الْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ . أَفَأَنتَ تُسْمِعُ الصُّمَّ أَوْ تَهْدِي الْعُمْيَ وَمَن كَانَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ .
অর্থ: যে কেউ আল্লাহর যিকর (কুরআন এবং আল্লাহ্ ইবাদত) থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে, আমরা তার সাথি-বন্ধু হিসেবে শয়তানকে নিয়োগ করি। তখন তারাই ঐ লোকদেরকে আল্লাহর পথে চলা থেকে বিরত রাখে; অথচ তারা মনে করে তারা সঠিক পথেই চলছে। অবশেষে যখন (কিয়ামতের দিন) আমার কাছে উপস্থিত হবে, তখন সে শয়তানকে বলবে : 'হায়, (পৃথিবীতে) আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্ব থাকতো।' কতইনা নিকৃষ্ট সাথি এই শয়তান। (তখন তাদের বলা হবে:) আজ তোমাদের অনুতাপ তোমাদের কোনো কাজেই আসবেনা। যেহেতু তোমরা তো যুলুম-সীমালংঘন করে এসেছো, তাই তোমরা সকলেই আযাবের শরিকদার। (হে নবী!) তুমি কি শুনাতে পারবে বধিরকে? কিংবা পথ দেখাতে পারবে কি অন্ধকে? আর ঐ ব্যক্তিকে যে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত? (সূরা ৪৩ যুখরুফ : আয়াত ৩৬-৪০)
অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন: “তুমি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করোনি, যারা আল্লাহর গযব প্রাপ্ত লোকদের (ইহুদি ও অন্যান্যদের) বন্ধু ও অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে? আসলে এরা তাদের দলভুক্তও নয়, তোমাদের দলভুক্তও নয়। তারা জেনে শুনেই মিথ্যা শপথ করে ... ... ...।" ו
অতপর এ লোকদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন :
اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَأَنسَاهُمْ ذِكْرَ اللَّهِ أُولَئِكَ حِزْبُ الشَّيْطَانِ أَلَا إِنَّ حِزْبَ الشَّيْطَانِ هُمُ الْخَاسِرُونَ .
অর্থ: "শয়তান তাদের উপর প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তার করে নিয়েছে। ফলে সে তাদের ভুলিয়ে দিয়েছে আল্লাহর স্মরণ। এরাই শয়তানের দল। সাবধান হও, শয়তানের দল অবশ্যি পরাস্ত-ক্ষতিগ্রস্ত হবে।" (সূরা ৫৮ মুজাদালা: আয়াত ১৪-১৯)
শয়তান কাদের বিপথগামী করে? কাদের উপর আধিপত্য করে? কাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে? কাদেরকে ধোকা ও প্রতারণার জালে আবদ্ধ করে রাখে? কোন্ ধরনের লোকেরা তার সাথি-বন্ধু? শয়তানই বা কাদের বন্ধু, কাদের অভিভাবক? কাদের পরিচালক? উপরোল্লেখিত আয়াত সমূহের আলোকে এসব প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জবাব হলো ঐসব লোকদের:
০১. যারা মিথ্যাবাদী, মিথ্যা কথা বলে এবং ছড়ায়।
০২. যারা পাপকর্ম করে বেড়ায়, যারা পাপাসক্ত।
০৩. যারা গোপন কথা শুনে, রঙ ছড়িয়ে গোপন কথা প্রচার করে।
০৪. যারা কুফুরি এবং আল্লাহদ্রোহীতায় লিপ্ত।
০৫. যারা আল্লাহর আয়াত ও হুকুম বিধান জানতে পেরেও বর্জন করে।
০৬. যারা দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়ে এবং আখিরাতের চাইতে দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দেয়।
০৭. যারা প্রবৃত্তি তথা কামনা বাসনার অনুসরণ করে, আত্মার দাসত্ব করে।
০৮. যারা শয়তানকে সাথি, বন্ধু ও অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে এবং শয়তানের তাবেদারি করে।
০৯. যারা শিরক-বিদআতে লিপ্ত হয়।
১০. যারা আখিরাতের প্রতি উদাসীন, যারা আখিরাতে বিশ্বাস করেনা।
১১. যারা শয়তানের কুমন্ত্রণায় তার প্রতি অনুরক্ত, পরিতুষ্ট হয় এবং তার প্ররোচনায় কুকর্মে লিপ্ত হয়।
১২. যাদের অন্তরে ব্যাধি (মোনাফেকি, বিদ্বেষ, কুধারণা, অহংকার) আছে।
১৩. যারা পাষন্ড, যাদের অন্তর মানবতাবোধ ও দয়ামায়া শূন্য।
১৪. যারা কুরআন থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে, কুরআন অনুধাবন ও অনুসরণ করেনা।
১৫. যারা আল্লাহর ইবাদতের ব্যাপারে গাফিল।
১৬. যারা সব কাজে আল্লাহকে স্মরণ করেনা।
১৭. যারা ভ্রান্ত পথে চলেও ঠিক পথে আছে বলে মনে করে, যারা সত্য মিথ্যা ও ন্যায় অন্যায় যাচাই করেনা।
১৮. যারা সত্যকে শুনার ও বুঝার ক্ষেত্রে বধিরের মতো ভূমিকা পালন করে।
১৯. সত্যকে দেখা ও মূল্যায়ণ করার ক্ষেত্রে অন্ধের মতো ভূমিকা গ্রহণ করে।
২০. যারা ইহুদি, (খৃষ্টান) ও আল্লাহর গযবে নিমজ্জিত লোকদের বন্ধু, পৃষ্ঠপোষক ও অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে।
২১. যারা মিথ্যা শপথ করে, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়।
২২. যারা শয়তানের দলভুক্ত হয়েছে।
-এসব লোকদের ঘাড়েই সওয়ার হয় শয়তান। সে তাদের গলায় রশি আর নাকে লাগাম লাগিয়ে ঘুরাতে থাকে আল্লাহদ্রোহীতা ও পাপ পংকিলতার অলিতে গলিতে। তাদের চোখে সে পার্থিব জীবনকে করে তোলে কেবলই ভোগের বস্তু। তাদের প্রতিটি অপকর্মকেই তাদের সামনে তুলে ধরে চমৎকার ও শোভনীয় করে। অবশেষে তাদেরকে সে উপযুক্ত করে গড়ে তুলে জাহান্নামে তার শরিকদার হিসাবে।

📘 মানুষের চিরশত্রু শয়তান > 📄 শয়তান কাদের উপর কর্তৃত্ব চালাতে পারেনা?

📄 শয়তান কাদের উপর কর্তৃত্ব চালাতে পারেনা?


শয়তান সব মানুষের উপর কর্তৃত্ব ও আধিপত্য চালাতে পারেনা। যারা খাঁটি ঈমানদার, আল্লাহর নিষ্ঠাবান দাস, যারা আল্লাহর পথে অটল অবিচল থাকে, যারা নির্ভীক -আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেনা এবং যারা সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা করে, শয়তান তাদের উপর কর্তৃত্ব চালাতে পারেনা। দেখুন মহান আল্লাহর বাণী :
إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ وَكَفَى بِرَبِّكَ وَكِيلًا
অর্থ : আমার যারা নিষ্ঠাবان দাস নিশ্চয়ই তাদের উপর তোর কোনো প্রকার কর্তৃত্ব- আধিপত্য চলবেনা। (হে মুহাম্মদ!) উকিল হিসেবে আল্লাহই তোমার জন্যে যথেষ্ট। (সূরা ১৭ ইসরা: আয়াত ৬৫)
إِنَّهُ لَيْسَ لَهُ سُلْطَانٌ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ .
অর্থ: জেনে রাখো, যারা ঈমান আনে, ঈমানের পথে চলে এবং তাদের মহান প্রভু আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে, তাদের উপর শয়তানের কোনো প্রভাব, আধিপত্য ও কর্তৃত্বই চলেনা। (সূরা ১৬ আন নহল : আয়াত ৯৯)
إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِّنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُم مُّبْصِرُونَ
অর্থ : যারা সতর্ক সচেতন লোক, শয়তানের পক্ষ থেকে যখনই তারা কোনো কুচিন্তা, কুমন্ত্রনা ও প্ররোচনা অনুভব করে, তখনই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং সাথে সাথে তাদের চোখ খুলে যায়, তারা সজাগ সতর্ক হয়ে যায় এবং সত্য পথ ও সঠিক কর্মপন্থা স্পষ্টভাবে দেখতে পায়। (সূরা ৭ আ'রাফ: ২০১)
قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ وَ إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ . قَالَ هَذَا صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيمٌ . إِنْ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِينَ ، وَإِنْ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ .
অর্থ: ইসলিস বললো: 'হে প্রভু! আপনি যেহেতু আমাকে বিপথগামী করলেন, তাই পৃথিবীতে আমি মানুষের কাছে তাদের পাপ কর্মসমূহকে শোভনীয় ও চমৎকার করে তুলবো এবং আমি তাদের সবাইকে বিপথগামী করে ছাড়বো- কেবল তাদের মধ্যকার ঐলোকদের ছাড়া, যারা আপনার মনোনীত নিষ্ঠাবান সুপথ প্রাপ্ত।' আল্লাহ বললেন: হ্যা, এটাই আমার কাছে পৌছার সরল সঠিক পথ-নিষ্ঠার সাথে সরল সঠিক পথে চলা আমার দাসদের উপর তোর কোনো প্রভাব-কর্তৃত্ব-আধিপত্য চলবেনা; তবে বিপথগামীদের যারা তোর অনুসরণ করবে, তাদের কথা ভিন্ন। জাহান্নামই তাদের সবার প্রতিশ্রুত আবাস। (সূরা ১৫ আল হিজর : আয়াত ৩৯-৪৩)
إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا ، إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ • الَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ .
অর্থ : শয়তান তোমাদের চিরশত্রু; সুতরাং তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ। সে তো তার দলকে (অনুসারীদেরকে) জাহান্নামী হবার দিকেই দাওয়াত দেয় (প্রলুদ্ধ করে)। যারা তার দাওয়াতে (প্ররোচনায় পড়ে) কুফুরির পথ অবলম্বন করে, তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। আর যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ করে (ঈমানের পথে চলে এবং পূণ্য কর্ম করে) তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। (সূরা ৩৫ ফাতির: আয়াত ৬-৭)
وَإِمَّا يَتَزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ .
অর্থ: তুমি যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার প্ররোচনা অনুভব করো, তবে সাথে সাথে তার থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাও। তিনি সর্বশ্রোতা এবং সর্বজ্ঞানী। (সূরা ৪১ হামিম আস্সাজদা: আয়াত ৩৬)
শয়তান কোন্ ধরনের লোকদের উপর কর্তৃত্ব এবং আধিপত্য চালাতে পারেনা, উল্লেখিত আয়াতগুলো থেকে তার একটা সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। সংক্ষেপে সাজিয়ে বললে বলা যায় যে, শয়তান যাদের উপর তার কর্তৃত্ব, আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার করতে পারেনা, তারা হলো :
১. যারা আল্লাহর নিষ্ঠাবান দাস। যারা আল্লাহর আনুগত্য ও দাসত্বে এবং তাঁর ইবাদতে নিষ্ঠাবান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00