📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 আমাদের করণীয়

📄 আমাদের করণীয়


খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য এবং পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর ইবাদাতের জন্য আমাদের কী করতে হবে? এ প্রসঙ্গেও আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্বীনে হক কায়েমের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাতে হবে- আল্লাহর দ্বীন কায়েমের সংগ্রামে লিপ্ত হতে হবে। জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহতে অংশগ্রহণ করতে হবে। আল্লাহতায়ালা সূরা আত্-তাওবার ৩৮ ও ৩৯ আয়াতে বলেছেন:
ياَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَالَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمْ انْفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ انَّا قَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ ، أَرَضِيْتُمْ بِالْحَيُوةِ الدُّنْيَا مِنَ الآخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيُوةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ الأَقَلِيلُ - الأ تَنْفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلاَ تَضُرُّوهُ شَيْئًا ، وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“হে ঈমানদার লোকেরা! তোমাদের কী হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্য তোমাদের বলা হয় তখন মাটি জড়িয়ে ধর। তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প। যদি তোমরা বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, তোমরা তার কোন ক্ষতিই করতে পারবেনা-আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।”

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 ঈমানদার মুসলমানদের ঘরে বসে থাকার উপায় নেই

📄 ঈমানদার মুসলমানদের ঘরে বসে থাকার উপায় নেই


উপরের আয়াতগুলো থেকে সুস্পষ্ট হয়ে উঠে যে, যারা মুসলিম- যারা ঈমানদার তাদের পক্ষে ঘরে বসে থাকার কোন উপায় নেই। তারা আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার সংগ্রামে অংশ গ্রহণ না করে নিরুদ্বিগ্ন মনে হাত গুটিয়ে ঘরে বসে থাকতে পারেনা।
দ্বীনের ব্যাপারে আলস্য ও নিষ্ক্রিয়তা চরমতম গুনাহর কারণ এবং এর ফলেই অন্য জাতি মুসলমানদের ঘাড়ে চেপে বসতে পারে। তাই আল কোরান ও হাদীসের শিক্ষা থেকে আমাদেরকে শিক্ষা গ্রহণ করে দ্বীন কায়েমের সংগ্রামে প্রস্তুত হওয়া ছাড়া কোন পথ খোলা নেই।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত পর্যায়

📄 আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত পর্যায়


সূরা আত্-তাওবার ১১১নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেছেন:
وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يَقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء -
“তারা আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করে, নিধন করে ও নিহত হয়” অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় বাতিলের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করে তারা মারবে ও মরবে।
আল্লাহর দ্বীন কায়েমের উদ্দেশ্যে অর্থাৎ আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আল্লাহতায়ালার শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের খতম করা এবং এই সংগ্রামের মাধ্যমে শাহাদাত বরণ করা মুমিনের প্রাণের আকাংখা। এতেই তার জীবন সফল এবং সার্থক হয়। আল্লাহ বলেনঃ
“আল্লাহর পথে যারা নিহত হয় তাদের মৃত বলোনা। এই সব লোক প্রকৃতপক্ষে জীবিত।” (আল বাকারা-১৫৪)
এভাবেই আল্লাহর মহান অনুগ্রহে মু'মিনদের প্রচেষ্টায় এ দুনিয়ায় আল্লাহর শাসন কায়েম হয় এবং মানুষের পক্ষে খিলাফতের দায়িত্ব পালনের অর্থ হয় সার্থক। মুমিনরা এ পৃথিবীতে হয় গাজী হয়ে জীবন যাপন করে, আর না হয় শহীদ হয়ে অমরত্ব লাভ করে।
দুনিয়াতে যখন আল্লাহতায়ালার সঠিক প্রতিনিধিত্ব কায়েম হয়, যখন আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সর্বস্তরে নেমে আসে এক মহা শান্তির অপরূপ ছায়া। মানুষ পায় অন্ন-বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানের সুন্দর ও সুষ্ঠু সমাধান এবং ইনসাফপূর্ণ বিচার। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এক কল্যাণকর সমাজ ব্যবস্থা। আর এহেন কল্যাণকর সমাজ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির মাঝেই আল্লাহতায়ালা কর্তৃক মানব সৃষ্টির মহান উদ্দেশ্য সুশোভিত ও প্রস্ফুটিত হয়ে উঠে।
আসুন আল্লাহতায়ালা যে উদ্দেশ্যে আমাদেরকে সৃষ্টি করে এ দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন সেই খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করে তুলি এবং মহান আল্লাহপাকের পরিপূর্ণ ইবাদাত যথার্থভাবে পালন করার তৌফিক কামনা করি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00