📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 মুজাহিদদের মর্যাদা এবং সফলতা

📄 মুজাহিদদের মর্যাদা এবং সফলতা


আল্লাহর পথে যারা লড়াই করে তাদের লড়াইয়ের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য আল্লাহতায়ালা এভাবে বর্ণনা করেছেন:
أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ وَ جَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ طَ لَا يَسْتَوْنَ عِنْدَ اللَّهِ وَاللَّهُ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّلِمِينَ - اَلَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ اَعْظَمُ دَرَجَةً عِنْدَ اللهِ ، وَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ -
“তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো এবং মসজিদুল হারামের সেবা ও তত্ত্বাবধান করাকে আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপনকারী এবং আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের কাজের সমমর্যাদা সম্পন্ন মনে করছো? আল্লাহর কাছে এ দু'গোষ্ঠি সমান নয়। আল্লাহ যালিমদের সুপথে চালিত করেন না। যারা ঈমান এনেছে সত্যের জন্য বাস্তুভিটা ত্যাগ করেছে এবং জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে লড়াই করেছে তাদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠতর। তারাই প্রকৃতপক্ষে সফলকাম।” (আত তাওবা- ১৯,২০)
বস্তুতঃ একেই বলা হয়েছে সত্যের লড়াই। এ লড়াইয়ে এক রাত জাগা হাজার রাত জেগে ইবাদাত করার চেয়েও উত্তম। এতে ইস্পাত কঠিন দৃঢ় শপথ নিয়ে শত্রুর সামনে রুখে দাঁড়ানো ঘরে বসে ৬০ বছর নামাজ পড়ার চেয়েও বড় পুণ্যের কাজ। এর জন্য যে চোখ নিদ্রাহীনভাবে প্রহরায় রত তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম। এই লড়াইয়ের পথে ধূলিমলিন হয়েছে যে পদদ্বয় তাকে জাহান্নামের আগুনের দিকে ঠেলে দেয়া হবেনা। কিন্তু যারা লড়াইয়ের ডাক শুনেও ঘরে বসে থাকে এবং লড়াইয়ে অংশ নিতে গড়ি-মসি করে তাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহতায়ালা বলেছেন:
قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيْرَتُكُمْ وَأَمْوَالُ نِ اقْتَرَفْتُمُوْهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَ مَسكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَسِقِينَ -
“হে নবী, আপনি ওদের বলে দিন তোমাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা, স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজন তোমাদের সঞ্চিত সম্পদ ও বাণিজ্য যাতে অচলাবস্থা দেখা দেবার আশংকা কর এবং তোমাদের প্রাণপ্রিয় ঘর বাড়ী এসব যদি আল্লাহ, রাসূল (সা) ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে তোমাদের নিকট অধিক প্রিয় হয়ে থাকে তাহলে অপেক্ষা কর আল্লাহ স্বীয় কার্য সমাধা করবেন। জেনে রেখ, আল্লাহ অবাধ্য লোকদেরকে কখনো সুপথে চালিত করেন না।” (আত্-তাওবা- ২৪)
উপরের আলোচনা থেকে পরিষ্কারভাবে যেটা ভেসে উঠে তা হলো আল্লাহতায়ালা চাননা যে পৃথিবীতে প্রতারণা, জুলুম, বে-ইনসাফি, হত্যাকান্ড, লুটতরাজ চলুক। সবলেরা দুর্বলদের গ্রাস করুক। তাদের শাস্তি ও স্বস্তিতে বিঘ্ন ঘটুক, তাদের নৈতিক আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিক। আল্লাহ এটা কখনোই বরদাস্ত করবেন না, যে দুনিয়ার মানুষ আল্লাহর দাসত্ব ছেড়ে সৃষ্ট জীবের দাসত্ব করে তাদের মানবীয় মর্যাদাকে এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্বকে অপমানিত ও কলংকিত করুক।
তাই এই মানবজাতি যখন দুনিয়ার সর্ব প্রকার লোভ-লালসা, ব্যক্তিগত স্বার্থ, ধন-দৌলতের আশা-আকাংখা এবং দুনিয়ার জীবনে উচ্চাভিলাষকে পদাঘাত করে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পৃথিবী থেকে জুলুম, অবিচার, অন্যায় ও বাতিলকে উৎখাত করে সুবিচার, ন্যায়নীতি ও দ্বীনে হককে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং যারা নিজেদের জান-মাল, ব্যবসা-বাণিজ্য, আত্মীয়-স্বজন, ভাই-বোন, স্ত্রী-পুত্র পরিজনের মায়া-মমতা, আরাম-আয়েশ ও বিলাসব্যসনকে বিসর্জন দিয়ে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থাৎ খিলাফত প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রাণান্তকরভাবে কাজ করে তার চেয়ে আল্লাহর ভালবাসা ও সন্তুষ্টি লাভের অধিকারী আর কে হতে পারে? বস্তুতঃ আল্লাহতায়ালা এই সব বান্দাদের উপর রাজী থাকেন এবং এই বান্দাদেরকেই কবুল করেন ও তাদেরকেই অফুরন্ত কল্যাণ দান করেন। এরাই কামিয়াব হয়। শুধু আখিরাতের সাফল্য নয় বরং পার্থিব সাফল্যও প্রকৃতপক্ষে তাদেরই প্রাপ্য, যারা নিঃস্বার্থভাবে কেবল মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ও আল্লাহর বান্দাদের কল্যাণের জন্য জিহাদ করে।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 শেষ কথা

📄 শেষ কথা


উপরোল্লিখিত আলোচনায় আমাদের সামনে যা এসেছে তা হলো এই যে মানুষকে আল্লাহতায়ালা এ দুনিয়ায় খলীফা করে পাঠিয়েছেন। অর্থাৎ মানুষ দুনিয়াতে আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করবে। এ দুনিয়ায় মানুষ একমাত্র আল্লাহরই দাসত্ব ও গোলামী করবে। অর্থাৎ আল্লাহর যা হুকুম তাই পালন করবে এবং আল্লাহর যা নিষেধ তা সে বর্জন করবে। মানুষ যখন এ দুনিয়ায় আল্লাহর খিলাফত প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করবে এবং পরিপূর্ণভাবে আল্লাহরই ইবাদাত করতে সক্ষম হবে তখনই মানুষ যে 'সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি'- এই উদ্দেশ্য সফল হবে। হবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত এবং লাভ করবে পূর্ণতা।

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 আমাদের করণীয়

📄 আমাদের করণীয়


খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য এবং পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর ইবাদাতের জন্য আমাদের কী করতে হবে? এ প্রসঙ্গেও আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্বীনে হক কায়েমের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাতে হবে- আল্লাহর দ্বীন কায়েমের সংগ্রামে লিপ্ত হতে হবে। জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহতে অংশগ্রহণ করতে হবে। আল্লাহতায়ালা সূরা আত্-তাওবার ৩৮ ও ৩৯ আয়াতে বলেছেন:
ياَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَالَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمْ انْفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ انَّا قَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ ، أَرَضِيْتُمْ بِالْحَيُوةِ الدُّنْيَا مِنَ الآخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيُوةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ الأَقَلِيلُ - الأ تَنْفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلاَ تَضُرُّوهُ شَيْئًا ، وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“হে ঈমানদার লোকেরা! তোমাদের কী হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্য তোমাদের বলা হয় তখন মাটি জড়িয়ে ধর। তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প। যদি তোমরা বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, তোমরা তার কোন ক্ষতিই করতে পারবেনা-আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে শক্তিমান।”

📘 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য > 📄 ঈমানদার মুসলমানদের ঘরে বসে থাকার উপায় নেই

📄 ঈমানদার মুসলমানদের ঘরে বসে থাকার উপায় নেই


উপরের আয়াতগুলো থেকে সুস্পষ্ট হয়ে উঠে যে, যারা মুসলিম- যারা ঈমানদার তাদের পক্ষে ঘরে বসে থাকার কোন উপায় নেই। তারা আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার সংগ্রামে অংশ গ্রহণ না করে নিরুদ্বিগ্ন মনে হাত গুটিয়ে ঘরে বসে থাকতে পারেনা।
দ্বীনের ব্যাপারে আলস্য ও নিষ্ক্রিয়তা চরমতম গুনাহর কারণ এবং এর ফলেই অন্য জাতি মুসলমানদের ঘাড়ে চেপে বসতে পারে। তাই আল কোরান ও হাদীসের শিক্ষা থেকে আমাদেরকে শিক্ষা গ্রহণ করে দ্বীন কায়েমের সংগ্রামে প্রস্তুত হওয়া ছাড়া কোন পথ খোলা নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00